আযাদ কালামের দশপদি কবিতা
বাতাস
মানিয়ে যায়। তার অদৃশ্যময়তা দারুণ মুগ্ধকর,
বর্ণহীনতা নয় চরিত্রহীনতা, শীতলতাও নয়
ক্রোধহীনতা। খড়কুটোর তুচ্ছতায় ভেসে যায়
মহাজগতের খেয়ালি স্রোতে
বাতাসের সর্বত্রগামিতা জলের মতো স্বচ্ছ। মিথ্যে
নাটকের শুমারিতে মত্ত হয় না কখনো। এই গ্রহের
আত্মকলহপ্রিয় একটি উন্মত্ত প্রজাতি বাতাসের গন্ধে
বার বার বিপথে চলে যায়
বাতাসের স্বপ্নবীজ অন্তহীন খেলে
নাসারন্ধ্র থাকলে
এখানে সব পচে গেছে। এখন গলে গলে পড়ছে
ঘোলাপুঁজ। নাসারন্ধ্র থাকলে অসহ্যে পুঁজ হয়ে
বেরিয়ে আসতো মগজ। মাছিদের কাছে দুর্গন্ধ
বলে কিছু নেই। মাছিদের সহোদর চেটে খায়
পচা রক্তপুঁজ
চোখের সামনে ঘটে গেছে সব। শকুন বিলুপ্ত হয়েছে
সেই কবে। এখন পচা লাশ মাতাল গন্ধে হেঁটে
যায়। পায়ুপথে ঢুকে যায় মাছি। চোখের সামনে
হেঁটে যায় রাশিরাশি পুঁজ
মাছি আর মানুষের সমার্থক কি হতে পারে
বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন
মাসুদ মুস্তাফিজের কবিতা পড়ুন এখানে
অমিত চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে
বড় ও বিখ্যাত কবির কবিতা পড়ুন এখানে
জিয়াবুল ইবন এর কবিতা পড়ুন এখানে
কাজুও ইশিরোগুরের উপন্যাস বিশ্লেষন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে
শূন্য ও আকাশের প্রতি পড়ুন এখানে
খাদ্য
তুমি যাকে খাদ্য জেনেছো, সে-ই তো খেয়ে
দিলো সবটুকু জল। বাতাসে বেঁচেছো, বাতাসই
খেয়ে গেছে সব। সমান্তরাল খাওয়াতেই মিলে
যায় সরল। আকাশের মহাগ্রাস আঁধারে গেছে।
পরিধির পরিসীমা তাও
পতঙ্গ প্রহরায় কোথায় লুকোবে? ক্ষণস্থায়ী
বোধ উল্কা হয়ে ক্ষণকাল বাঁচে। ফসিল হতে
পারে প্রেমের পেরেক। উত্থিত মাটি ভ্রমণে
ক্লান্ত হলে গোধূলি খেলে
অখাদ্য নয় কিছু, কে যেনো সবকিছু খায়
অন্ধ হবার বাসনা
অদ্ভুত আঁধার কেন আসে বার বার? মানুষের বদলে
হেঁটে যায় খণ্ড খণ্ড অন্ধকার। নক্ষত্র ক্রমেই দূরাগত
হয়। মানুষের পুরোটা মাথা মগজ কিংবা চোখ হতে
পারতো। চোখজুড়ে ঝুলে থাকে ক্লেদ। আহা চোখ,
হায় চোখ
প্রিয় আঁধার, সর্বভেদী তীর্যক আলোর কাছে হেরে
যাবে কি কোনোদিন! তাপ খোয়া গেলে আকাশের
আলোকবিন্দু চোখ ধাঁধাবে মাটি, বিচ্ছুরিত জ্বলবে
বস্তুকণা
অন্ধ হবার বাসনা আলো জ্বেলে দেবে
তুমি যাকে খাদ্য জেনেছো, সে-ই তো খেয়ে
দিলো সবটুকু জল। বাতাসে বেঁচেছো, বাতাসই
খেয়ে গেছে সব। সমান্তরাল খাওয়াতেই মিলে
যায় সরল। আকাশের মহাগ্রাস আঁধারে গেছে।
পরিধির পরিসীমা তাও
পতঙ্গ প্রহরায় কোথায় লুকোবে? ক্ষণস্থায়ী
বোধ উল্কা হয়ে ক্ষণকাল বাঁচে। ফসিল হতে
পারে প্রেমের পেরেক। উত্থিত মাটি ভ্রমণে
ক্লান্ত হলে গোধূলি খেলে
অখাদ্য নয় কিছু, কে যেনো সবকিছু খায়
অন্ধ হবার বাসনা
অদ্ভুত আঁধার কেন আসে বার বার? মানুষের বদলে
হেঁটে যায় খণ্ড খণ্ড অন্ধকার। নক্ষত্র ক্রমেই দূরাগত
হয়। মানুষের পুরোটা মাথা মগজ কিংবা চোখ হতে
পারতো। চোখজুড়ে ঝুলে থাকে ক্লেদ। আহা চোখ,
হায় চোখ
প্রিয় আঁধার, সর্বভেদী তীর্যক আলোর কাছে হেরে
যাবে কি কোনোদিন! তাপ খোয়া গেলে আকাশের
আলোকবিন্দু চোখ ধাঁধাবে মাটি, বিচ্ছুরিত জ্বলবে
বস্তুকণা
অন্ধ হবার বাসনা আলো জ্বেলে দেবে
English article read here
english poem's here read
english article here
poem by timur khan here
article of law and literature : click here
nobel prizev:2025 on litterature here
poem by p.francis click here
এখন প্লাস্টিক যুগ
দেদারসে হারিয়ে যাচ্ছে চোখ। আগুন নিভে গেলে
দুর্গন্ধ পচবেই। নিভে যাওয়া বাতাস, বৃষ্টি এদের দশা
কেউ ভাবছে না। মশগুল ক্রম উত্থান চরক গেঁথে
চরকি বাজালে আদিম উল্লাস ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে
নিয়তি যোগাতে
পলিথিন নির্মিত চোখ চিরকাল অন্ধকার। টেবিলে
হেসে উঠবার চোখ হারিয়ে গেছে, এখন প্লাস্টিকের
যুগ। আকাশ নেমে এলে সূর্যও হারিয়ে যাবে। সন্ত্রস্ত
দুয়েকজন ছুটে লাভ কি
খর্বাকৃতির পৃথিবীতে বাঁচা যন্ত্রদগ্ধকালে
কাফকার পোকা
ফ্রানৎস কাফকা মানুষের মগজে পোকা ঢুকিয়ে
খুব আরাম পেয়েছিলেন। তাঁর পোকাধারণার
প্রধান উপকরণ পাখা। এখন হঠাৎ হঠাৎ মানুষের
পাখা গজায়। পাখাহীন কারো পাখা হলেই পোকারা
ভোজানন্দে নাচতে থাকে
কাফকার ধারণা ছাড়াও প্রকৃতি পোকার খামার
হতে পারতো। প্রাগৈতিহাসিক পোকারা দাসত্ব
জানলে প্রবল সম্ভাবনায় মানুষ পোকা হতো
দাসত্বের লোভে
পোকাগিরি আর পোকাতে বিরোধ আদিঅন্তহীন
ধূলিস্নান
প্রকৃতি ছাড়া মুগ্ধতার বিষ কে দেবে? কদর্যনিরেট
চরমে গেলে- দেখেছেন তো, কিছু কিছু বিবস্ত্র
মানুষ পলকে মাটিতে মিশে যাবার সময় সহ্যরহিত
যন্ত্রণাদগ্ধ চোখ আপনার দিকে ধেয়ে থাকে। তখন
আকাশ থেকে খসে পড়ে প্রকৃতির আলো
ফুল ও নারিতে, কখনো পরাগ ও পুরুষে যাকিছু
রমণ করেছেন, ওসব কেবলই ধোকা। একবার
অলীক ছেড়ে মাটিতে নামলেই জনম অবধি পবিত্র
ধূলিস্নানে নরোম কাদা হয়ে যাবে প্রত্যাবর্তন
ধূলিতেই ধুয়ে যায় প্রকাণ্ড অলিক
বাবা
হাতের তালুতে বাবার শরীর স্পর্শে তাপ অনুভব
করেছিলাম, মেদ ছিলো না। তিনি মাটি আর
ফসলের প্রতি নিবেদিত বাতাস ছিলেন। পলি
জমেছিলো বালুতে জন্মজন্মান্তর। নদিটি ছিলো
ফসলের মাঠ
বাবার শরীর নদি হয়ে প্রশান্তি বয়ে যায়। খাঁ খাঁ
চৈত্রে বাবাকে পুড়তে দেখেছি, বৃষ্টিতে কাদা-জল।
চৈত্র আর কাদা মিলে একেকটি বাবা, বিকল্পরহিত
আদি-অন্তহীন
জন্মদাতার ভ্রম বাবাতে চিরদিন ভ্রান্তি বইয়ে দেয়
তামাশা
বার বার বদলে যায় রঙের তামাশা। লাল দেখতে
দেখতে কালো চলে আসে। সবুজের হলুদ হবার
কোনো কারণ ছিলো কি? শাদা চিরকাল শাদা-ই
থাকতে পারতো। একবার মনে হয়েছিলো এটা
হয়তো চোখের অসুখ
হঠাৎ চমকে দেখি, মানুষগুলির পা উপরে, হেঁটে
যাচ্ছে হাতের তালুতে। আরো অধিক বিস্ময়,
সবাই উলঙ্গ। ঠিক অন্ধ হবার আগে দেখা গেলো,
কারো যৌনাঙ্গ নেই
সম্ভবত এরা মৃত্যুহীন
কবিদের আড্ডায়
মানুষ মোম নয় যে সামান্য তাপে গলে যাবে। কেনো
ফিরে আসবে পতঙ্গপতন? কবিদের আড্ডা ভাঙ্গা হাট
বসিয়েছে। কেউ শোনেনি, কবিদের বিতণ্ডায় কথা বলা
বারণ ছিলো। চাঁদের আকাশ থেকে দেখা যায় আবছায়া
কবির আড়ৎ
দূর বলে কিছু আছে নাকি! স্বচ্ছ বাতাস বয়ে যায়
কলাপাতাপ্রেমে। ভূতলে চাঁদ এলে ধ্বনিময় পঙ্ক্তি
অতিশয় নেমে আসে। নিরাময় একদিন করতলগত
চাঁদ হবে
কবিদের আড্ডায় বসে থাকে একাদশি চাঁদ
কাঁটাহীন কালো ক্যাকটাস
মাঝে মাঝে সব উল্টোপাল্টা হয়ে যায়। মাথার ওপর
পা গজিয়ে ওঠে। হাঁটার বদলে উড়তে থাকে সকল
মানুষ। রাজাসনে বসে থাকে থরে থরে টাইবাঁধা
গাধা। হাম্বা হাম্বা করতে করতে দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়ে
বসে ওলান ফোলা গাই
রাতের শহরে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে চলে সারি সারি
গাছ। মাছগুলি খলখল করে হাসছে বসে জানালার
কাচে। মানুষের মাথাগুলি ভরে গেছে কাঁটাহীন
কালো ক্যাকটাসে
সকল আড়াল খসে গেছে গতকাল রাতে
প্রতিদিন রাতে আকাশ নামে
শরীরের প্রত্যঙ্গগুলি আলাদা হয়ে যায় প্রতিদিনের
রাতে। প্রত্যঙ্গ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে টেবিলে,
সোফায়, বদ্ধভূমির ভাগাড়ে, মেঝেতে, এখানে,
সেখানে, আকাশে। মেঘের তুলো হয়ে যায় কখনো
তারকাখচিত সবুজ মাঠে
ঝড়ের দিনে আম কুড়োবার সুখ উবে যায় বাতাসের
ঢেউতরঙ্গে। চোখ আর মগজ কুড়োতে কুড়োতে
রাত গড়িয়ে ভোর হবার আগে ডোরবেল বাজতে
উদ্যত হলে আকাশ হারিয়ে যায়
প্রতিদিনের রাতে বার বার আকাশ নেমে আসে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks