লর্ড ক্লাইভের চিঠি
কী ছিলো লিখা শেষ চিঠিতে
শেষ কথাতেই বা কী ছিলো খবর
চিঠি পড়ে কী বুঝেছিলো শেষ নবাব
রঙিন চিঠিতে কী বা বয়ে এনেছিলো লর্ড ক্লাইভ
ইতিহাস জেগে থাকে- জোনাকির আলোতেও
শুধু মানুষ জাগে না, ভাঙে না অলস ভাতঘুম
কত হয় লেনদেন রঙচোরা নীলকুঠিতে
কত কিছু বলে যায় বেনিয়া চিঠি
শত শত বছর পরেও চিঠি আসে
তেরো নদী সাত সমুদ্র পথ বেয়ে
আমাদের নদী পাড়ে অহরহ পড়ে থাকে
আমাদেরই স্বাধীনতা হরণ করা লর্ড ক্লাইভের ভূত...
বিধ্বস্ত নায়কের মুখ
এখন শ্রাবণআকাশে একটু মেঘ জমলেই
ছাতা হাতে তুলে নেই- ভিজে যাবার ভয়ে
সন্তানের হাত চেপে ধরি, করি বারণ
যেন বাইরে সে না ভেজে বৃষ্টির জলে
ক্ষ্যাপা ষাড়ের লড়াই এখন ভয় পাই
ভয় পাই নদী, বন আর পাহাড়ের পথ
পূরোনো হাড়ের ব্যথা বাধা দেয় যেতে
দৃশ্যবিদ্ধ পবিত্র বেশ্যারা
স্বরবৃত্তের ছন্দ মেনে সমুদ্রের ঢেউগুলো
একের পর এক যখন আছড়ে পড়ে
আর আমরা মানুষেরা মুগ্ধ হয়ে
চিৎকার করে বলে ফেলি- বাহ্, কী চমৎকার!
জলের সফেদ ফেনাগুলো আরও সুন্দর
যেন সমুদ্রের মোহনীয় অলংকার কোনো
মাতাল ঢেউ হৃদয়ে প্রেম জাগায়
শীতল সমুদ্রজল বুকে আনে শীতল পরশ।
অথচ গভীরে-খুব গভীরে গেলে পরে
ঢেউয়ের গহীন রহস্য হবে উদ্ধার
হাসির আড়ালে যেমন জীবন লুকিয়ে রাখে
দৃশ্যবিদ্ধ পবিত্র বেশ্যারা...
স্নিগ্ধ বিকেলের চঞ্চল ফুটবল মাঠে
কৃষ্ণচূড়ার যুবতী রং আর টানে না
পাহাড়ের বুকে ফুটে থাকা বুনোফুলে
আগের মতো নেই দূর্বার আকর্ষণ
ভরা জ্যোৎস্নায় দেখি বিধ্বস্ত নায়কের মুখ
শহরের মোড়ে মোড়ে তপ্ত দুপুরে
হঠাৎ বেড়ে গেলে মিছিলের বৃষ্টি
স্লোগানে স্লোগানে ফিরে আসে আঠারো বছর বয়স
রক্তে আগুন জ্বলে-মুষ্ঠিবদ্ধ হয়ে ওঠে হৃদয়ের হাত...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks