গুচ্ছকবিতা।। তমিজ উদ্দীন লোদী
বেরিয়ে আসে জন্মান্ধ আলো
তুমুল বৃষ্টির পর যে বীজেরা অঙ্কুরিত হলো
তার ভেতরে যে প্রাণপঙ্ক , ঘুমানো প্রাণের বীজ
কম্পনের সূত্রপাত লেখে । বেড়ে ওঠে সরসিজ
কিংবা কোন মহীরুহ । কঠিন মাটির কিংবা জলো ।
বেরিয়ে আসে জন্মান্ধ আলো , বীজগণিতের ফুল
কে ভাঙে নিমেষে এই জটিল-সরল একাকীত্ব !
এক অনামি অনুরণন ? নাকি কোনো সত্য নিত্য ?
অন্তর্নিহিত বুনন কিংবা কোনো অদৃশ্য আঙুল ?
প্রতিটি উন্মেষ জানে লুকানো অমৃতময় ভুল
যা বৃত্তের মতো ঘোরে । নীরবতা-গর্ভে খেলা করে ।
যেন অনন্ত শিশুর মতো হাসে । পরম আদরে ।
ভাঙ্গনের ছন্দ থেকে সৃষ্টি নাচে , একুল অকুল ।
জ্বলে ওঠে বীজে বীজে প্রতিরূপ গড়ার উল্লাস
সৃষ্টি মানে নিজেকে চেনার এক অনন্ত প্রয়াস ।
সেদিন রোদ থাকবে , চাঁদ থাকবে
তোমার সাথে যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল
সেই দিনের স্মৃতিতে কোনো রোদ নেই
শুধু বৃষ্টি—মুখে লেগেছিল শীতল বৃষ্টি,
তোমার অশ্রুর সাথে মিশে গিয়েছিল সেই বৃষ্টি ।
শুধু বৃষ্টি মনে পড়ে, শীতল বৃষ্টি,
আর তোমার মুখ—কোমল ও উষ্ণ।
রোদ নেই, সূর্য নেই, নেই বিজলির
কোনো খাঁজকাটা যন্ত্রণা—শুধু আমার নিষ্প্রভ জিভ
আর মগজের ভেতর রক্তিম অভিশাপ।
জানতাম, এই শীতল বৃষ্টিই আমাদের চিরন্তন।
সেই রাতের স্মৃতিতে চাঁদ নেই,
শুধু বৃষ্টি মনে পড়ে, শীতল বৃষ্টি—
আর এই প্রার্থনা যে, বৃষ্টি যেমন ফিরে যায় আকাশে
তেমনি তুমিও একদিন ফিরে আসবে সূর্যালোকে ।
সেদিন রোদ থাকবে , সূর্য থাকবে
রাতে চাঁদ থাকবে পূর্ণিমার ।
ঝরা পাতাগুলো
ঝরা পাতাগুলো স্তূপ হয়ে আছে
হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে খয়েরি আভায় ।
একজন বৃদ্ধ মানুষ পাতার ওপর পা রাখলো
তার মৃদু মচমচ শব্দে উচ্চকিত প্রতিবেশ
কয়েকটি শালিক উড়ল পাতাদের ঘূর্ণির উড়ন্ত পাকে ।
পাতাদের ফাঁকে ফাঁকে কী এক নীরব দুঃখ লেগে থাকে
বিস্রস্ত মানুষের মতো
রাত্তিরে যখন সব ল্যাম্পপোস্ট নিভে যায়
পাত্যারা উঠে দাঁড়ায় একা
তখন তাদের শিরায় শিরায় বয়ে যায়
একটা পুরনো গাছের স্বপ্ন -
যেখানে পাতার কোনো নামই ছিল না
শুধু ছিল সবুজের সমারোহ ।
একজন বৃদ্ধ মানুষ পাতার ওপর পা রাখলো
তার মৃদু মচমচ শব্দে উচ্চকিত প্রতিবেশ
কয়েকটি শালিক উড়ল পাতাদের ঘূর্ণির উড়ন্ত পাকে ।
পাতাদের ফাঁকে ফাঁকে কী এক নীরব দুঃখ লেগে থাকে
বিস্রস্ত মানুষের মতো
রাত্তিরে যখন সব ল্যাম্পপোস্ট নিভে যায়
পাত্যারা উঠে দাঁড়ায় একা
তখন তাদের শিরায় শিরায় বয়ে যায়
একটা পুরনো গাছের স্বপ্ন -
যেখানে পাতার কোনো নামই ছিল না
শুধু ছিল সবুজের সমারোহ ।
স্থাপত্যের বিন্যাসের বাইরে
আফরোজ স্বপ্ন দেখে নুড়িপাথরের
স্থাপত্যের বিন্যাসের বাইরে
দূর থেকে, কালো পালিশ করা পাথর
একটি বিমূর্ত ভাস্কর্যের রূপায়নে
আর জীর্ণ শব্দগুলো, একরকম ডুবে যাওয়া
আর ভিজে যাওয়া আর নেভানো আর খুব সদয়
তার আঙ্গুলগুলো ভর্তি জারুল , বকুল ও
ভুল নার্সিসাস ফুলে।
শিউলি পাতার, ছেঁড়া ডালপালা
চিরহরিৎ পর্ণমোচী সমেত শুয়ে আছে
আমার সিমেন্টের বাঁধানো বিছানায়,
সে এসে আলতো বসে থাকে নীরব উপভোগে
ফরসিথিয়া আর ম্যাগনোলিয়া আমার জন্য নিয়ে আসে
বসন্ত, যখন সে বাড়িতে প্রবেশ করে
তার নুড়িপাথর ইতোমধ্যে বিন্যস্ত হয়েছে
ভালোবাসার স্থাপত্যে ।
উন্মাদ যখন স্যাডিস্ট হয়ে ওঠে
কারাগারের দেওয়ালে এঁকেছি কয়েকটি মুখ
তাদের কোনোটিই আমার নয়।
মুক্তির বিক্রি হওয়া বাজারে
একটি হাতুড়ি কিনি প্রতিদিন।
বিষণ্ণতার ধারালো ফলায়
খোদাই করি নিষিদ্ধ শ্লোক:
"হে অন্ধ বাতাস, তুমি কি পারবে
আমার মেরুদণ্ডের সিঁড়ি বেয়ে
নেমে আসতে এই মেঝেতে?"
উন্মাদ যখন স্যাডিস্ট হয়ে ওঠে
তখন তার হাসির ভিতরে
বাসা বাঁধে হাজারটি নেকড়ে,
আর চিৎকারগুলো ধীরে ধীরে রূপ নেয়
একটি শান্ত, নীল জলের হ্রদের—
যেখানে ডুবে মরে প্রতিটি প্রতিধ্বনি।
আরো পড়ুন...
আমিনুল ইসলামের কবিতা পড়ুন এখানে
জিল্লুর রহমান শুভ্র'র কবিতা পড়ুন
রেজাউদ্দিন স্টালিন এর কবিতা পড়ুন
শামসুর রাহমানের গদ্য পড়ুন
নয়ন আহমেদ এর কবিতা পড়ুন
ভাস্কর চৌধুরীর কবিতা পড়ুন
নববর্ষের গল্পগুচ্ছ পড়ুন এখানে
নববর্ষের ছড়াগুচ্ছ পড়ুন এখানে
নববর্ষের গদ্য পড়ুন এখানে
নববর্ষের কবিতাগুচ্ছ পড়ুন এখানে
সাজ্জাদ সাইফের কবিতা পড়ুন এখানে
স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা পড়ুন এখানে
ঈদ সংখ্যা।।২৬ ছড়া পর্ব এখানে পড়ুন
ঈদ সংখ্যা।।২৬ প্রবন্ধ পর্ব পড়ুন এখানে
ঈদ সংখ্যা/২৬ গল্প পর্ব পড়ুন এখানে
ঈদ সংখ্যা/২৬ কবিতা পর্ব পড়ুন একানে
অনন্ত পৃথ্বীরাজ এর রোমান্টিক কবিতা পড়ুন
একুশের একগুচ্ছ কবিতা পড়ুন এখানে
দুলাল সরকার এর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks