শ্রমিক দিবসের এক গুচ্ছ কবিতা।। some poem of labour day কুয়াশা

শ্রমিক দিবসের এক গুচ্ছ কবিতা।। some poem of  labour day  কুয়াশা


   হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে থাকে যে মানুষটি
   মোহাম্মদ জাফর সাদেক 

হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে থাকে যে মানুষটি—
তার পিঠ বেঁকে গেছে সূর্যের নিচে
তার গাল পুড়ে গেছে শীতের কুয়াশায়,
তবুও সে বলে না কিছু,
সে শুধু চাষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ

যে রাত জেগে রেল বসায়,
যার পায়ের নিচে কেঁপে ওঠে শহর—
তাকে আমরা বলি “অশিক্ষিত”, “অযোগ্য”,
আমরা বলি, "তোমরা কেবল হাত দিয়ে কাজ করো,
মাথা দিয়ে ভাবো না!"
কিন্তু সেই হাত না থাকলে
আমাদের মাথা কবে থেঁতলে যেতো
আমরা ভাবি না।

আকাশ ফাটে না, মাটি চিড় ধরে না—
তবুও একদিন ধরবে,
এই নীরব হাহাকার একদিন আগুন হবে,
শ্রমিকের হাতই তুলে নেবে
ভাঙা কাস্তে, পুরোনো হাতুড়ি—
আর তখন
শুধু মুখোশ নয়,
ভেঙে যাবে সব রাজসিংহাসনও


ফসলের ন্যায্য দামের দিকে
সরকার আজিজ

তখনো আসেনি শীত, 
ভরা ফসলের মৌসুমে 
তখনো থামেনি ঝিঁঝিদের ক্রন্দন

ফুলে ফুলে ভুল পাখি 
বুঝা গেলো বাগানে সন্ধ্যা নামছে না সেদিন বেপরোয়া ছিলো ছায়ারা 
এবং এক পাংশু ছায়া কী কারণ করছিলো সব তছনছ?

মাঝারি এ শীতে 
সন্ধ্যা সমাপ্ত হলে মাঝিয়ালি মাছ-বাজারে অন্ধকার নামে

ফসলের ন্যায্য দামের দিকে 
তখন 
সকলের নজর


লোহার ভোরে মানুষের গান 
ডাঃ এম.জি.মোস্তফা

ভোর নামে—
কিন্তু এ ভোর কোনো শান্ত পাখির ডাক নয়,
এ ভোর লোহার ভেতর জন্ম নেওয়া এক আগুন,
যেখানে সূর্য ওঠে ঘামের অন্ধকার ভেদ করে।
কারখানার দেয়ালে
রাত এখনো জমে আছে জং ধরা শ্বাসের মতো,
মেশিনের শব্দে চাপা পড়ে গেছে
মানুষের ভাঙা স্বপ্নের আর্তনাদ।
তুমি দাঁড়িয়ে আছো—
হাতে পৃথিবীর ওজন নয় শুধু,
তুমি বহন করো সভ্যতার অদৃশ্য ঋণ,
যার হিসাব কখনো তোমার নামে লেখা হয় না।
তোমার ঘামে শহর জন্ম নেয়,
তোমার নিঃশ্বাসে দালান দাঁড়িয়ে থাকে আকাশ ছুঁয়ে,
তবু ইতিহাস তোমাকে ডাকে এক নিষ্প্রাণ নামে—
“শ্রমিক।”
কিন্তু এই নাম আজ আর পরিচয় নয়—
এটা জমে থাকা আগুনের নাম,
এটা ভেতরে ভেতরে ফেটে যাওয়ার প্রস্তুতি,
এটা নীরব বিস্ফোরণের প্রথম স্পন্দন।
তুমি কি জানো?
যে ইট তুমি তোলো,
তার ভেতর লুকিয়ে থাকে তোমারই কাটা সময়,
যে দেয়াল তুমি গড়ো,
তার ছায়ায় বন্দি থাকে তোমারই স্বপ্ন।
মে দিবস আসে—
কিন্তু এ শুধু স্মৃতি নয়,
এ এক জমে থাকা দাবির ভূমিকম্প,
যা ইতিহাসের নীরবতা কাঁপিয়ে দেয়।
শহরের আলো জ্বলে ওঠে অন্যের ঘামে,
আর তোমার ঘরে নামে অন্ধকার—
একটা অদৃশ্য প্রশ্ন হয়ে,
যার উত্তর কেউ দেয় না।
তবু তুমি থেমে যাও না—
কারণ থেমে যাওয়া মানে
নিজের অস্তিত্বকে মুছে ফেলা।
তুমি এগিয়ে যাও—
লোহার শব্দ ভেঙে,
ঘামের নদী পেরিয়ে,
এক অচেনা ভোরের দিকে।
যেখানে একদিন ইট কথা বলবে,
যেখানে মেশিন থেমে গিয়ে শুনবে মানুষের গান,
যেখানে ইতিহাস আর শোষণ একই শব্দ থাকবে না।
সেদিন কোনো মালিক থাকবে না,
থাকবে শুধু মানুষ—
যার হাতে থাকবে না শিকল,
থাকবে শুধু সৃষ্টি করার স্বাধীনতা।
আর তখন মে দিবস
শুধু স্মৃতি নয়—হয়ে উঠবে
ভাঙা পৃথিবীর পুনর্জন্মের দিন।


আরো পড়ার সুযোগ...


ইমদাদুল হক মিলনের নুরজাহান উপন্যাস নিয়ে প্রবন্ধঃ পড়ুন
চানক্য বাড়ৈ এর কবিতা পড়ুন এই লিংক এ
বিনয় মজুদারকে উৎসর্গিত পিয়াস মজিদের কবিতা পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলাম মুল্যায়ন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে 
ড. আলী রেজার প্রবন্ধ পড়ুন এখানে ক্লিক করে
মোহাম্মদ জসিমের ভিন্ন রঙের কবিতা পড়ুন এখানে
জিল্লুর রহমান শুভ্র'র ভিন্ন স্বাদের কবিতা পড়ুন এখানে
ওপার বাংলার বিখ্যাত কবি রবীন বসুর কবিতা পড়ুন ক্লিক
ওপারের কবি তৈমুর খানের কবিতা পড়ুন এখানে



শ্রেণী ও শ্রমজীবী কাক
ফরিদ ভূঁইয়া

আল-পথ ছেড়ে আসা শ্রেণীর শরীর 
লোভলাস্য মাদকতা ছড়ানো নগর—ধনীক অহম

দাদনের ঘেরাটোপে তেজস্বী শ্রমিক, বিপ্লবী হৃদয় 
ইটা ভাটায় যখন এঁটেল  অঙ্গার শোষিত জনের শ্রম—
পুড়ে পুড়ে ধুঁয়া-ধুলা ঘন কালো
বঞ্চিত শ্রমিক ফরিয়াদ কুণ্ডলী পাকিয়ে
এক আ'লার দিকেই ছুটে
তবে কি তিনিই ফের ধুঁয়াকায়া দিয়ে এদের পাঠান? 

শহরে নগরে কাক শ্রমজীবী—
পঁচাগন্ধযুক্ত শ্রেণীর শরীর চেটেপুটে সাধ্যমতো 
কর্কশ গলায় আহা! সংহতির আহত কোরাস

ব্যথিত অন্তর ব্যঞ্জনায় বার বার
কোরাসের পিছু নেয় কবি আর কাক।


শ্রমিক দিবসে 
হোসেইন দিলওয়ার

জলের জীবন নিয়ে সহিষ্ণু শূদ্রের মন
নির্মাণ করে চলে ঘুমের পাটাতন। 

কত নদী গিলে খেয়ে সাগর ঘুমিয়ে থাকে 
জানে না তা আবহমান নদী।
তবু সে কীর্তন করে মরণ সংগমে ছুটে 
এবং 
ভাঁড়ার বিতানে কেউ শুয়ে-বসে আজও লুটে।


মে দিবস ও স্বপ্নভঙ্গের প্রভাত
হারুন অর রশিদ 

ম-তে মরতে মরতে বেঁচে থাকা
হা-তে হাসতে হাসতে দুঃখ ভুলা 
ন-তে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখা।
মে-তে মেহনতী মানুষের ঢল নামে পথেঘাটে। 
দি-তে দিনের শুরু, শেষ নেই
ব-তে বছর যায়, বছর আসে
স-তে স্বপ্নে জাগে রক্তাক্ত শিকাগো।

এই দোদুল্যমান স্বপ্নভঙ্গের প্রভাতে 
প্রতিবছর "মহান" হওয়ার সুর ওঠে সভা সেমিনারে
সুর ওঠে অভিজাত আঙিণা থেকে
মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তের হাতুড়ি-শাবল, কাস্তে-করাতে।

পথের বাঁকে আমরা কেউ লেলিন হতে আসি
কেউ হতে আসি মাওসেতুং।
আমরা কেউ হেনরি হতে আসি, কেউ চে গুয়েভারা। 
অথচ; আমরা কেউ হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহীদের-
রক্ত স্ফুলিঙ্গ হতে পারি না!

শ্রমিক মানেই নিম্নবর্গ মানুষের মাথায় 
অপ্রকৃতস্থ হাতের ঝনঝনানি আর
সুনিপুণ চাতুরতার গল্প।

তবু্ও গর্জে ওঠে শ্লোগান, বেজে ওঠে সাইরেন
দুনিয়ার মজদুর এক হও, এক হও...।
আদতে আমরা এক হতে পারি না
আমাদেরকে এক হতে দেওয়া হয় না!

রাজেন্দ্র জানে__ জানে শোষক 
ঘাট শ্রমিক থেকে শব্দ শ্রমিক, শব্দ শ্রমিক থেকে পরিচ্ছন্ন শ্রমিক, পরিচ্ছন্ন শ্রমিক থেকে অফিস শ্রমিক এক হলেই__ বেজে উঠবে দামামা...


শিশির আজম
ঘাম

যখন তোমরা আমাকে মারছিলে
ভীড়ের ভেতর কে যেন চিৎকার করে উঠলো
কে
নিশ্চয় তোমাদের ভেতর কেউ

এ ধোঁয়া কোথা থেকে এলো
কে দায়ী

আমার লেজ আমি নিজেই কেটেছি
দুঃখিত তোমাদের দুপুরের ভাতঘুম নষ্ট করে দিলাম

যা হোক তোমাদের লেজের খবর তোমরা কি
মাছি তাড়াবার কাজটা বাদে
অন্য কিছু ওদের দিয়ে করাতে গেলে কিন্তু
ফ্যাসাদে পড়বে

পুরনো কথাটা আবার বলি
তার আগে ঝলমলে আলোর নিচ থেকে সরে এসে
এই স্পষ্ট অন্ধকারে একটু দাঁড়াও জন্তু
তোমার ঘামের গন্ধ চেনে


নয়ন আহমেদ
উপহার

ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটছিলো গণতন্ত্র, এক ভোরে;
এই আহত দৃশ্যের বাঁকে বাঁকে, পাওয়া গেলো-
হৃত হাত, অনিদ্রাপিয়াসী কাতরতা,বাসনানিচয়!
সেই থেকে, সে পথচারী; খুঁজে ফেরে আবাসন-
যাপিত নীড়ের সূচিক্রম।
মূলত, যাত্রা তার দূরবর্তী জংশন পেরিয়ে
তারাভরা গৃহ ও ডেরায়।

জানি, যাত্রাপথ সুগম নয়।কোনও কালে কখনও ছিলো না।
তাই কিছু প্রণোদনা মজুদ করেছি,দেবো।
প্রীতিউপহার।
সর্বাগ্রে দেবো তাকে অদম্য দৌড়,দেবো শ্রমজীবীর আকুলতা; 
ঘাম; - স্বনির্ভর হবে।

শিখবে-- শাশ্বত মর্যাদা।


ঘুঙুর

চরু হক


তুমিও এসেছো আজ পান করে নিতে 

আহত দিনের ছায়া,


নতমুখ

মজুরের স্বেদসিক্ত ক্লান্ত দেহ বোনা।


বেহুলার ভেলা ভাসাবার গান 

আজীবন আর কতকাল?

ঘুঙুরের তবে কি কোন ক্লান্তি নেই?

যবনিকা নেই?


ক্লান্তিহীন ঘুঙুর আজ পথহারা শিশু

আমার মায়েরা

          এবং বোনেরা।





গন্তব্যের নিধি
নুসরাত সুলতানা 

সভ্যতার পরতে পরতে 
লেগে আছে তোমার ঘাম,
মহাকাশে ইথারে ভাসছে,
জোরছে বল হেইও
তুমি তোমার কৃষ্ণ মানিক হাতে
ফলিয়েছো ফসল,যুগিয়েছো অন্ন।
হরেক রঙের পোষাক বানিয়ে 
করেছো আমাদের অনন্য।
গড়েছো ইমারত, বাসের,কার্যালয়ের
আর আরোগ্য হবার হাসপাতালের।
হররোজ পৌঁছে দাও গন্তব্যে।
তবে কেন নিকোটিনে নিজেকে ক্ষয় করা?
কেন অমানবিক ভাবে গাড়ি চালিয়ে
মানবতা হত্যার কলঙ্ক কাঁধে নেয়া?
কেন ফসলে অযাচিত  কীটনাশক মিশিয়ে
খাদ্যে বিষ্ক্রিয়া করা?
হে শ্রমিক, হে সভ্যতার কর্নধার,
আজ মে দিবসে শপথ নাও;
তোমার অবদান কে করবে না কলুষিত 
খাদ্যে বিষ মিশিয়ে,
মানবতা কে হত্যা করে,
নিজেকে করবে না ক্ষয় নিকোটিন আর এলকোহলে!
তুমি আলোকিত হবে সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা আর মানবতায়,
তোমার বিনির্মিত সভ্যতা
তোমাকে ভৃত্য বানাবে না
তোমাকে করবে কুর্নিশ 
ভালোবাসায় আর শ্রদ্ধায়...



অতি সাধারণ জীবনের গল্প 

এস ডি সুব্রত


রোদ বৃষ্টি  ঝড়ে শ্রমে ও ঘামে  যে শ্রমিক 

অতি সাধারণ জীবনের গল্প আঁকে 

দুমুঠো ভাত আর মোটা  কাপড়ের জন্যে 

তাদের কথা ভাবে ক'জন পুঁজিবাদী এই সমাজে,

রক্তস্ফুলিঙ্গে যারা জীবিকার কাব্য লেখে

কলকারখানা মাঠেঘাটে রক্ত যাদের ঘাম হয়ে ঝড়ে

তাদের খবর কেউ রাখে না স্বার্থের খেলাঘরে ,

হাওরপাড়ে কাঁদাজলে কৃষক বুকে স্বপ্ন বাঁধে 

স্বপ্নের ঘর ভাঙে প্রকৃতি বৈরীতা ও 

মুখোশধারী মানুষের লাভ লোভের কর্মযজ্ঞে ,

যাদের হাড়ভাঙা শ্রমে  আমাদের ভাতের সুব্যবস্থা 

তাদের মোটা চাল আর ডালভাতের স্বপ্ন কেড়ে নেয় 

সাম্রাজ্যবাদী সমাজের চতুর মুখোশধারী  সুকৌশলে।



সেলাই মেশিন
তূয়া নূর


একটানা সুর সেলাই মেশিন কাপড় টেনে চলছে,
সূঁচের দিকে চেয়ে মেয়ে কতো কথা বলছে।
চলছে সেলাই হচ্ছে জামা নেইতো কোন থামা,
যায় না দেখা তবু আছে সুইয়ের ওঠা নামা।
কাপড় সেলাই, লাগছে বোতাম—ভীষণ পরিপাটি,
যাচ্ছে বিদেশ আনবে ডলার, মালিক ভরে গাঁটি।
সেই মেয়েটা ঘুমের ভেতর ব্রান্ডের কাপড় বোনে।
মাথার ভেতর সেলাই মেশিন— ঝিঝি শব্দ শোনে।


মে দিবসের নীল পতাকা
জিয়াউদ্দিন লিটন 

শ্রমের ঘাম এখানে ক্যালেন্ডারের গোপন কালি,
যেখানে সময় নিজেই লিখে রাখে অবিচারের দলিল।
হাতুড়ির শব্দ কোনো শব্দ নয়—এ এক সভ্যতার হৃদস্পন্দন,
যা ইটের ভেতরেও লুকিয়ে রাখে মানুষের দীর্ঘ নিঃশ্বাস।

মানচিত্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে শ্রমিকের জীবনরেখা,
যেখানে উন্নয়ন মানেই অসম বণ্টনের নীরব পরিসংখ্যান।
যে হাত আকাশ গড়ে, সেই হাতই কেন মাটিতে হারায় অস্তিত্ব?
এই প্রশ্নই সভ্যতার সবচেয়ে নির্লজ্জ অঙ্ক।

কারখানার ধোঁয়া এখানে কেবল শিল্পের উপপাদ্য নয়,
এ এক অদৃশ্য ভাষা—যা অধিকারকে ঢেকে রাখে
ধাতব নীরবতায়।
রক্তের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় সময়ের অস্বীকৃতি,
মানুষ তখন নিজেই হয়ে ওঠে উৎপাদনের পরিত্যক্ত সমীকরণ।

তবু প্রতিটি ঘাম একেকটি অসমাপ্ত বিপ্লবের বীজ,
যা নীরবতায়ও লিখে দেয় আগামীর সম্ভাব্য ইতিহাস।
মে দিবস তাই স্মৃতি নয়—এ এক স্থগিত বিবেকের জাগরণ,
যেখানে পতাকা নীল নয়, বরং শ্রমের অন্তর্গত অগ্নিস্বর।


প্র‍তাপ 
‎সুশান্ত  হালদার 
‎চাইলে ভূগর্ভস্থ পাতাল নি:সৃত জল 
‎ডালিমের মতো রক্তবর্ণ সূর্য্য অস্ত রঙ 
‎তলোয়ার ধারে কেটে ফেলতে চাইলে 
শীতার্ত রাতের মখমল 
‎ক্ষমতার মুকুটে বসাতে চাইলে 
হীরকখণ্ডিত কিম্ভূতকিমাকার দর্পন 
‎শয়ন গৃহে চাইলে উর্বশীর মতো মেনোকার উচ্ছল সঙ্গম 
‎রাজা-
‎সবইতো দিলাম দিলখুশ নি:শর্ত আয়োজনে, 
‎যদি অভয় দাও 
‎ক্ষমতার ওই চেয়ারে বসে আমিও
ডুগডুগি বাজাতে পারি অসঙ্কোচে
‎প্লাবিত জোছনায় ভেসে যেতে পারি চন্দ্রভুক সুকান্ত প্রতাপে 
‎যা কিছু মোহনীয় অপার্থিব পুজিত পুষ্প নারী অঙ্গ আচারে 
‎সবই হয়ত পেয়ে যাবো জননী মোহিত রজনী আব্রু গোলাপে,
‎রাজা-
‎ভাবলে না
‎পম্পেইও পুড়েছিল একদিন ওসকান-রচিত প্রকৃতি বিরুদ্ধ শাসনে! 


মে দিবসের কাব্য 
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

এ কবিতা হাতুড়ে ও কাস্তের
এ কবিতা চাকায় চাকায় ঘোরে
এ কবিতা কংক্রিট ও পাথরের
এ কবিতা মেহনতি মানুষের।

এ কবিতার শরীর বেয়ে এখনো ঘাম ঝরে
নারীর কোমল দেহে জমে ক্লান্তির ঘাম
শিশুর নরম হাতে ওঠে হাতুড়ের আওয়াজ
শ্রমিকের রক্তের ধারায় রচিত হয় প্রতিটি পঙক্তি।

মে দিবস এলেই এ কাব্য রচিত হয়
‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’- স্লোগান ওঠে
শিকাগোর কান্নায় কবিতার বুকে জাগে বেদনার সুর
দাবির মিছিলে জড়ো হয় অগণিত বঞ্চিত মানুষ।



রাজ ভিখারি
যাহিদ সুবহান

এই যে মজুর মানুষ-গার্মেন্টস শ্রমিক
ওদের খেটে খাওয়া হাতজোড়া ইস্পাতের মতো
ওদের মন হাতের বিপরীত; এতো শক্ত নয়
ঠিক নরম তুলোর মতো এবং যথেষ্ঠ মানবিক

ওরা যেমন হাড়খাটুনি খেটে কিনে দিতে পারে
তোমাদের বিদেশে বাড়ি আর ঠান্ডা গাড়ি
তেমনি ঐ হাতগুলো দিতে পারে ভিক্ষাও
ওদের রক্ত পানি করা বিনিময়ের সামান্য মজুরি

তুমি দিতো পারো না হে গার্মেন্টস মালিক!
তুমি এবং তোমরা তো রাজভিখারি
তোমাদের ভিতরে বাস করে ভিক্ষুক হৃদয়
আর বাইরে লোক দেখানো মেকি চাকচিক্য ...


শ্রমিক অধিকার
সাকিব জামাল

শ্রমিক অধিকার;
ফেল করা আদু ভাই হয়ে
একই ক্লাসে পড়ে আছে
বছরের পর বছর।



অপ্রাপ্তির আশা দীর্ঘ হাঁটে
গোলাম রববানী 

মে দিন আসেনি
গ্রহণ করিনি শুক্রবার মানুষ সব নিকার,

মজুরি- নিরবে নেয় মানিয়ে রক্তঋণ বুকে
হাহাকার মিছে শিকাগোয়;
ঘামের স্রোত বেয়ে পড়ে মাটিবুকে-
অতঃপর ফ্যামিলি আছে যেন দুঃখ জলের সাগর
সে জল চোখের পরে নামে শুধু একূল-ওকূলে!

হৃদয়ের ভেতর বাড়ে ব্যাকুলতা যেন 
শিলা শৈলগিরি নিরবতা,
যেন ধীরে ধীরে কাল উড়ে 
শুষ্ক পচনের কবলে কেতন হায় দুর্বল হাওয়া লাগায়
চিরচেনা মে দিবস

ইচ্ছে ডানা মেলতে মেলতে নীল রঙে কেউ কেউ দূর পানে! 
প্রিয় শুক্রবারের আকাশ নামে বেদনার গল্পে
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পথে দীর্ঘকাল ছুটে অবিরাম। 


শ্রমিক অসন্তোষ 
সুশান্ত কুমার দে 

শ্রমিকদের কার্যের সময়সূচি হয়না মানা
মজুরিও কম দেয় সকল শিল্প কারখানা।
হাড় খাটুনি খেটে ওরা, ন্যায্য পাওনা চায়
তবুও কেন টালবাহানা মুখ ঝাঁকুনি খায়?

প্রত্যেক শ্রমিকের ঝরে রক্ত জলের ঘাম
তাতেই ছড়িয়ে পড়ে- প্রতিষ্ঠানের সুনাম।
তবুও শ্রমিকদের উপর জুলুম অত্যাচার
সারাদিন পরিশ্রম করে পায়না অধিকার।

আট ঘণ্টা কার্য কর্মসূচি শ্রমিকদের দাবি
না মানলে ভেঙ্গে দেবে মালিকানার চাবি।
শিকাগোর 'হে মার্কেটে, উত্তাল প্রতিবাদে
এগারো শ্রমিকের শহীদে বিশ্বটাও কাঁদে।

মে মাসের এক তারিখে, পৃথিবীর সর্বত্রই 
আমেরিকা ইউরোপ জুড়ে পড়লো হৈচৈ!
রক্তক্ষয়ী; শ্রমজীবী- মানুষের আত্মাহুতি
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপ্ত অনুভূতি!


কাজের মূল্য চাই 
মজনু মিয়া 

বিনা বাতাসে গাছের পাতা নড়ে না,প্রবাদ যদিও 
মানতেই হবে টাকা ছাড়া অচল দুনিয়া। 
বিনিময় লাগবে এটাই যুক্তি শুদ্ধ কথা।
শ্রমিকের শ্রমে শরীরের ঘামে গড়ে উঠে শিল্প কারখানা, 
ন্যায্য মূল্য শ্রমিক পাবে, তাকে মূল্য দিতেই হবে। 
উন্নয়ন বাঁধা পাবে,কৃষি কাজ চলবে না।
রাস্তা ঘাট দালান কোঠা হবে না।
টাকার মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে, শ্রমিক থেমে গেলে। 
মিলেমিশে করি কাজ হারিজিতি নাহি লাজ।
এই সত্য কথাটা মানতে হবে শ্রমিক জিন্দাবাদ। 



কস্তুরি নাভিশ্বাস
সৌরভ দুর্জয়


ঘামের খিলানে কপাট এঁটে দেয়
বুর্জোয়া মহাজনের রোমশহাত
মুনাফার চিতায় পোড়ে
শ্রমিকের তামাটে তনুর দুইশ ছয় হাড়
ক্লান্তির সাগরে ডুবে ছাড়ে জীবন্ত দীর্ঘশ্বাস
অভাবের সুনামি ছড়ায় দুঃখের উপহাস
তবুও থামে না শ্রমিকের কস্তুরি নাভিশ্বাস
মহাজনের ঘরে এনে দেয় যা
বসন্ত দিনের সুখের বাতাস।


বকেয়া বেতন দাও
রহিম ইবনে বাহাজ


আমাদের কেউ কেউ গিলে  খাচ্ছে 
কলেবর ক্ষত বিক্ষত,
শ্রম দিচ্ছি
দম নিচ্ছি,
লাথি  খাচ্ছি
চড় খাচ্ছি, পুরো শরীর সপে দিয়েছি
মেনে নিয়েছি
আমরা শ্রমিক
কিন্তু আমরাও তো দেশ প্রেমিক
দেশকে ভালোবাসি দৈনিক
আমরাও তো  নিঅস্ত্র সৈনিক
ঘাম ঝরিয়ে দিচ্ছি।
অথচ, কারণে অকারণে
তোমরা সমস্ত শক্তি দিয়ে আঘাত করো
তবু ক্লান্ত হওনা তোমরা
বকেয়া বেতন দাও
আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত মোটা চাল
আর  শাক কিনব ।
কচি শিশুর জন্য  এক পোয়া দুধ কিনব,
বকেয়া বেতন দাও


আমি শ্রমিক 
অনন্য কাওছার 

রোদবৃষ্টি জোছনার জল 
নদীতরঙ্গ অথবা হিজল,
সবুজ দৃশ্যাবলিও আমার সংগ্রামের কথা জানে 
আমার হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সাক্ষী পৃথিবীর মানচিত্র
অথচ আমার অবহেলিত হাড্ডি, মেরুদণ্ড,
সবকটি হাড়গোড় বেঁকে গেছে 
কোনোভাবেই সোজা হয়ে দাঁড়ানো যাচ্ছে না  
আমার মাংসপেশি ক্ষয়ে ক্ষয়ে
তারপর যে ইতিহাস 
আমার ঘামের গন্ধে ভিজে ভিজে
তারপর যে মানবসভ্যতার ঝলমলে নগরী
আমার কাঁধের হাড্ডি ভেঙে ভেঙে 
তারপর যে আধুনিকায়ন
সেখানে আমি আজ তীব্র অবহেলিত 
আমি শ্রমিক—
কোনোভাবেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না। 
অথচ আমার জন্য কবিদের হাতে কলম
রাজার মাথায় রাজমুকুট

আরো পড়ুন..

আবদুর রাজ্জাকের কবিতা পড়ুন এখানে
অনিক খুরশীদের পড়ুন এখানে
চরু হক এর কবিতা পড়ুন এখানে 
প্রেমাাংশু শ্রাবণের কবিতা পড়ুন এখানে
সোমা দে'র নিবন্ধ পড়ুন এখানে
সিকান্দার কবিরের কবিতা পড়ুন এখানে 
তমিজ উদ্দীন এর কবিতা পড়ুন এখানে
আমিনুল ইসলামের কবিতা পড়ুন এখানে
জিল্লুর রহমান শুভ্র'র কবিতা পড়ুন 
রেজাউদ্দিন স্টালিন এর কবিতা পড়ুন
শামসুর রাহমানের গদ্য পড়ুন
নয়ন আহমেদ এর কবিতা পড়ুন
ভাস্কর চৌধুরীর কবিতা পড়ুন




Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন