সাব্বির আহমাদ এর গুচ্ছ কবিতা।। cluster poem by sabbir ahmad

  

সাব্বির আহমাদ। কবি

 সাব্বির আহমাদ এর গুচ্ছ কবিতা

    বাঁকুড়ালি হাওয়া


এই রাত বয়ে যাওয়া বাতাসের। বাঁকুড়ালি হাওয়া বারবার ছুঁয়ে যায় আবহের সোনালু পিঠ। জানো, অন্ধকার এক ঘোর আদিম। আর তুমি সেই অঘোর চক্র, শরীরের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে রাখো নেশাভেজা পিদিম। মহুয়ার গন্ধমাখা গান তোমাকে গেয়ে শোনায় রাতের হুতুম পেঁচা।

এই অহেতুক জেগে থাকা আমাকে ভুলিয়ে দেয় দশমিকের সমীকরণ। আমাকে শেখাও হিসেব, গণিতের গোপন মারপ্যাঁচ। যেন তোমার চোখের ভিতর ডুবে গিয়ে আমি শিখে নিতে পারি সমস্ত ভুলেরও একেকটা নির্ভুল ব্যাখ্যা।
আমার ঘরের চাতালজুড়ে ম-ম করে সিদ্ধ ধানের উষ্ণ গন্ধ। সখি, এই গন্ধ, এই মাতাল রাত, তোমার সুডোল বুকে হামলে পড়ার উন্মত্ততা— আমাকে থেকে থেকে ক্ষতবিক্ষত করে সারারাত।



উনপ্লাবন

সমান্তরাল দূরত্বে ছড়িয়ে আছে প্রাগৈতিহাসিক ঘাঁটিগুলো। এখানে প্রতিটি বিন্দু পরিমাপহীন; উচ্চতায় তারা ছাড়িয়ে যায় সম্ভাব্য সব হিমালয়। দৃষ্টিকোণ এতো নিখুঁত গোল যে চোখের ভিতর দানা বেঁধে পলকে পলকে অদৃশ্য হয়ে যায় দৃশ্য। দশক পেরিয়ে যায়। কথাহীনতার ভেতর দিয়েই, তবু তোমার মনে  জন্মায় না কোনো আকাঙ্ক্ষা। 

প্রেমহীন একটি প্রহর উনপ্লাবনের স্রোতে ভেসে যায় নিঃশব্দে। এই গ্রামে পাখিদের সকাল হয় না। পালকগুলোর নিস্পন্দ শরীর; সারাদিন বেতাপ জ্বলতে থাকে। সন্ধ্যা নামলে অন্তরে জন্ম নেয় এক কামুক ডাক— দূরত্বের যত বন্ধন, ভোগের যত সন্তাপ, সবকিছু তখন কুয়াশার মতো উষ্ণ হয়ে ওঠে।


বেতফল

বেবাক সন্ধ্যা, আমার বিষের ব্যথা নীল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মুখে।শুনলাম, তোমার পাথরীয় অবকাঠামোতে অনেকদিন বাদে অঙ্কুরিত হয়েছে এক বেতফল। এমন সুবাসমাখা অবগাহনে তুমি কেন সরিয়ে নাও নীল চোখ? বুকের পিঞ্জিরায় দিনদিন দানাবাঁধে শূন্যতা। বহুদূর চাঁদের বিকিরণে ভিজে পড়ে পৃষত ঠোঁট। তোমার কাঁচুলির বোতাম খোলা, শানাই। মুগ্ধতার ধ্বংসনে একজোড়া চোখে টইটম্বুর করে সর্পিণীর বিষ।


পাপড়ি বুক

যে ভিষণ মুগ্ধতায় তুমি দগ্ধ করো ফুল।
তোমার ভার সয়বার ক্ষমতা নেই একটা ভেজা পাপড়ির।
এতো নরোম আর ফুরফুরে বাসাত;
তুমি হয়তো ভাবছ এই পথে কোনোদিন পাড় হয়'নি 
শীতের শালিক।


পাতার স্তুপ জমে আছে চোখে, 
শুকনো ঠোঁট ঠিক খুঁজে নেয় মখমলি ওম।
তুমি কান্নার ভঙ্গিমায় ঘুমিয়ে পড়ো রোদের কোলে।
আর দুপুরের পরছায়ায় হাতরে হাতরে খুলে ফেলো
তোমার হুকখোলা পাপড়ি বুক।



কাফকা

শেষ একটা বিন্দুর পিছনে ছুটছি অন্তত কাল ধরে।
একটা বিন্দু, খুব পরিমিত এবং গোল।
হাঁটলে যতক্ষণে পৌছা যাবে একটা গহীন বনে;
পায়ের নিচে সে পথটা মনে হয় একটা ধাতুর মাইনর।
রাশি রাশি পোকারা বেয়ে উঠছে মাথায়।
রাশি রাশি পোকারা কিলবিল করছে চোখের ভিতর—
কাফকায়েস্ক ভঙ্গিমায়। 

এই পথ, এই বন আর একটা কালো কাক অন্ততকাল ধরে বিন্দু হতে বিন্দু হয়ে অতিক্রম করছে আমার সাথে।


আরো পড়ুন....

কবি আমিনুল ইসলাম মুল্যায়ন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে 
ড. আলী রেজার প্রবন্ধ পড়ুন এখানে ক্লিক করে
মোহাম্মদ জসিমের ভিন্ন রঙের কবিতা পড়ুন এখানে
জিল্লুর রহমান শুভ্র'র ভিন্ন স্বাদের কবিতা পড়ুন এখানে
ওপার বাংলার বিখ্যাত কবি রবীন বসুর কবিতা পড়ুন ক্লিক
ওপারের কবি তৈমুর খানের কবিতা পড়ুন এখানে

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন