গুচ্ছকবিতা।। চাষা হাবিব।। poems by chasha habib.kuasha

গুচ্ছকবিতা।। চাষা হাবিব

হিন্দুগাছ অত:পর

মাঝি হাড়াম চিবুতে থাকে তুলসীপাতা
রোজ রোজ; গাছের গোড়ায় তেল ঢালে
ঋতুবতী গরম শরীর;
তাতেই সেরে যায় মোল্লার গলা ব্যথা
অথচ উপুড় হয়ে দেবীও— কোরান পড়ে!
হিন্দুগাছের রস দাগ ফেলে
মদিনা সনদের পাতায় পাতায়;
দেশি মুরগী সব খায় মানুষের গু-মুত;
অথচ পুড়ে যায় সখিনা— বেহুলার সংসার!

আজকাল তুলসি চায়ে— রোজ খুব কমে হিন্দুগাছ!

দৃশ্যকাব্য

মৃত নদীরও পাড় আছে, আছে তপ্ত বালুচর 
বাদামী খাড়িবিকেল। খুড়ো- অগভীর কিংবা গভীর
দেখবে জেগে আছে বোবা পানির পরত।
বালির বুকে সেও নিয়েছে চোখ বন্ধ দুপুর 
সেও বোকাচরে বেচিয়েছে রূপালী যৌবন। তোমার ঘ্রাণে পাগল করা বুনো দীর্ঘশ্বাসে;
এখানে খেলা করা কুড়ানি স্রোত আজও শুধুই মৃত শরীর— যেন জেগে থাকা ধীবর। 
শামুক মিছিলে জেগেছিল বালুতে— শিশিরের কান্না আর তো ভেজেনা চোখ 
         পোড়া মাটির খোলশে
         মৃত বুকে ধূসর বকচর
ঠোঁটের আগায় বেয়োনেট লাগিয়ে ঘুমায় মৃত শরীর— নদীজীবন। 

দাঁড়দেয়াল

দাঁড়িয়ে যাওয়া দেয়ালে
শৈবালপ্রেম মাথা ঠুকে প্রলেপ দেয়।
দাঁড়িয়ে যাওয়া বৈকালিকরোদ স্নান সেরে গা মুছতে মুছতে
দেহের ভিতর ঢুকিয়ে দেয় সামাজিক নরবাদকষ;
অথচ দেয়াল জুড়ে আমাদের লাগানো লতাগুল্ম
হাইব্রিড জেনেমে কাজলরোদে অচল দেহসাজায়;
আমাদের রাষ্ট্রজ্ঞান শেখাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায় বিলাপদেয়াল
টাচস্ক্রিন ঘুষি মেরে ভেঙে দেয় দাঁড়িয়ে থাকা ছবিশব্দপ্রাণ;
তারপর থেকে দেয়াল জুড়ে আঁকা হয় গ্রাফিতি— দাঁড়দেয়াল;
লেখা হয় শ্লোগান— অশরীকবিতায় ছাপা হয় দশমিক এপিটাফ।

অথচ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে যৌবন শুকিয়ে পোয়াতিরোদে
ঢাকা পড়ে ধুলোসরে রক্তদেয়াল— আমার দাঁড়িয়ে রোদশুকোই।

কমরেড ও গড

আলো ছিল না বলে ছুবি তুলতে না পারার আক্ষেপে কমরেড মাথাঠুকে;
জিপিএস জ্যামারে গডের সাথে কথা বলা হয় না তার; ভারী বাতাসে দমবন্ধ হতে হতে বাবাকে ডাক দেয়
অথচ— ফোরজি আকাশ নিয়ে কত পরিকল্পনা ছিল তার— পাছে আমি ঈশ্বর হয়ে উঠি সেই ভয়ে
আজও বুদবুদ প্রেমে ক্রমশ শ্যেনচোখে আড়িপাতে কমরেড;
ছবির নেশায় বুক ভরে আলো নেয় অথচ রোজ পাড়ি দেয়া আকাশে গডকনিকা ঢেকে দেয় আয়ন।
প্রতিরোজ প্রতীক্ষায় ফিরে আসে অনুতৃষ্ণাকামপ্রেম; ফিরে আসে শীতরোদ— শুধু আলো নেই বলে
বুক—তলপেট শীতল হতে হতে জন্ম দেয় সৌরকোষ; অথচ কমরেড জোড়াতালি চোখে
আকাশ জুড়ে দেখে ফেলে ছবিতে হররোজ কেরামত প্রতিঈশ্বর।

আকাশবাদ

জেগে থাকা আকাশে আলোমেখে ঘুমায় পুরুষরোদ
আমি বেতাল আকাশ দেখি— পানারোদ পকেটে নিয়ে;
অথচ এমন কথা ছিল না; আকাশে আলো ছিল না বলে
খুনবাতাস নেমে পড়ে ডুবজলে, আমার আর ছবি তোলা হয় না;
গলা অবদি জনরোদ জলে ডুবে সত্য হয়— নরজলবাদ।
আকাশ দেখাবে বলে সেই যে শেখালে রাষ্ট্রকষ— আকাশবাদ;
তারপর থেকে আমি মিশিয়েই চলছি জলরোদ— রোদঘুম অপেক্ষা;
অথচ তুমি বলেছিলে আমাকে শেখাবে জাদুপরাবাস্তববাদ।

সেই থেকে আমি আর আকাশ দেখিনা— অথচ তুমি দেখাবে বলে! 
আকাশে আলো ছিল না বলে! ছবি তোলা আর হয় না আমার।

পোয়াতি ধান ভাঙে শরীর

তুমি যখন ভাঙতে থাকো
ভাঙতে থাকে শিশির জ্বলা জন্মস্রোত
ধূসর বিকেল-কালো দুপুর নগ্ন রাত
ভাঙতে ভাঙতে ভাঙে হৃদপি-নল।
তোমার শরীর নিয়ে বেনামী রাত পড়তে থাকে-পড়ে ফেলে
নরম নরম করাতকোষ; পড়তে পড়তে ছিঁড়ে ফেলে 
                     জুলাই বিপ্লব;
পড়তে থাকে তোমার নরম শরীর বাতাবি অভ্যুত্থান 
বিপ্লবী কোষ খসে যায়-খসে ফেলে শরীর জুড়ে
                 ভাঙা হয় তুমি স্রোত; 
তুমি ভাঙতে ভাঙতে, ভাঙতে থাকো জরায়ু ঘরে জন্ম নেওয়া প্রত্নচর
উর্দ্বুদ হয়ে মেনে নাও- মেনে নাও জলের স্লোগান
উর্বর শরীরে মাটির পরত জে¦লে দেয় নাদরস
তুমি ডুবে যাও-ডুবতে থাকে ছত্রিশ জুলাই, বিজয় শরীর
                নাঙ্গা দেহের গরম তালরস;
তুমি ভাঙতে থাকো; ভাঙে তোমার শরীর মন
পোয়াতি ধান ভাঙ্গে শরীর-প্রথম চক্রে দেহ ভরে তোমার পোয়াতি ধান।

কিছু মানুষ ও ক’জন কবি

     ১.
আজ কিছু মানুষ আর ক’জন কবি
একত্রিত ধ্বনিতপ্রাণে কথা হয়; কিভাবে সমুদ্রের স্রোত ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে হাঁপিয়ে যাওয়া মানুষ— 
একসাথে ডুবেচরে মিশিয়ে দেয় বালির পরত;
কিভাবে পানির জলে আলো ঢেলে স্নান সারে— তুমুল হট্টগোল;
কিছু মানুষ হইচই করে; কিছু মানুষ আলোমাখা পানিতে অথৈমন্থন বিশ্বাস কিনে বাহাস করে;
অথচ ক’জন কবি— কিছু মানুষের ভিড়ে জল—পানি আর বিশ্বাস লিখে রাখে নাড়াপুড়ে।

     ২.
অতঃপর—
একত্রিত হয়েছিল কিছু মানুষ আর ক’জন কবি;
সেদিনও তুমুল বৃষ্টি, কৃষ্ণচূড়া, বৃক্ষ, একদল পাখি— সমানে ভিজছিল;
কিছু মানুষ দখলমচ্ছ্ববে রাষ্ট্রসাজায় কবিতায়; অথচ জন্ম নেয়া ন-মানুষও
বৃষ্টির শরীর ছুয়ে— ছুয়ে দেখে অশরীক কবিতা; 
ধ্যানবুদ্ধ কবি আযাদ কালাম বলে ওঠেন; ওসব পড়ার দরকার নেই— 
প্র’র নরম শরীর অনেক আগেই ওসব পড়েছে— ওসব দখলে;
ক’জন কবি বুদ হয়ে শুনতে থাকেন সোনালী কাবিন— দ্বিতীয় ভাঙ্গন;
ক’জন কবি গ্রোগ্রাসে ভক্ষন করে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে— ইকারুসের আকাশ;
অথচ কিছু মানুষ তখনও বৃষ্টি দেখে— কিছু মানুষ তখনও বৃষ্টি চুরির দায়ে কবিকে দোষারোপ করে। 

বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন
মাসুদ মুস্তাফিজের কবিতা পড়ুন এখানে
অমিত চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে
বড় ও বিখ্যাত কবির কবিতা পড়ুন এখানে
জিয়াবুল ইবন এর কবিতা পড়ুন এখানে
কাজুও ইশিরোগুরের উপন্যাস বিশ্লেষন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে

দৃশ্যকাব্য

দেহকে দেহের ভাঁজে গুজে দিয়ে 
কি তোমার উল্লাস; 
অথচ দেহ ছিড়ে আমিও তোমাকে 
সময়চিহ্নে তিলক কেটে—
আমার এ দেহকে করেছি ক্ষত-বিক্ষত;
আর তুমি দেহের স্কেচটা আঁকতে আঁকতে 
ছিড়েই ফেললে শেষে।
জোড়াতালি দেয়া শতছিন্ন দেহ নিয়ে
এই আমি এখনো দেহে দেহ মিশিয়ে 
চলছি রোজ বাজারের থলে হাতে। 

নৈঋত জীবন 

উপর থেকে নেমে আসা ঘর
মাটির দেহ ছিঁড়ে গুনতে গুনতে মিশে যায়;
হাওলাতি দেহকোষে ভরতে থাকে মাটিঘ্রাণ;
এ জীবন নিয়ে আমিও মাটিতে
এ জীবন নিয়ে আমিও জলেতে
পারিশ্রান্ত পাখিদের মতন জিরোতে জিরোতে
পাড়ি দেই উপর থেকে নিচে— নিচ থেকে উপর
উত্তর দক্ষিণ—পূব থেকে পশ্চিম; নৈঋত ঈশান;

তারাদের দেশে— মাটির রাজপুত্র বিবমিষা স্রোতে
আলোর অন্ধকারে— বুনো আধারে ঘুমবাষ্পের মতন
আমিও— তারাদের দেশে ঘুরতে ঘুরতে অবসাদ জলের তোড়ে
ভাসতে ভাসতে ঘর বাধতে পাড়ি দেই জনম জনমের মহাস্রোতে;
উপমান গৃহে— অথচ দেহতরী লোবানে পুড়ে যায় জবান;
পিচ্ছিল নরমপথ— পিছলে দেয় পিছলে যায় আমার ঘরহাটা পথ। 
ঘর ঘর করেই উপর— নীচে জমা করি আমি
শৈবালধাম— তেজারতি অন্ধ বোহেমিয়ান ফসল।


প্রত্নচুলের মারফতি আকাশদর্শন

রাষ্ট্রচোখ শীতল হয়
জন্মমুখ ভাঁপওঠা ধানশরীরে গরম ঢেলে রচনা করে রাষ্ট্রসংগীত; 
তোমার নরম হয়ে যাওয়া জন্মসনদ; তোমার নৈর্ব্যত্তিক চুলে-জোলাপ দুঃখমেখে 
খোওয়া যায় বিষপাতান; খেলে যায় বোঙানাদ;
চুলশরীর পেছিয়ে কণ্ঠস্বর ভাতের মাড়ে মিশিয়ে দেয় সিরাম-রাজসার।

নির্বাচনী জলসায় তোমার ঘনকালো চুল হয়ে ওঠে নির্বাচনপ্রতীক;
আমরা হই হই কোরাসে;
আমরা জোরসে শ্লোগানে;
কলরব করতে করতে ঘাড় মটকায় রাষ্ট্রনখ। অথচ রক্তফুল গর্ভপাতে খসে ফেলে চুল;
ভিমরতিস্বরে অনাথ সরকারও মাপতে নামে চুলের দৈর্ঘ্য; বসানো হয় সেনা চৌকি- 
তদন্ত কমিশন- জননিরাপত্তায় ইউনানি-আয়ুর্বেদা তবজ;

স্বায়তশাসিত প্রাদেশিক ছায়ামেঘ চুলের কৌপীনে সংস্কারের জন্য গোল হয়- 
রচনামূলকচিরনি নেমে পড়ে চুলে- আঁচড়াতে আঁচড়াতে ভাঙ্গা আয়না দেখে নেয় মরা
দেহচুল; থু থু ভেজা চুল দেখতে ভিড় জমায় চ্যাংড়ার দল; শব্দ করে ছিঁড়ে ফেলে- ছেঁড়া হয় ধ্যানমগ্ন প্রত্নচুল;

হায় চুল! তোমার নিরবে কেঁপে যায় আমার অন্ডকোষ॥

জন্মদিনে খুন হয় কবিতা

কবির জন্মদিনে খুন হয় কবিতা।
কবিতার জোয়ান শরীর ঋতুচক্রে নেমে যায় নর্দমায়
দুপুররোদে জোস্নাচাঁদ কবিতাশরীরে লুকিয়ে ফেলে কবিনাম-পরিচয়। অথচ স্বায়ত্তশাসিত মেঘের ছায়ায়
বেড়ে ওঠা খুনকলম;
জন্মদিনে বুনোবাতাস শ্বাস দেয় কবিতার পবিত্র খাতায়— কবি খুন হয় সোনাবরণ দুঃখে।
প্রেমদ্রোহী এলিজিরা কথা কয়— কথা হয় রক্তের মতো কালো হয়ে পড়ে থাকা কাগজে;

কবিতা— যেন অর্ধপক্ব ঋতুর গোপন গর্ভ, যেন লজ্জায় অন্ধ রূপকথা।

কবির শাদা চুলে লেপ্টে নেয় থু থু ভেজা বেনামী ঋতুস্রাবপুংক্তির দানবশরীর। অথচ জন্মদিনে সংস্কার কমিশন
প্রশ্নতোলে কবিতার আঙুলে লেপ্টে। স্বায়ত্তশাসিতকলম হয়ে যায় দাঁতের মতো ধারালো।
বিপ্লবী ফুটপাত লিখে দেয় কবির জন্মগ্রাফিতিবাদ।
কবি তো খুন হবেই
কবি তো মরবেই—
ভাতের শরীরে মরে যাওয়া ভাতের গন্ধেই কবি জন্মায়। ভুলে যায় যে সেও অছিয়তনামায় স্বাক্ষর করেনি আজও;

অথচ দুপুর রাতে জন্ম নেওয়া কবিতা জাড়সকালেই শিশির না মেখেই অন্তর্বতী সরকারে দত্তক হয়।
মানুষ নয়, সংবিধান নয়, শুধু কঙ্কাল— রাষ্ট্র টেবিল সাজায়; মুখচাপা রোদ ছুরি হয়ে নেমে আসে কবির হৃদপিন্ড বরাবর।

তাই তো জন্মদিনেই খুন হয় কবিতাস্বর।

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন