বাঙালির নব জাগরণের মহা নায়ক হেনরি ডিরজিও - উদয় শংকর দুর্জয়




প্রবন্ধ..

“The moon is gone; and thus go those we love;
The night winds wail; and thus for them we mourn;
The stars look down; thus spirits from above
Hallow the mourners' tears upon the urn.”
কবিতাটি পড়লেই এক রোমান্টিকতার উৎসধারায় হেঁটে যেতে চায় মন। দুরন্ত চাঁদের ফেলে যাওয়া খণ্ড খণ্ড আলোর মিছিলের পিছু পিছু প্রণয় এসে ভিড় করে। মনে হয় তারাগুলো লেগে আছে উঁচু গাছের শাখা-প্রশাখায় আর শূন্যের উপরে উড়ে যাচ্ছে যত উদ্দীপ্ত জীবনের পালক। কবি এভাবেই লিখে রেখে যান অনুভূতির ভেতরে জমানো সুখ বিসুখের কথা। এমন মায়াবী শব্দপুঞ্জ খচিত আঁখরে যা আজ থেকে প্রায় দু’শ বছর আগে বাঙালির নব জাগরণের মহা নায়ক হেনরি ডিরজিও খুব অল্প বয়সে লিখে ছিলেন।  
হেনরি ডিজরিও যার পুরো নাম ছিল হেনরি লউইস ভিভিয়ান ডিরজিও, যে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ভারতীয় আধুনিক চিন্তা চেতনার মানুষ। তদানিন্তন কলকাতার হিন্দু কলেজের একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কবি। ফ্রাঞ্চিস ডিরজিও, হেনরি ডিরজিওর পিতা যিনি এংলো-ইন্ডিয়া সমাজে একজন সম্মানিত এবং প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন আর মা ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত ইংরেজ মেয়ে।  তৎকালীন সময়ে ডিরজিওকে কলকাতার ডেভিড ড্রুমন্ডের একাডেমীতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা দেয়া হয়। এই তুখোড় তরুণ শিক্ষাবিদ এবং পণ্ডিত ডিরজিও মুক্তচিন্তার মানুষদের জন্য গড়ে তোলেন ‘ইয়ং বেঙ্গল’ নামে একটি আলোকিত সংগঠন। সব ধরনের ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে এক উদ্ভাসিত আলোর পথের পথিক হতে সেদিন হিন্দু কলেজের অনেক ছাত্রই ‘ইয়ং বেঙ্গল’ সংগঠনে নাম লেখায়। পরবর্তীতে অনেকেই আবার ব্রহ্ম সমাজ মুভমেন্টের সাথে যুক্ত হয়। ডিরজিওর অকাল মৃত্যুর পর ইয়ং বেঙ্গলের সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ তৎকালীন সমাজের আইনজীবী, সমাজ সংস্কারক এবং সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বাঙালির নব জাগরণের পথিকৃৎ হচ্ছেন ডিরজিও পরবর্তীতে যার প্রভাব সমাজে ধীরে ধীরে আলোড়ন সৃষ্টি করতে থাকে। 
মাত্র সতের বছর বয়সে, ১৯২৬ সালের মে মাসে ইংরেজি সাহিত্য এবং ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে নিউ হিন্দু কলেজে যোগদান করেন বৈপ্লবিক মানসিকতার এই কবি ভিভিয়ান ডিরজিও। একজন স্বনামধন্য শিক্ষক হিসেবে নাম ছড়াতে শুরু করে সমাজ-সচেতন মানুষের মাঝে। তাঁকে অনুকরণ করে ছাত্ররা নিজেদেরকে ডিরজিয়ান বলে ভাবতে শুরু করে। কি এমন জাদু-অস্ত্র ছিল ডিরজিওর মাঝে যার মায়ার টানে সবাই ডিরজিও হতে চেয়েছিল। প্রথমত ডিরজিওর বয়স ছিল তাঁর ছাত্রদের কাছাকাছি আর এ কারনেই সহজেই মিশে যেতে পারতেন, দ্বিতীয়ত তাঁর মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনা, বিশেষ করে ছাত্রদের মধ্যে সেই আবেগের উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়ে লিখিয়ে নিতেন কবিতা। সেদিনের মধুসূদন দত্ত আজকের মহাকবি মাইকেল যিনি হিন্দু কলেজে পড়াকালীন সময়ে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন ইংরেজিতে; স্বপ্ন দেখেছিলেন বিলেতে যাবার এবং বাঙলা সাহিত্যে নব্যবীজে নব্য ফসল ফলাতে। দেবদেবী নির্ভর বাঙলা সাহিত্যে ইউরোপীয় সাহিত্যের নির্যাস ঢেলে বাঙালিকে চেনালেন এক নতুন পথ। আর এ কথা না টানলেও বুঝতে বাকি থাকে না যে তা ডিরজিওর মতো একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এর পেছনেই ছিলেন। তাহলে একজন ডিরজিও হচ্ছেন আধুনিক বাঙলা সাহিত্যের বা বাঙলার আধুনিকতার একজন অগ্রজ যিনি সমকালীন ভাব ধারার বাইরে গিয়ে ভেবেছেন অনেক বেশি। মধুসূদন সরাসরি ডিরজিওর সান্নিধ্য না পেলেও, হিন্দু কলেজে তিনি যে বলয় সৃষ্টি করে রেখে গিয়েছিলেন তা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠেন। সেদিন শুধু মাইকেলই নন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক, প্যারীচরণ সরকার সহ আরও অনেকে ডিরজিওর স্বদেশানুরাগ, কাব্যপ্রীতি এবং আধুনিক চিন্তা ধারার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।
ডিরজিও একাধারে যেমনি একজন কবি আবার একজন কুসংস্কারমুক্ত মানুষও যিনি সামাজিক ও ধর্মীয় অন্ধকুসংস্কারাছন্নতা থেকে নিজেকে বের করে নিয়েছিলেন জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে আর সেই আলোয় আলোকিত হতে চেয়েছিল হিন্দু কলেজের ছাত্রগণ। ডিরজিওর মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছিল পাশ্চাত্যের দর্শন, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা এবং প্রচলিত ঈশ্বর বিশ্বাসের উপর অনাস্থার কথা। তিনি ছাত্রদের মধ্যে দেখিয়েছিলেন  চিরাচরিত ধ্যান ধারনা বাইরে রয়েছে এক বিশাল জগত; সমাজের সমস্ত বাঁধা উপড়ে ফেলে তিনি ছাত্রদের মুক্ত চিন্তার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। একটি প্রবন্ধে তিনি হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরোধিতা করে বসেন  আর সেখানেই উঠে আসে যত বিপত্তি; নিউ হিন্দু কলেজ কমিটির চেয়ারম্যান রাধাকান্ত দেবের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয় ডিরজিওর এবং চাকরি থেকে বিদায় নিতে হয় তাঁকে। যিনি কিনা ছাত্রদের উৎসাহ উদ্দীপনার শেকড়ে জল ঢেলে সতেজ করতে চেয়েছিলেন; আধুনিক শিল্প ও জ্ঞান চর্চায় নতুন বিপ্লব ঘটাতে চেয়েছিলেন জাগরণের মাধ্যমে।
তখনকার দিনে ছাত্র আর শিক্ষকদের মধ্যে থাকতো এক ধরনের কঠিন দূরত্ব যা ভেঙে বেরিয়ে আসা দুঃসাধ্য ব্যাপার ছিল কিন্তু ডিরজিও সে দিক থেকে একবারেই ভিন্ন। তিনি ছাত্রদের মধ্যে মিশে যেতেন আর আনন্দ পাঠ করাতেন; তিনি ছাত্রদের সাংবাদিকতায় উদ্বুদ্ধ করতেন; সামাজিক নৈতিকতা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের আয়োজন করতেন যার ফলশ্রুতিতে ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের জানার বিপুল প্রবণতা দেখা যেত। ছাত্রদের সাথে তাঁর যে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তা নিচের লেখা দেখে অনুমান করতে এতটুকু কষ্ট হয় না।
"Expanding like the petals of young flowers
I watch the gentle opening of your minds…"
আমি দেখি প্রস্ফুটিত ফুলের বর্ধিত পাপড়িগুলোর মতো, মৃদুমন্দভাবে খুলে যাওয়া তোমাদের মনের দুয়োর। ডিরজিও শুধু একজন কবিই নন একজন দার্শনিকও বটে, তিনি সমাজের অগ্রগামী মানুষদেরকে ফুলের মতো প্রস্ফুটিত করতে চেয়েছেন। তিনি একজন শিক্ষকই শধু নন একজন সমাজ সংস্কারকও, অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে চেতনাকে বিকশিত করার এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে চেয়েছেন। ডিরজিও যেমন ছাত্র সমাজকে নতুন সূর্যের উত্তাপে উত্তপ্ত করতে চেয়েছিলেন ঠিক তেমনি তিনিও অনুপ্রাণিত হয়েছেন ইংল্যান্ডের কবি লর্ড বায়রনের সাহিত্যকর্ম আর জীবন ধারা থেকে। বায়রন শুধু একজন বিখ্যাত কবিই ছিলেন না একজন রাজনীতিবিদ এবং একজন বীর যোদ্ধাও ছিলেন। তিনিও মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন। তিনি যে মহিমা ছড়িয়ে গেছেন তা থেকে অনেকেই হয়ে উঠেছেন মহাজ্ঞানী মহামানব। 
ডিরজিও জন্ম গ্রহণ করেন অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারে, ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কলকাতার পদ্মপুকুরে। চৌদ্দ বছর বয়েসে স্কুল ত্যাগী ডিজরিও কলকাতায় বাবার সাথে থাকতে শুরু করেন। আর মাত্র ২৪ বছর বয়সে ইহধাম ছেড়ে চলে যান চিরদিনের জন্য। তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। একজন আধুনিক সমাজ গড়ার মিস্ত্রি যিনি বুকের মধ্যে হাতুড়ি আর গাইতে চালিয়ে স্বপ্ন খুঁড়েছেন; দেখিয়েছেন জ্ঞান আরোহণের জন্য কিভাবে গভীরে যেতে হয়। আর সেই আরোহণের মানচিত্রে হাতুড়ি আর ছেনি চালিয়ে একদিন মধুসূদন লিখে ফেললেন মহাকাব্য মেঘনাদ বদ। অমিত্রাক্ষর আর চতুর্দশপদী কবিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বাঙলা কবিতায় নিভুনিভু করে জ্বলতে থাকা প্রদীপের জ্বালানিতে যোগালেন সৃষ্টির অধুনা সূত্রাবলি। না মানার অবকাশ নেই যে, যে আলো জ্বেলে গিয়েছিলেন ডিরজিও তাঁর শিক্ষকতার মাত্র দু’বছর সময়ে, তা থেকেই আলোর ফুল্কি ছড়িয়ে পড়েছিল পরবর্তী সময়ের ছাত্র সমাজে। সমস্বরে এসে পড়ে ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের কথা যিনি মাত্র ২১ বছর বয়সেই কাব্যকাশে এক ধূমকেতু হয়ে দেখা দিয়েছিলেন। পৃথিবীকে দিয়ে গেলেন ‘ছাড়পত্র’; মাত্র ৬/৭ বছর লেখালেখির জীবনে বাঙলা সাহিত্যে রেখে গেলেন অসামান্য কৃতিত্ব যা বাঙালি আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সুকান্তের মতো ডিরজিওও বয়সিক সীমাবদ্ধতাকে পিছনে ফেলে এক বলিষ্ঠ এবং পরিণত ভাবনার উজ্জ্বল সাক্ষর রেখে গেছেন কালের যাত্রা পথে। তিনি ছিলেন প্রচণ্ড স্বাধীনচেতা মানুষ; মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন তাঁকে সাউথ পার্ক স্ট্রীট সমাধিস্থলের পরিবর্তে যেন সাধারণ রাস্তার পাশে সমাধি করা হয়।
প্রচণ্ড দেশপ্রেমিক হেনরি ডিরজিও লিখেছেন স্বদেশপ্রেম সহ বহু প্রেম ও প্রকৃতির কবিতা। তাঁর কবিতার মধ্যে মেলানকলি ধরা দিয়েছে ন্যারেটিভ আকারে। নস্টালজিয়াতে ফুটিয়ে তুলেছেন নিজের অবেগ ও অনুভূতির কথা মালা। নিচের দুটি কবিতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় ডিরজিওকে অন্যভাবে। দেশের প্রতি মমতাবোধ একাকার হয়ে মিশে গেছে কবিতায়। লিখেছেন- ‘scourge her like a dog’ অর্থাৎ মাতৃভূমিকে কেউ যেন চাবুকমারে কুকুরের মতো। হতে পারে তিনি ইংরেজ শাসনের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন, হয়তো শুনতে পাচ্ছিলেন বহুদূর জংগল থেকে খুব করুণ সুরে কেউ গাইছে বেদনার গান। তিনি এই দুঃখ ভারাক্রান্ত মায়ের মলিনতা মুছে দিতে চান।
1.“Oh! when our country writhes in galling chains
When her proud masters scourge her like a dog;
If her wild cry be borne upon the gale,
Our bosoms to the melancholy sound
Should swell, and we should rush to her relief,
Like some, at an unhappy parent's wail!’
2.   My country! In thy days of glory past
A beauteous halo circled round thy brow
and worshipped as a deity thou wast—
Where is thy glory, where the reverence now?
Thy eagle pinion is chained down at last,

‘টু মাই নেটিভ ল্যান্ড’ কবিতায় ডিরজিওর স্বদেশীভাবনার অনন্য সাক্ষী। গৌরবাতীত দিনগুলোর কথা ভেবেছেন; ভেবেছেন, যেভাবে কপালে সুদর্শন তিলক আঁকা থাকতো এবং দেবতাকে পূজা করা হত সেসব গৌরব আজ কোথায় গেল? প্রতিহিংসা কোথায় গেল? তিনি দেশের মঙ্গল ভাবনা নিয়ে ব্যাকুল ছিলেন। কবিতার শেষে অংশে দেখা যায় তিনি দেশের জন্য শুভ কামনা করছেন। একজন সচেতন, শিক্ষিত, আলোকিত, আধুনিক চিন্তা ধারার মানুষ দেশকে নিয়ে বিচলিত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি দুঃখকে বরণ করে নিয়েছেন এবং প্রস্তুত থেকেছেন যে কোনো দৈন্য দুর্দশার জন্য। লিখেছনে-‘Save the sad story of thy misery!/ Well—let me dive into the depths of time/ And bring from out the ages, that have rolled’.

উনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালির নব জাগরণের যে উন্মেষ ঘটেছিল তাতে ডিরজিওর অবদান স্বীকার না করে উপায় নেই। হিন্দু কলেজের ছাত্রদের মধ্যে সাহিত্যেজাগরণ ঘটাতে লিখতেন সনেট, দেশ ও প্রেমের কবিতা। হিন্দু কলেজে থাকাকালীন সময়ে শিক্ষানবিশদের জন্য লেখা তাঁর কবিতা যেখানে প্রেরণার উৎসধারা প্রবাহিত হয়েছে অনিঃশেষ।
Expanding like the petals of young flowers,
I watch the gentle opening of your minds
And sweet loosening of the spell that binds
Your intellectual energies and powers, that stretch
(Like young birds in soft summer hour)
Their wings to try their strength....
কবি ডিজরিও দেখেছেন এই টগবগে ছাত্রদের মধ্যে অপার সম্ভাবনা বিজড়িত, যেন একটু সহযোগিতা পেলেই ওদের উড়বার পাখা আরো শক্তিশালী হয়, ঠিক যেভাবে কুড়িগুলো আলো আর বাতাসের অদৃশ্য স্পর্শে দল মেলে দেয় সবার অগোচরে। তিনি ভাবতেন ভুলগুলো মধুরভাবে জুড়ে দিলে সেগুলো তাদেরকে শক্তি ও সাহস যোগাতে পারে। গ্রীষ্মের দিনগুলোতে পাখিদের ডানার বর্ধিত কার্যকালাপ যেমন বেড়ে যায় ঠিক তাদের মধ্যেও এমন উজ্জীবন শক্তি দেখতে পান। আর সেই সঞ্জীবনী শক্তি ও প্রয়াসকে কাজে লাগানোর জন্য ডিরজিও লিখতেন চতুর্দশপদী কবিতা। উনবিংশ শতাব্দীতে এমন একজন গুণী মানুষ বাঙালি সামাজে জন্মেছিলেন যা ভাববারই অতীত। এ সমাজে, ঐ বয়সের এমন শিক্ষাগুরুর খুবই বিরল। এখন ঘুণে ধরা সমাজে ক্ষমতার লড়াই, সেখানে শিক্ষা দীক্ষার মূল্য কমতে কমতে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।  অশিক্ষা আর কুশিক্ষায় সমাজ আজ জর্জরিত। আজ ডিরজিওর মতো সুদক্ষ কারিগর দরকার; বাঙালি সমাজকে অন্ধ ধ্যানধারণা থেকে মুক্ত করার জন্য এক ডিরজিও ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ডিজরিওর সাহিত্যকর্মের মধ্যে তাঁর জীবদ্দশায় একটি মাত্র প্রকাশিত গ্রন্থ ‘দ্যা ফকীর অফজাঙ্ঘীরা’(১৮২৮) যা দীর্ঘ গীতিকাব্য নামে সমাদৃত। পরে ১৯২৩ সালে লন্ডনের অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটি প্রেস থেকে তাঁর কবিতা প্রকশিত হয়।  

92A High Street
London, E13 0AJ

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন