গুচ্ছকবিতা
দুলাল সরকার
দুলাল সরকার
নতজানু
কাঁচি ও কোদাল হাতে মৃত্তিকার প্রতি
তুমি নতজানু, তাই তুমি এতটা সুন্দর,
বিশুদ্ধ শ্রমের প্রতি এত অনুগত
তাই তুমি এতটা পাথার ;
লাঙলের প্রতি তুমি এত শ্রদ্ধাশীল
তাই তুমি এতটা কর্ষণশীল,এতটা অগাধ ----
শ্রেণীহীন সমাজের তাই প্রতিনিধি
লাল পতাকার অধিকারী তুমি ;
তাই তুমি জীবনের ভিন্ন অনুবাদ
তোমার হাতেই লেখা জীবনের যৌথ খামার।
আমরাতো একই গাঁয়ের
শস্যের শৃঙ্খলা দেখ---- স্ব- স্ব দূরত্বে দাঁড়িয়ে
সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছে -----
মৃত্তিকায় নীরবে দাঁড়িয়ে কি গভীর আত্মমগ্ন
ধ্যানস্হ চোখের গনিতে কি প্রসন্ন অবয়ব;
অথচ ব্যাকুল ডগা নিস্পৃহ নি: শ্বাসে
জীবনকে ঋদ্ধ করে,মনুষ্য দূষণে সৃষ্ট
এ বাতাস বৃক্ষই আপন মহিমায় নিজে
শুদ্ধ করে গ্লানি মুক্ত বহু বহু জীবন নির্মানে
স্ব- স্ব নিজস্ব অবস্হানে বৃক্ষেরা সুখী হয়,
ব্যাকুল হৃদয়ে মানুষকে বলে,
"আমরাতো একই গাঁয়ের -----"
নিষিদ্ধ আকাশ আমি তোমাকে দিলাম ----
বর্ণমালা নিঃ সঙ্গ পাথার আমি তোমাকে দিলাম,
ফল্গুর চর যেখানে শ্মশান
আমি তোমাকে দিলাম ---- রাত জাগা
পাখির স্পন্দন, ব্যর্থ জামার,নিষিদ্ধ বোতাম;
আমি তোমাকে দিলাম, হুহু বুক, মনে পড়া
পাথরের চোখ---- কতদূর,কতদূর
চেয়ে থাকা আমি তোমাকে দিলাম,
কিছু মনে পড়া, আকুল বিকাল
একা একা হাঁটা,ধুলোপথ------
শালবীথি তলা, উদয়ন বাড়ি
ও সরিষা
ও সরিষা, ও সরিষা বলতো তুমি এতটা কেন
হলুদ গাঢ়, মায়াবীনি এত হলে----
এতটা কেন পাগল, পাগল উদোম গতর
হলুদ ঠোঁটের আকুলতা, উগরে দিলে বুুকে?
মাটিকে তুমি বলেছ কিছু? এতটা হলুদ
কোথায় ছিল তোমাকে দিল, এতটা মায়া
হলুদ বিরহে---- হলুদ আকুল, যমুনা তীরে
রাধা কি তুমি আমার বিরহে,হলুদ ফুলে
মৌমাছিকে বলো যেন মধুর বিরহে,
তোমার মত সেও কাঁদে হলুদ বিছানাতে।
অরুন্ধতী
তুমি কি এরকম করেই বাঁচতে বলেছিলে----
অরুন্ধতী? এ ভাবেই ডানা খুলে সদ্য
জন্মের বিস্ময়ে এরকমই সাগর তীরে
বাসা বাঁধতে বলেছিলে?
এরকমই স্বপ্ন মুগ্ধ, অবিচল বিশ্বাসে অটুট---
তুমি বলেছিলে এক নৌকো সুস্থ
জীবন স্হাপনে উদয়ের মত নিরাপোষ হই?
বলেছিলা,বহুযুগ আগে দেখা বাড়ির মত
যৌথ পারিবারিক সম্পর্কের মত
আনন্দ উঠোন, ওরকৃমই গোছানো জীবন
ও সহ মর্মিতায় ঋদ্ধ অনুভূতি, বৃক্ষ কাতর.।
একটি ঘুঘুর স্বর
তোমার আমার বাড়ির মধ্যে
একটি ঘুঘুর স্বর, ইকটু ছোটো পথ-----
ছোট্ট বিকেল আলোর প্রান্তভাগ ;
নদীর ইকটু বাঁক -----
তোমার থেকে আমার বাড়ির পথ
প্রজাপতির ডানায় দেওয়া ভর;
পথের পরিমাপ? দুটি তারার
মধ্যে নীলাকাশ, আলোর পারাপার
নিঝুম দ্বীপের সুরের অবকাশ ;
শুধু ইকটু ফাঁক ----- তুমিও নেই
আমিও নেই ---- বুকের হাহাকার,
আর কিছু নেই
দুটি পাতার একটি দীর্ঘশ্বাস।
ক্ষুধার সুযোগ
আমার ক্ষুধার সুযোগ নিয়ে তুমি
রচনা করেছ প্রাসাদ, অবলিলায়
তৈরি করেছ নিষিদ্ধ দেয়াল;
অথচ তোমার মত আমিও মানুষ
আমারও তোমার মত ক্ষুধা আছে ----
আছে প্রেম, বাঁচবার সম অধিকার ;
তুমি, আমি তবু অচেনা ----
আকাশ ও মৃত্তিকা --- কারো জন্য
কারোর হৃদয় এতটুকু হয়না দুর্বল
কারো জন্য কারো বুক কাঁপে না সামান্য
তাই কেউ শুইয়ে অট্টালিকায়
আর কেউ গৃহহীন, শুইয়ে থাকে নির্বিকার
পথের ধুলায়,তোমাদের কাঁপে না হৃদয়।
অ আ
শরীরের বিবরণ দিয়ে চিঠি লিখতে বলেছি ----
বলেছি তোমার শরীরে যে একুশের গন্ধ ওঠে
তা তোমার নিজস্ব অর্জন,
বলেছি, শরীর তোমার হলেও এর উদ্ভব আকাশ,
মৃত্তিকা ও নীহারিকা
নিরাবয়বহীন তুমি সত্তাটি
অ আ ---- একুশের প্রভাব, চর্যার
সে এক গভীর নিনাদ;
তীরন্দাজ একলব্যের
অব্যর্থ আওশাজ।
খৈয়াম কাদেরের কবিতা পড়ুন এখানে
মাহবুবার করিমের কবিতার পড়ুন এখানে
খসরু পারভেজের কবিতা পড়ুন এখানে
রাহমান ওয়াহিদের গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
সিদ্দিক প্রামাণিক এর কবিতা পড়ুন এখানে
আযাদ কালামের কবিতা পড়ুন এখানে
বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন
মাসুদ মুস্তাফিজের কবিতা পড়ুন এখানে
অমিত চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে
সেতার
তোমার দিকে ফিরে তাকাই
তাইতো তুমি গোলাপ,
ঠোঁট থেকে যেই গড়িয়ে পড়ি
অমনি আমি দ্বিধার,
শিশির হয়ে ফোঁটা ফোঁটা
তখন তুমি পাতার;
তোমার সুরে সুর মেলালে
তাইতো তুমি সেতার ----
ভাঙা নদী জলের খোঁজে
দেখা যদি পায় তোমার
আমাকে এসে বলবে তুমি
দাওনা খুঁজে পাহাড়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks