গুচ্ছকবিতা
নয়ন আহমেদ
নয়ন আহমেদ
অচেনা
একদা আমি পৌঁছেছিলাম এক নতুন শহরে।
দেখলাম, মানুষেরা বানিয়েছে এক ঝকঝকা সভ্যতা।
বার্জারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রং তার।
চোখে ধাঁধা লেগে যায়।
উজ্জ্বলতা ঝিলমিল করে।
আমাকে তারা এক এক আভিজাত্য দেখায়।
আমি সুখের অভিধান দেখি।
বানান করে করে তাদের পার্থিবতা পড়ি।
দেখি, ধানের চিটার মতো নিষ্ফলতা।
আমি কিছু হাহাকার নিয়ে ফিরে আসি।
আমি কি ছিলাম অচেনা?
রাগ
বিকেলে ঝগড়ায় মত্ত হলো দুটো লাল গোলাপ।
একজন অন্যজনের শরীরে কাঁটা বিদ্ধ করলো।
দুজনই আহত হলো খুব।
রাগে মুখ ভার করে রইলো।
কথা বন্ধ হলো।
কোনও গোলাপ ফুটলো না কয়েক দিন।
দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলো।
পচা মাছের মতো গন্ধ বেরুলো তাদের রাগ থেকে।
পথিক নাক চেপে হাঁটতে লাগলো।
গোলাপদের আরো ঈর্ষা জাগলো,
গালিতে গালিতে ভরে তুললো চারপাশ।
কেউ গোলাপ ফুটতে দেখলো না কোনও দিন !
যুদ্ধ, মহামারি এলো গর্জন করতে করতে।
হত্যা ও জিঘাংসা এলো উৎসবের মতো।
মানুষ ভুলে গেলো বন্ধুত্ব,প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
সেই লক্ষ্মীছাড়া বিকেল থেকে হাজার হাজার বছর গত হলো!
মৃত ভাইয়ের মাংসের মতো আরও বিকট দুর্গন্ধ বেরুলো
তাদের রাগ থেকে।
গোলাপ আর কখনও তার ভাষাবিজ্ঞান ছড়ালো না !
প্রস্তাব
ওই যে চলে যাচ্ছে, প্রযুক্তি পড়ুয়া সুন্দরী
একা। তুমি তার কাছে
চেয়েছ গোলাপ। সৌন্দর্যের রূপকথা।
চেয়েছ উৎফুল্ল বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় শ্রাবণ
ভাদ্র আশ্বিন কার্তিক অঘ্রান
আর পৌষ মাঘ ফাল্গুন চৈত্রের
উপকথা।
একটি বাংলাদেশ।
একতলা বাড়ির মতোন প্রতিবেশী।
কিছুই বোঝে না সে।
আহা, আহা! কত রূপকথা বৃথা যায়।।
ঐহিক
সূর্য উঠেছে পাপড়ি মেলে।
ডানা মেলে দিয়েছে তাবৎ লাল রঙ।
এই দৃশ্য পড়তে পড়তে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে কিছু আহলাদ।
কদমফুলের মতো গোলাকার তার হৃদয়।
কেউ কেউ পাঠ করছে এইসব আবশ্যিক ভূগোল।
কী আশ্চর্য!
এই কথা জেনে পৃথিবী চুল আচড়াতে বসেছে।
article of law and literature : click here
লতিফ জোয়ার্দারের কবিতা পড়ুন এখানে
nobel prizev:2025 on litterature here
ইসলাম তৌহীদের কবিতা পড়ুন এখানে
মহসিন খোন্দকারের কবিতা পড়ুন এখানে
গল্প বরফের ছুরি পড়ুন এখানে
প্রবন্ধ,উত্তরাধুনিক কাব্যধারার যাত্রাঃ মতিন বৈরাগী-এখানে
রচনা
একটি সকাল- এই বিষয়ে আমাকে রচনা লিখতে বলা হলো।
কাগজ আর কলম নিয়ে বসতেই সেখানে হাজির হলো-
একটা পুরোনো সূর্য
নিত্যদিনের ব্যবহার্য মলিন চিরুনি
তেলচিটচিটে বালিশ
আর ময়লা বিছানা
একটা পায়াভাঙা চেয়ার
মাকড়সার জালবোনা রান্নাঘর
তার পাশে কিছুটা এলোমেলো বাসনকোসন।
আমি কিছুই লিখতে পারলাম না।
মা ডাকলেন রুটি খেতে।
চা আছে একপেয়ালা।
জানালা দিয়ে তাকালাম বাইরে।
আমাদের বরবটির মাচানে
কয়েকটা শালিক পোকামাকড় আহার করছে।
বোন তাড়া দিচ্ছে বাজারে যেতে হবে।
আমি যেন দেখলাম খাতাজুড়ে রোদ
আর সমস্ত ঘরদোর ও উঠোনে নাচানাচি করছে সকাল।
জুঁই
এমনও ঘটছে, বায়ু প্রবাহিত হয় দিগন্ত জুড়ে।
তখন চারারোপণের কাল।
হৈমন্তিক ধান ফলবে মাঠে মাঠে।
এই কল্পনাহেতু কৃষকই ভবিষ্যৎ হয়ে যায়।
কিংবা ভবিষ্যৎ মানেই কৃষক।
আমিও আশাবাদী খুব।
একটা ফুলের বাগান করবো এবার।
দেখেছি আনন্দে,
তোমার নিশ্বাস থেকে ফুটে উঠছে থোকা থোকা জুঁই।
ভাত
ভাত দে, মা।
এই ভাতে মিশে আছে ভোর ভোর রঙ।
পরম বিকেল।
মৃদু উত্তাপ।
জ্যোৎস্নামাখা বর্ণমালা।
আগুনের সুসিদ্ধ কণা।
তোমার হাতের ওম।
আর বোন বোন ঢেউ।
ভাত খাবো।
জুঁইফুল-ভাত মিশে যাচ্ছে
আগামীর একটা সকালের সাথে।
ছাতা
দুঃখ নামছে রাতদিন- ছাতা মেলে ধরো।
কান্ন নামছে ছমছম-ছাতা মেলে ধরো।
বিষাদ ছেয়েছে হৃদয়-ছাতা মেলে ধরো।
কষ্ট নামছে রিমঝিম- ছাতা মেলে ধরো।
হতাশা নামছে জুবুথুবু- ছাতা মেলে ধরো।
বেদনা নামছে অবিরাম- ছাতা মেলে ধরো।
কালো হাহুতাশ নামছে টাপুর টুপুর- ছাতা মেলে ধরো।
কুয়াশা নামছে কেবলই- ছাতা মেলে ধরো।
আনন্দ আর উচ্ছ্বাস বাঁচাও।
ছাতা ধরো। ছাতা ধরো।
চেনা
নিবিড়তা স্বপ্নঘুমে।
আশ্রয়প্রত্যাশী। লাউমাচা-ভোর।
দ্যাখো, দোয়েল-শালিক পেখম ছড়াবে একদিন।
এইতো রোদের মাঝে ফেরা।
উঠোনে কে মেলে দিলো রাঙা ভোর?
চিনি তারে।
এখনই ঘরে তোলো।
আলনায় সাজাও।
রচনাবলি
দেখলাম,মীমাংসিত কিছু গোল উচ্ছ্বাস; রোদে রোদে নিচ্ছে নিশ্বাস।
এইগুলো ভ্রাতৃত্বস্বভাবী; বন্ধনের সুতো হয়ে ঝোলে।
এইগুলো ভগ্নি ও মমতা; লাটিমের মতো ঘোরে স্নেহ ও প্রীতিতে।
এইসব মাতৃত্বের ঋজু স্বর; গৃহ ও মাটির দিকে টান।
আমি দেখেছি মনজতৃষ্ণা;
চায়ের লিকারে লিকারে আনে মনোযোগী ধোঁয়া।
ওহে, গোল উচ্ছ্বাস !
দেখেছি, ঘাসের রচনাবলি মুখস্থ জানে।

নয়ন আহমেদ বরাবরই ভালো কবিতা লেখেন। আজকের কবিতাগুলো উৎকৃষ্ট মানের -- সাবলীল ভাষায় অপেক্ষাকৃত চেনাজানা চিত্রকল্পে গভীর ও হালনাগাদ যাপনের ছবি।
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks