রাহমান ওয়াহিদ’র গুচ্ছ কবিতা।।poems by raahman wahid.kuasha

রাহমান ওয়াহিদ’র গুচ্ছ কবিতা

এক নদীর হৃদয়

গাঢ় স্তব্ধতায় মুখের কথারা থামে
কালো কালো পায়ে হিমেল সন্ধ্যা নামে
কার যেন চিঠি আসে মুখ খোলা খামে।

কে পাঠায় লাল নীল কথার বিনুনি গাঁথা
কে বা চায় চঞ্চল হতে ভাঙা ঘুম রাত?
তবুও প্রতীক্ষায় ঝিমায় ক্লান্ত সময় 
ভেঙে ভেঙে জেগে থাক এক নদীর হৃদয়।

মানুষের মতো কেউ কি হেঁটে যায় একা?
অথবা মানুষ নয়, অন্য কিছু, মেলে না দেখা- 
যেন ছায়া কারো, রেখে যায় দিকচিহ্নহীন রেখা।



বোঝাপড়া

আসছ আষাঢ় কিংবা আশ্বিন
কিছু ভুল-ভ্রান্তির অনুসঙ্গ নিয় 
শেষ বোঝাপড়াটা হয়ে যাক।

পাঁজরের বুক পকেটে
কিছু খাোজাখুঁজির বিষয়াদি আছে।
বিশ্বাসী হাড়ের মজ্জায় কিছু 
খোঁড়াখুঁড়ির কাজও রয়ে গেছে বাকি।

এসব ঝুট-ঝন্ঝাট মিটেমুট যাক
তারপর কান এক বাবারাত 
করোটি খুলে না হয় দেখে নেব
আসল আমরা অরণ্যে লুকাতে গিয়ে 
কান মায়ামগক অনর্থক পুষেছিলাম কিনা


নষ্ট পোড়া চাঁদ

জমিয়  রাখি ঘাম রাদ,ধুলোরঙ,তিতাজল
জমিয় রাখি ভাঙা রাত,নক্ষত্র আঁধার
তুলে রাখি শশ্বী শুকনা কাজল
তুল  রাখি ছেঁড়া মেঘ,কানা রাধার। 

না পেয়েও পেয়েছি ভবে লিখে রাখি প্রেম
লিখে রাখি মনীরা খানম,লিখ  রাখি হেম।
কিছুই ফেলি না,রেখে দিই নষ্ট পোড়া চাঁদ
রেখে দিই না রাখা কথার কষ্ট নিনাদ।

ঢেকে রাখি পুষ  রাখা পাথুরে হৃদয়
ঢেক  রাখি মুখরতা নির্জনতার
ঢেকে রাখি মরা নদী,নিশি ডাকা ভয়
ঢেক  রাখি জল ঢাকা দিঘি ও পাথার।


ছায়ারা হাঁটে

আমি হাঁটি না। আমার ছায়ারা হাাঁটে। 
হেঁটে হেঁটে হিসাবের খেরোখাতা ঘাঁটি।
আমি ডাকি না। আমার ছায়ারা ডাকে। 
ডেকে ডেকে মাথা রাখি ঈশ্বরের নাকে।

আমার কান তাড়াও নাই যে যাবা। 
আমার ছায়াদর বড় তাড়া। 
তারা মরা বৃক্ষর মগডাল উঠে
আকাশর ম্যানহাল ঢাকা।

আমি দুপুরর পায় নূপুর পরিয় 
অখন্ড সবুজ দেখতে চেয়েছিলাম  
তোমাকই। ছায়ারা যে তোমাকে দেখলো
তা আমারই ফেলে আসা খন্ডিত পান্ডুলিপি। 

এখন অভ্যসটা হয়ছে এমন যে
ঘুম অঘুম শুধু বেনামী ছায়াকেই দেখি 
ছায়াকেই তোমার ভুল নাম ধরে ডাকি। 

হাত

ঠিক বোঝা গল না।
কাল বর্ষারাত তুমি-তুমিই ছিলে তা?
উর্দ্ধে মেয়েটি আঁধারি পাঁজর খুলে
তোমার পাশে এসে দাঁড়াতেই
তুমি কালো সিগ্রেটটা অনাবশ্যক পোড়ালে। 
ধাোঁয়াটা উড়ে উড়ে ভেজা কুয়াশা হলো।
কথা হলো কি হলো না,বষ্টি নেমে এলো।

ঘুম কাতুরে মেয়েটি তোমারই হাত বালিশে
মাথা ছুঁয়ে ঘুমালো, কি ঘুমালো না
টুকরা মেঘের ছায়ায় ইতস্তত ছড়িয় গ্যালো।
ঠিক বোঝা গেলো না।
হাতখানি কি তোমারই হাত...আই মীন... 
তোমারই ছিল কি?


টান

ঘুম নেই  রাত্রির ঘুম চোখে আকাশের
বুক চুয়ে ঘাম নামে ,শীত পায় বাতাসর।
তারাদের মেঘমুখ,মুখ খালা নারীদের
সবুজর রঙ নেই,ধূম শুক-সারিদের। 
ছেঁড়া তার জড়ানো পাড়ের রঙ শাড়িতে
কার যেন বিয়ে আজ টান পড় নাড়িতে।

সিদ্দিক প্রামাণিক এর কবিতা পড়ুন এখানে
আযাদ কালামের কবিতা পড়ুন এখানে
বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন
মাসুদ মুস্তাফিজের কবিতা পড়ুন এখানে
অমিত চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে
বড় ও বিখ্যাত কবির কবিতা পড়ুন এখানে

রহস্য বীজ

করতলে লুকানো যে রহস্য বীজ
তাকে তুমি অঙ্কুরিত করো।
আমরা ঘাসপথ ছেড়ে পিচকালো মসৃণ যারা
মরুর অরণ্য ছেড়ে সমুদ্র নীল মন যারা।

প্রিয় সব হৃদ-মনন জন্মছে যে বাদুড় কুয়াশা
তাকে তুমি উন্মাচিত করো।
আমরা মত চদন ছেড়ে সপ্রাণ জীবন যারা
কুর্নিশী খাোলস ছেড়ে সৃষ্টির কঙ্কর যারা।

শব্দোর ভেতরই যে নিঃশব্দের ধুলিঝড়
তাকে তুমি দৃশ্যমান করো।
আমরা সমস্ত ক্ষরণ ছেড়  চম্পক শুদ্ধতায় যারা
সৃষ্টির কুহক ছেড়ে কাচস্বছ কর্নিয়ায় যারা।

খন্ডিত আকাশ

বধিরর অপূর্ণতা নিয়েই বৃষ্টির কুয়াশায় 
উঠে এলো রোদ মেঘর ঢাকনা। 
শিকড় স্পর্শ ছাড়াই খুলে গ্যালো 
পাঁজরের খোলস। অনিবার্য বিচ্ছেদের বিবর
জেগে ওঠে দ্বিধান্বিত ঝাউবন। 

তোমাকে আর খুলে দেখা হলো না। 
দু’টুকরা সময়র ভেতর আজো
নির্লিপ্ত ঝুলে আছা তুমি খন্ডিত আকাশে। 

         

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন