পুলিন রায় এর কবিতাগুচ্ছ। poems by pulin roy কুয়াশা

   


পুলিন রায়ের কবিতাগুচ্ছ



সুখলগন


পুবালী বাতাস শিস দিয়ে বলে যায়
ধুপইন বিলে জমেছে মাছের নাচ
বিপুল বিস্তারে
সপ্তর্ষি ফুটে আছে লাউয়ের ডগায়
ভুবনজয়ের অভিপ্সায়
হাটের আনন্দে ঝরে পড়ে
মানুষের কলরব
এসেছে বুঝি সুখলগন...



ইচ্ছেলিপি


ইচ্ছেলিপি ছাপতে দিয়েছি
প্রেসের কারুকাজে মগ্ন হলে
ফর্মা যায় বেড়ে।
গোকূলে পদ্মপাতায়
জমানো ইচ্ছেপত্রের কথা
ছাপা হোক ভুল শুদ্ধের যাঁতাকলে
বিজনপ্রান্তরে সুরের মূর্চ্ছনায়
উতলা হয় যে মন
বাড়ুক ইচ্ছেলিপির পরিধি
এক দুই করে করে হোক অসীম ফর্মা...


দূরের সমুদ্রে

কতবার ডাক দিয়েছে দূরের সমুদ্রকল্লোল
হাত ইশারায় বুঝিয়েছে দক্ষিণের বাতাস
মরুপ্রান্তরের ধুসরতা নয়
বালুকার পাণ্ডুরতা নয়
উত্তাল ঢেউ বুলাবে হাত হৃদয়ে
দূরের সমুদ্র তাই ডাকে প্রতিনিয়ত।



দইয়ল

কুঞ্জবনে ফুল ফুটলে
কোকিল ধরে গান
বেহাগ বীণায় বেজে
ওঠে আনন্দলহরী
তোমার বসন্তদিন
আমার বসন্তদিনে
মিলিবে কি আর?
আসবে কি ফিরে
গানগাওয়া সেই দইয়ল...


বসন্তদিন


বসন্তদিনে শুভ কামনা
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আবহে
রচিত হয় সুখদিনের গান

মুক্তো ঝরানো দিনের শেষে
হাতে দিয়ে রজনীগন্ধা
মাপি জীবনের লেন্থ
শুভেচ্ছা প্রিয় বসন্তদিন।



জীবনদৌড়

থেমে থাকবে না এ জীবনদৌড়
প্রাপ্তির হিসেবে মিলের অমিল,
দিগন্তের কাছে চেয়েও পাবে না কিছুই
যদি না মনের সৌন্দর্য না থাকে।

সাহসসমুদ্রে বেগের কবলে যে
ডুবে থাকে যারা তারা-ই তো হয় বন্ধুজন
মিছিলের হাত উপরে মুষ্টিবদ্ধ হলে
মনে জাগে আশা
রক্তপলাশ ফুটেছে ফাগুনে
নৈনিতালে চোখ বুলিয়ে গন্তব্যে
ছুটে যায় পথ আর
নিবিড় আলোর সাথে আমি করি পত্রমিতালি
ও আলো, সম্পাতে উজ্জ্বল করো
মাতৃভাষাগান বাজে উচ্চস্বরে
জীবনের দৌড়ে গতি আসে এবং
আগুন আগুন খেলায় হাতের তালু
হয় অগ্নিগর্ভ।



আশীর্বাদ


বৃষ্টি ঝরে গাছের ডালে
ইদম রিদম তালে তালে
বৃষ্টি ঝরে টিনের চালে
ভর শ্রাবণের বর্ষাকালে

বৃষ্টি ঝরে বিরতিহীন
ঘনকালো মেঘেরই দিন
ময়ূর নাচে পেখমরঙিন
বাদ্য বাজে তাকধিনাধিন

বৃষ্টিদিনে ভিজছে পাখি
কিচিরমিচির ডাকি ডাকি
কাদায়পানি মাখামাখি
মাছের নাচে হাঁকাহাঁকি।

শ্রাবণের আজ ভরা ক্ষণে
সপ্তর্ষির শুভ জন্মদিন
সুখেব হোক আনন্দের হোক
তার আগামীর সবদিন।



জারুলফুল এবং...

সোনাঝরা ভোরের বেলা।
বাতাসের সাথে কথা বলে জারুলফুল।
নিরলে ভ্রমণে বেরিয়ে
আবার ঘরে ফিরে যায়, বিবমিষায়।

কোথাও কেউ নেই।
সবাই ঘরে বন্দি। সবার মুখে সাটা পোস্টার।
লেখা কেবল জীবনযন্ত্রণার গান।

বনবীথিকার অপরূপ সুন্দরী জারুলফুল উদগ্রীব হয়ে সামনে পা বাড়ায়।
অগোচরে দেখে নেয় বেদনা ঝুলে আছে দূর দিগন্তে,
যেখানে ঝুলতো সুখের ঝালর,
বনদেবী যেখানে এসে রোজ চুমু খেত পরম নিশ্চিন্তে।

জারুলফুলের স্মৃতি বিভ্রম? নাহ্।

ঝলমল জ্যোতিবনে আলো ছড়ানো জোনাকপোকারও এখন বিচ্ছেদকাল।
জারুলফুলের দুঃখ আরো বাড়ে।
মনের কষ্ট চেপে রেখে পুকুরঘাট ঘুরতে গিয়ে
শ্রাবণবর্ষণসঙ্গীতে মুগ্ধ জারুলফুল মেঘের আড়ালে সূর্যকে প্রণাম করে।
বর মাগে প্রখর তেজের।
ঘুমঘোরে সূর্যদেব আনমনে মাথা নাড়ান।
জারুলফুল জানে এর মর্মার্থ। খুশিতে নাচে।
দেখে হেসে লুটোপুটি খায় সন্ন্যাসীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষরাজি।


আমার পৃথিবী


বৃক্ষচোখে চোখ রাখি
সবুজ ধার করে মাখি অঞ্জন
সকালের মায়াবী রোদে
ঘুর্ণন শুরু হলে বদলে যায়
আমার পৃথিবী
ফেলে যাওয়া দিন আর ফিরে না
গন্তব্য ভুলে গেলে
উতলা হয় ফেরারি মন
ঘুমঘোরে নয়--
অহল্যা সময় জানে
বেভুল পথের আসল মাজেজা...
আমার পৃথিবীর আঁকাবাকা কক্ষপথ
চিনি তো কেবল আমিই।



বিবেকের দায়


অহোরাত্র স্বপন দেখি
ঝুলে আছি শূন্যতায়
বিজন প্রান্তরে দোলে রঙিন ঝালর

অদৃশ্য ছায়ায় বাধা পড়ে আছি
দুকূলপ্লাবি জলের সংকীর্তনে
বুকের ভেতর নড়ে বসে থিতু দুঃখ
অজন্তা-ইলোরার শিল্পবোধ
দৃশ্যের ভেতরে আলো ছড়ায়
বিবেকের দায় থেকে বাঁচি...



Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন