আদ্যনাথ ঘোষের একগুচ্ছ রোমাণ্টিক কবিতা
সেই তুমি আমি
সেই তুমি আমি আজো আছি
নেই শুধু তোমাকে এক পলক দেখার
আমাদের সেই সব
দীর্ঘ প্রলম্বিত প্রতীক্ষার দিন।
তোমাকে কাছে পেতে বহুপথ হেঁটেছি
ধুলোয় ধুলোয় ধূসর হয়ে
কখনও বা শ্রাবণের বৃষ্টিতে
ভিজেছি।
সহসা একদিন তীর্যক বর্ষণে
একটি ছাতার তলেও ভিজেছি দু’জনা
আহা! সেই দিন যেন জীবনের সবটুকু পাওয়া
আজ দেখো ছাতা নয়
একই ছাততলে একই বিছানায়
পাশাপাশা শুয়ে আছি—
নদীজলে যেন ভেসে যায় এক জোড়া লাশ!
তাই ভাবি-
চমকের নেশা কীভাবে ছুটে গেছে
তুমি আমি তার যেন কিছুই জানিনা
তবুও উঠে আসে
বড় বড় দীর্ঘশ্বাস।
যমুনার জল
স্পর্শগুলো ভুলে গেলে শ্রীরাধিকা।
আগুনের গোলা বুকে নিয়ে
ফুলেরা মিছিল করে।
সিদ্ধপুরুষও মতিভ্রম হয়।
শতদলপদ্ম জলে ফোটে—
রাঙা জলে জ্বলে ওঠে
ফুটন্ত বসন্ত।
আগুনকে—
দাউদাউ পোড়ায়।
চারদিক আগুন পোড়ে—
পাড় ভাঙে।
জ্বলে জ্বলে জল হয়
পিপাসা মেটায়।
শ্রীরাধিকা,
তোমার আমার অনুভব যমুনার জল।
আকাশে ডানা মেলে
তোমার হৃদয়ের গোপন গান
বসন্ত বাতাসের ডানায় ভর করে
সকলকে ছাড়িয়ে সব পথ ফেলে
আকাশের পানে মেঘের রাজ্যে
কেন বারে বারে উড়ে যায়
ফেলিয়া তোমার দেহ—তনু—মন
কাহারে ভালোবাসো সখি?
নিবিড় ভালোবাসার সংগীতে
কী গান শোনো অই নক্ষত্রপুঞ্জে
আর দূর অশেষ নীলিমার কানে
কী চাওয়া তোমার গোপন প্রাণে
তোমাকে পাবার আশায়
ঝরাপাতার মতো নিজেরে ছেড়ে
বহুবার তোমার বৃক্ষতলে
লুটিয়ে পড়েছি চৈতি হাওয়ার দাপটে
ঘুমাতে চেয়েছে সে
তোমার ছায়াতলে
পাতাহীন তুমিও মৃত বৃক্ষের মতো
আকাশে মেলে ডানা
হারিয়ে ছিলে তুমি
আপন স্বর্গ ভুবনে।
যদি তুমি এসে
এইসব শিশিরভেজা ফসলের মাঠ
নতুন ভোরের সোনালি রোদ্দুর,
কৃষকের হাসিমাখা মুখ,
নদীর শীতল জল, নীল নীল আকাশ
একবুক তরতাজা যৌবন পলাশ
এইসব নতুন দিনের উথলে ওঠা সবুজ
নতুনের প্রত্যাশায় উঠবে জেগে
যদি তুমি এসে-
ভালোবেসে হাতখানি ধরো।
বিস্মৃতি
কে যেন একটি ফুল দিয়েছিল
না দেবার ছলে এসেছিল খানিকটা কাছে
যতটুকু না আসলে চলে
কিশোরী কৈশোরেই হারিয়ে গেছে;
তবুও তার বিমলিন স্মৃতি
রয়ে গেছে মনোজের বকুল বৃক্ষে।
আকাশের নক্ষত্ররা ঝরে গেছে
সেখানেই বহুকাল ধরে।
অথচ তারুন্যের সেই নিবিড় ঘন আমবন
আর মৌরি নামের হরিকাকার মেয়েটি
নীরবে উধাও হয়ে গেছে
তারুন্যের আকাশ থেকে।
মৃত্যুর কফিন থেকে
আজ সিথানে দাঁড়ালো দুঃখ
তুমি নেই বলে
একা একা রাত কাঁদে
আঁধারে লুকিয়ে
দূরে জ্বলে চিতাকাঠ
গোপন ইশারা করে
কাঁদো দুঃখ কাঁদো
তুমুল জোয়ারে-
অলীক ট্রেনের গোপন জানালা খুলে।
মৃত্যুর কফিন থেকে
তুমি চেয়ে চেয়ে থেকো।
ভালোবাসার বহুগামিতা
ভালোবাসা বহুমুখী হয়
তোমার ভালোবাসা কোন মুখী?
মেয়েরা ভালোবেসে ছেলেমুখী হয়েছে
পুরুষ ভালোবেসে নারীমুখী হয়েছে
ভালোবেসে নদী সাগরমুখী
মেঘ ভালোবেসে বৃষ্টিমুখী।
বাতাস ভালোবেসে ঝড়মুখী
আগুন ভালোবেসে উধ্বমুখী
মাটি ভালোবেসে অরণ্যমুখী
আমি ভালোবেসে বিরহী
নির্জনতায় সুখী-
শুধু জানা গেলো না
তুমি ভালোবেসে কেন এতো দুখী!
তোমাকে দেখাবো
যমুনা নদীর তীরে বসে
তোমাকে দেখাবো পূর্ণিমাচাঁদ
সেখানে তোমাকে বাসবো ভালো
এই ছিল সাধ।
আশা ছিল পালঙ্কবিতানে
জীবনের বাদ বাকি পথ;
অথচ পথে নামার আগেই
আমাকে ছেড়ে তুমি
অদৃশ্য হয়ে গেলে
রাতের কালোতে।
এ-রহস্যের কারণে কাকে যে শুধাই
প্রণয়ের পথ সর্বদা চড়াই।
চৌষট্টিকলা
এই সব গোধুলির ম্রিয়মান আলো
এই সব প্রণয়ের স্বরে বিদ্ধ ভালোবাসা
মৃত্তিকার নির্বাসনের কুশ্রীতার প্রহসন
সব কিছু বর্জনে; প্রণয়ের পিচ্ছিল দিশা ছেড়ে
তোমার পথের পানে চেয়ে থাকি অনুপল
প্রত্যহ অভ্যস্ত নয়নে
যদি আসো একবার আমার গৃহদ্বারে
লজ্জাহীনা মহান জোছনামাখা শর্বরীর মতোন
সেই তুমি আমি
সেই তুমি আমি আজো আছি
নেই শুধু তোমাকে এক পলক দেখার
আমাদের সেই সব
দীর্ঘ প্রলম্বিত প্রতীক্ষার দিন।
তোমাকে কাছে পেতে বহুপথ হেঁটেছি
ধুলোয় ধুলোয় ধূসর হয়ে
কখনও বা শ্রাবণের বৃষ্টিতে
ভিজেছি।
সহসা একদিন তীর্যক বর্ষণে
একটি ছাতার তলেও ভিজেছি দু’জনা
আহা! সেই দিন যেন জীবনের সবটুকু পাওয়া
আজ দেখো ছাতা নয়
একই ছাততলে একই বিছানায়
পাশাপাশা শুয়ে আছি—
নদীজলে যেন ভেসে যায় এক জোড়া লাশ!
তাই ভাবি-
চমকের নেশা কীভাবে ছুটে গেছে
তুমি আমি তার যেন কিছুই জানিনা
তবুও উঠে আসে
বড় বড় দীর্ঘশ্বাস।
যমুনার জল
স্পর্শগুলো ভুলে গেলে শ্রীরাধিকা।
আগুনের গোলা বুকে নিয়ে
ফুলেরা মিছিল করে।
সিদ্ধপুরুষও মতিভ্রম হয়।
শতদলপদ্ম জলে ফোটে—
রাঙা জলে জ্বলে ওঠে
ফুটন্ত বসন্ত।
আগুনকে—
দাউদাউ পোড়ায়।
চারদিক আগুন পোড়ে—
পাড় ভাঙে।
জ্বলে জ্বলে জল হয়
পিপাসা মেটায়।
শ্রীরাধিকা,
তোমার আমার অনুভব যমুনার জল।
আকাশে ডানা মেলে
তোমার হৃদয়ের গোপন গান
বসন্ত বাতাসের ডানায় ভর করে
সকলকে ছাড়িয়ে সব পথ ফেলে
আকাশের পানে মেঘের রাজ্যে
কেন বারে বারে উড়ে যায়
ফেলিয়া তোমার দেহ—তনু—মন
কাহারে ভালোবাসো সখি?
নিবিড় ভালোবাসার সংগীতে
কী গান শোনো অই নক্ষত্রপুঞ্জে
আর দূর অশেষ নীলিমার কানে
কী চাওয়া তোমার গোপন প্রাণে
তোমাকে পাবার আশায়
ঝরাপাতার মতো নিজেরে ছেড়ে
বহুবার তোমার বৃক্ষতলে
লুটিয়ে পড়েছি চৈতি হাওয়ার দাপটে
ঘুমাতে চেয়েছে সে
তোমার ছায়াতলে
পাতাহীন তুমিও মৃত বৃক্ষের মতো
আকাশে মেলে ডানা
হারিয়ে ছিলে তুমি
আপন স্বর্গ ভুবনে।
যদি তুমি এসে
এইসব শিশিরভেজা ফসলের মাঠ
নতুন ভোরের সোনালি রোদ্দুর,
কৃষকের হাসিমাখা মুখ,
নদীর শীতল জল, নীল নীল আকাশ
একবুক তরতাজা যৌবন পলাশ
এইসব নতুন দিনের উথলে ওঠা সবুজ
নতুনের প্রত্যাশায় উঠবে জেগে
যদি তুমি এসে-
ভালোবেসে হাতখানি ধরো।
বিস্মৃতি
কে যেন একটি ফুল দিয়েছিল
না দেবার ছলে এসেছিল খানিকটা কাছে
যতটুকু না আসলে চলে
কিশোরী কৈশোরেই হারিয়ে গেছে;
তবুও তার বিমলিন স্মৃতি
রয়ে গেছে মনোজের বকুল বৃক্ষে।
আকাশের নক্ষত্ররা ঝরে গেছে
সেখানেই বহুকাল ধরে।
অথচ তারুন্যের সেই নিবিড় ঘন আমবন
আর মৌরি নামের হরিকাকার মেয়েটি
নীরবে উধাও হয়ে গেছে
তারুন্যের আকাশ থেকে।
মৃত্যুর কফিন থেকে
আজ সিথানে দাঁড়ালো দুঃখ
তুমি নেই বলে
একা একা রাত কাঁদে
আঁধারে লুকিয়ে
দূরে জ্বলে চিতাকাঠ
গোপন ইশারা করে
কাঁদো দুঃখ কাঁদো
তুমুল জোয়ারে-
অলীক ট্রেনের গোপন জানালা খুলে।
মৃত্যুর কফিন থেকে
তুমি চেয়ে চেয়ে থেকো।
ভালোবাসার বহুগামিতা
ভালোবাসা বহুমুখী হয়
তোমার ভালোবাসা কোন মুখী?
মেয়েরা ভালোবেসে ছেলেমুখী হয়েছে
পুরুষ ভালোবেসে নারীমুখী হয়েছে
ভালোবেসে নদী সাগরমুখী
মেঘ ভালোবেসে বৃষ্টিমুখী।
বাতাস ভালোবেসে ঝড়মুখী
আগুন ভালোবেসে উধ্বমুখী
মাটি ভালোবেসে অরণ্যমুখী
আমি ভালোবেসে বিরহী
নির্জনতায় সুখী-
শুধু জানা গেলো না
তুমি ভালোবেসে কেন এতো দুখী!
তোমাকে দেখাবো
যমুনা নদীর তীরে বসে
তোমাকে দেখাবো পূর্ণিমাচাঁদ
সেখানে তোমাকে বাসবো ভালো
এই ছিল সাধ।
আশা ছিল পালঙ্কবিতানে
জীবনের বাদ বাকি পথ;
অথচ পথে নামার আগেই
আমাকে ছেড়ে তুমি
অদৃশ্য হয়ে গেলে
রাতের কালোতে।
এ-রহস্যের কারণে কাকে যে শুধাই
প্রণয়ের পথ সর্বদা চড়াই।
চৌষট্টিকলা
এই সব গোধুলির ম্রিয়মান আলো
এই সব প্রণয়ের স্বরে বিদ্ধ ভালোবাসা
মৃত্তিকার নির্বাসনের কুশ্রীতার প্রহসন
সব কিছু বর্জনে; প্রণয়ের পিচ্ছিল দিশা ছেড়ে
তোমার পথের পানে চেয়ে থাকি অনুপল
প্রত্যহ অভ্যস্ত নয়নে
যদি আসো একবার আমার গৃহদ্বারে
লজ্জাহীনা মহান জোছনামাখা শর্বরীর মতোন
একটি চুম্বন দিয়ে তোমাকে শেখাবো
কামের চৌষট্টিকলা।
যমুনার জল
কতো দুঃখ ভেসে গেছে
স্বপ্নের মায়াবী মন্দিরে
একদা কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে
শুকিয়ে গিয়েছিল
যমুনার জল।
সে অলীক দুঃখে
কালের রাধাকে
স্নান সমাপনে
কৈলাসের তুষারগুচ্ছ
গলে গলে
নেচেছিল সেদিন-
আবার যমুনার জল।
প্রতীক্ষা
তুমি আজ আসবে না, তুমি আর আসবে না
তুমি কি অন্য কোথাও যাবে ?
জ্যোৎস্না ভরা অরণ্যের অভিমানী কোলাহল
থেমে গেলে সংগোপনে
শেষ রাতের আঁধারে একবার উঁকি দেবে?
অভিমানে ভরা তোমার না পাওয়াগুলো
প্রণয়ের প্রকৃত বাসনায় মোড়া
সুখ নামে শরীরে; দু’চোখে ঘুমের রেশ
নিদ্রার পরীরা ঝাঁক বেঁধে নেমে আসে
কী শীত বা গ্রীষ্মের রেশ
এ সব বড় কথা নয়
প্রিয়তমা তুমি জগৎজুড়ে আমার
একমাত্র কপিলা।
তুমি এক প্রত্ন প্রেম,
তুমি দেহের ভিতরে নিভৃতে ফোটা
আমাদের যুগ্ম পৃথিবীতে প্রথম প্রেমের ফুল।
মনে পড়ে
দেখি নাকো চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর মায়াভরা রাত
ঐ হেমন্তের কাশবনের শুভ্র ফুলে-ফুলে
কতোদিন তুমি আর আমি-
সময়ের প্রবাহে আজ আর নেই কোনো
দীপ্তিময় আলোর কিরণ
হৃদয়ের উপত্যকায় ঝরোকায়;
ঐ দূর থেকে ভেসে আসে বেহুলার
করুণ সুরের গান-
এ নগর নরক স্বভাবে ক্রমশ শৃগালি মন্ত্রে
বিমুগ্ধ প্রাণে বেড়ে ওঠে; ফুলেফেঁপে যায়
নাগরিক মানুষে-ফানুসে এই তার রূপ
যৌবনে কামরাঙা নারী নিয়তির শৃঙ্খলে বাঁধা এক
অলীক নৃত্যের নর্তকী
তুমি আর আমি।
ইচ্ছে
নদীর ভিতর দিয়ে নদী হয়ে যাওয়া
অলৌকিক একটা নদী
বুকে তার ছলছল ছোট-বড় ঢেউ
কী নিবিড় গভীর আবেগে
আমাকে পুনশ্চ ডাক দেয় সে
তরুলতা ছাওয়া নবীন প্রেমের ঘাটে।
ঘুমুতে পারিনা আমি প্রস্ফুটিত জোছনায়
বুঝি না লক্ষ-কোটি তারারা কেনো ওভাবে ফুটে রয়
অনেক হয়েছে বেলা সময়ের তরি নিয়ে
কতো নদী পাড়ি দেবো
এভাবে কামের মরুঝড়।
স্মৃতিকথা
টলমলে যৌবনে উতল হয়ে
জল মহলে গিয়ে দেখি—
জলপরি শুয়ে আছে
হয়ে প্রণয়ের নগ্ন দেবী—
আমি তো হতবাক!
একটি বার ছুঁব নাকি! দেবো নাকি চুমু!
একদা স্থলদেবী বলেছিল ফুলতলে এসো
চুমু দেবো চোখে-মুখে
ওষ্ঠ ও গ্রীবায়
পুলকিত হবে দেহ মন
উষ্ণতা ছড়াবে শিরায় উপশিরায়—
বহুকাল পরে মনে পড়ে সেই
কিশোর বেলার বনদেবীর কথা
আজ আমি হতবাক!
একবার ছুঁব নাকি দেবো নাকি চুমু।
নিশিকাব্য
মাঝে মাঝে তার লাগি একটি
কবিতার কথা ভাবি—
স্থলপরী সে জনারণ্যে হেঁটে চলে
একাকী ঘুমের ভিতরে হয়ে ওঠে বেগানা রমণী
প্রাকৃত বাস্তবে আমি তো তারই জন্যে কবি।
কেননা সাঁতারে মাতাল হয়ে পাতালে গিয়েও
তাকেই শুধু দেখি।
ঘুমের গহিন থেকে জাগিয়ে তোলে আমাকে
ওই ধিঙ্গি নারী- হীম হীম হেমন্তের রাত জুড়ে
তবু তাকে নিয়ে কবিতা রচি—
কী যে তার চঞ্চলতা! কী যে তার চলৎ গতি!
গ্রীবা নাচিয়ে এপাশে-ওপাশে চায়
চাঁদের দেখা পেলে প্রকাশ্যে চুম্বন রাখে
পাতায় লেগে থাকা গণিকা জোছনায়।
কী হবে শিরোনাম! নাকি
কবিতা হবে শিরোনামহীন
সে শুধুই কেনো চঞ্চল বনহরিণী
নাকি মেঘের ওপাড় থেকে
ভেসে আসা অদ্ভুত অপ্সরী
সে কি ফুল, পাখি, প্রজাপতি?
না আমার প্রিয় শীতের
ছোট্ট মৌটুসি পাখি।
বসন্তবচন
সহসা সন্ধ্যায় জোছনার বন্যা নামে
প্রণয়ের খুনশুটি নিয়ে
প্রেমিক হৃদয় উছলে ওঠে প্রকৃতির
নতুন ঝলমলে কিশলয় দেখে
ফুলভারে অবনত বনজবৃক্ষ
লেগেছে আগুন যেনো ফাগুনের আগমনে
নেভানো যাবে না ঐ দৈবিক আগুন আজ
সরে আসে সমীরণ—
বাঁধভাঙ্গা ভালোবাসার প্রিয়
এই বাসন্তী লগন।
চাপা চাপা স্বরে, দীর্ঘশ্বাস বাড়ে
আকাশটা যেনো স্বপ্নের সাগর
তথা থেকে হীম হীম হাওয়ায়
মেতে ওঠে রক্তের নাচন
স্মৃতিগুলো তখন—
হয়ে ওঠে মৃতের কাফন।
রঙের কামকলা
যৌবনের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার
মেতেছে আজ রঙিন উৎসবে—
আবিরের ফাগুন রঙে— চন্দ্রের অনুরাগে
জোয়ারে ভেসে যাবে নিঃসঙ্গ গাং
স্মৃতিতে শুধুই রয়ে যাবে
একমুঠো কামাতুর প্রেমিকার
অধরের চুম্বন।
স্বমেহন স্বরে গোপন শীৎকার ধ্বনি
বেজে ওঠে হৃদয়বীণার তারে তারে
কতো যে আদরের মধুমাধা যৌবন
পরাগের কামকলা খেলে যাও তুমি
জোনকির মিটি মিটি আলোর সাথে নিয়ে
রমণী সভায় নেচে ওঠো
হয়ে এক কামুক ময়ূরী।
অবাক নীরবতা
কৈশোরের দুরন্ত দুপুরে নর্তকী পায়ে কিশোরীরা
নদী পথে হেঁটে গেলে চিতাবাঘ প্রেমিকেরা
বিরহ কাকের আর্তনাদ ছেড়ে
লিখে যায় প্রেমভরা জোছনা আর নদীর কথা
রূপকথা ডেকে আনে তারাভরা
রাতের যতোসব প্রণয়ের উপকথা।
সেখানে অপূর্ব পরী একাকী বেড়াতে আসে
এইভাবে একদিন তাহারই ভেতরে জেগে ওঠে
মানবী হবার একান্ত বাসনা।
জলকেলি নহরে যুবতীর অন্তরে
পুঞ্জীভূত হয় ঢের ভালোবাসা মেঘ;
সময়ে ঝরে যায় অঝোর বরষায়
তখন বৈশাখী ঝরাপাতা নিয়ে উড়ে যায়
জোছনার মাঠ।
প্রেম তো প্রকৃতিরই কন্যা
সে যে লাবণ্যময় কবিতারই উপমা।
সেই নির্জন প্রেমজ প্রান্তরে সহসা
স্বর্গ থেকে মাহিমের ঘোড়া ঘাস খেতে নামে
তখন সহসা পাখি ও পুষ্পের মাঝে
অবাক নীরবতা নেমে আসে
জেগে ওঠে যুবকের বুকে
কামরাঙা এক দস্যি নারী।
অপরাহ্ণের গান
বেলা শেষে একটি গল্প শুনছি—
জীবনের অবারিত সাগর তীরে
বেলাভূমে পড়ে আছে বালি ও ফেনার মাঝে
সুতীক্ষ্ম কাঁটার প্রস্তর খণ্ড; সেথা
গোলাপের উদ্যান ভেবে
সুখের সুনীল পাখনা মেলে
তুমি কেনো গল্পটা শুনতে এলে?
কোনো নদী নেই আশেপাশে
কাদার গভীরে তারা গেছে ডুবে
তবুও ব্যক্তিগত অন্ধকার গাঢ় হলে
অনেকের সাধ জাগে বনলতার মতো
মুখোমুখি বসিবার—
থাকুক না চারিধারে পড়ে
অথৈ বেদনাময় রাত্রি, জোনাকি
আর জোছনার মাঠ
ঢেকে যাক ধূসর পেঁচা
রাত্রির গোপন আঁধারে।
হেথা বিষভরা সোনামুখি সুচের মতন
ঝলমলে কাঁটায়—ভয় আর শিহরণে
তোমার ভেতরে তুমি কম্পনে উঠবে ভরে
বিরহিণী ডাহুকের স্বরে।
তাহলে বলো—
কীভাবে গল্পটা শোনা হবে
অস্থির পতঙ্গের মতো সভ্যতার
এই হলুদ অন্ধকারে।
মেঘবালিকা
এসো গো মেঘ ভারানত বালিকা
এমন ভিজিয়ে দাও
ভিজে যেতে পারি সুখের অসুখে।
এই যে এতো ঊষরতা
এতো বেশি বিশুষ্কতা
শূন্যতা—
অনেক তৃষ্ণার মুখে
ঢোক ঢোক জল গ্রহণেও অনুচিত।
তাই ওভাবে নয়—
বরং তৃষ্ণাকে আরো পরিণত হতে দাও
বিস্মৃত হতে দাও
অপেক্ষা করো—
প্রখর রোদ্রের তাপে মাটির মতো করে তোলো খাক
তারপর ভাসিয়ে দাও গভীর বর্ষণে
সমস্ত রাত্রি জুড়ে ভিজে ভিজে
মরুর পিপাসা মিটুক তার।
উত্তরের জানালা
আমার সুখ গেছে শালুফোটা
নির্জন জলধারে
মন তাই এলোমেলো অসুখের বাতাসে।
শীতের পাখিরা পরদেশ থেকে
উড়ে আসে ফের-ফের
তবুও সুখপাখি ফেরে না
প্রতীক্ষায়; আজ আসে-কাল আসে
এভাবে বহুদিনের আসা-যাওয়া
অতএব মনে রেখো এই সুখের প্রতীক্ষা
আমারই রচনা।
যুগল নয়নে যে আকাশ দেখি
তার মেঘ বৃষ্টি হলো তোমার গহনা
স্বপ্নের মাঝে ছুঁয়ে দেই তোমার সেই
মেডুসা চুল আর
শরীরের গোপনে থাকা তোমার
নিভৃত জড়ুল।
রৌদ্রচুম্বন
রাতের আলপথ বেয়ে যে নদী সাঁতরায়—
চোখে তার জোনাকির ফুল, বুকে তার আয়নাজল—
দেহে তার জোছনার ছর, নাভিছেঁড়া গোলাপের ঢল।
ইচ্ছের জলরঙ ঢেলে দেয় পূর্ণিমার খলখলে চাঁদ।
ভাঙনের শেষ হয়— তুলে আনে মায়াময় সুর,
জলের খেলায় নামে ঢল— দোলে কুমারীর মৌতাত ফুল।
মনের ভেতর থেকে গোটা আদর ঠোঁটে তুলে নিয়ে—
ও মেয়ে, তোমার সিঁথিতে রাঙামনে এঁকে যায় রৌদ্রচুম্বন।
কামের চৌষট্টিকলা।
যমুনার জল
কতো দুঃখ ভেসে গেছে
স্বপ্নের মায়াবী মন্দিরে
একদা কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে
শুকিয়ে গিয়েছিল
যমুনার জল।
সে অলীক দুঃখে
কালের রাধাকে
স্নান সমাপনে
কৈলাসের তুষারগুচ্ছ
গলে গলে
নেচেছিল সেদিন-
আবার যমুনার জল।
প্রতীক্ষা
তুমি আজ আসবে না, তুমি আর আসবে না
তুমি কি অন্য কোথাও যাবে ?
জ্যোৎস্না ভরা অরণ্যের অভিমানী কোলাহল
থেমে গেলে সংগোপনে
শেষ রাতের আঁধারে একবার উঁকি দেবে?
অভিমানে ভরা তোমার না পাওয়াগুলো
প্রণয়ের প্রকৃত বাসনায় মোড়া
সুখ নামে শরীরে; দু’চোখে ঘুমের রেশ
নিদ্রার পরীরা ঝাঁক বেঁধে নেমে আসে
কী শীত বা গ্রীষ্মের রেশ
এ সব বড় কথা নয়
প্রিয়তমা তুমি জগৎজুড়ে আমার
একমাত্র কপিলা।
তুমি এক প্রত্ন প্রেম,
তুমি দেহের ভিতরে নিভৃতে ফোটা
আমাদের যুগ্ম পৃথিবীতে প্রথম প্রেমের ফুল।
মনে পড়ে
দেখি নাকো চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর মায়াভরা রাত
ঐ হেমন্তের কাশবনের শুভ্র ফুলে-ফুলে
কতোদিন তুমি আর আমি-
সময়ের প্রবাহে আজ আর নেই কোনো
দীপ্তিময় আলোর কিরণ
হৃদয়ের উপত্যকায় ঝরোকায়;
ঐ দূর থেকে ভেসে আসে বেহুলার
করুণ সুরের গান-
এ নগর নরক স্বভাবে ক্রমশ শৃগালি মন্ত্রে
বিমুগ্ধ প্রাণে বেড়ে ওঠে; ফুলেফেঁপে যায়
নাগরিক মানুষে-ফানুসে এই তার রূপ
যৌবনে কামরাঙা নারী নিয়তির শৃঙ্খলে বাঁধা এক
অলীক নৃত্যের নর্তকী
তুমি আর আমি।
ইচ্ছে
নদীর ভিতর দিয়ে নদী হয়ে যাওয়া
অলৌকিক একটা নদী
বুকে তার ছলছল ছোট-বড় ঢেউ
কী নিবিড় গভীর আবেগে
আমাকে পুনশ্চ ডাক দেয় সে
তরুলতা ছাওয়া নবীন প্রেমের ঘাটে।
ঘুমুতে পারিনা আমি প্রস্ফুটিত জোছনায়
বুঝি না লক্ষ-কোটি তারারা কেনো ওভাবে ফুটে রয়
অনেক হয়েছে বেলা সময়ের তরি নিয়ে
কতো নদী পাড়ি দেবো
এভাবে কামের মরুঝড়।
স্মৃতিকথা
টলমলে যৌবনে উতল হয়ে
জল মহলে গিয়ে দেখি—
জলপরি শুয়ে আছে
হয়ে প্রণয়ের নগ্ন দেবী—
আমি তো হতবাক!
একটি বার ছুঁব নাকি! দেবো নাকি চুমু!
একদা স্থলদেবী বলেছিল ফুলতলে এসো
চুমু দেবো চোখে-মুখে
ওষ্ঠ ও গ্রীবায়
পুলকিত হবে দেহ মন
উষ্ণতা ছড়াবে শিরায় উপশিরায়—
বহুকাল পরে মনে পড়ে সেই
কিশোর বেলার বনদেবীর কথা
আজ আমি হতবাক!
একবার ছুঁব নাকি দেবো নাকি চুমু।
নিশিকাব্য
মাঝে মাঝে তার লাগি একটি
কবিতার কথা ভাবি—
স্থলপরী সে জনারণ্যে হেঁটে চলে
একাকী ঘুমের ভিতরে হয়ে ওঠে বেগানা রমণী
প্রাকৃত বাস্তবে আমি তো তারই জন্যে কবি।
কেননা সাঁতারে মাতাল হয়ে পাতালে গিয়েও
তাকেই শুধু দেখি।
ঘুমের গহিন থেকে জাগিয়ে তোলে আমাকে
ওই ধিঙ্গি নারী- হীম হীম হেমন্তের রাত জুড়ে
তবু তাকে নিয়ে কবিতা রচি—
কী যে তার চঞ্চলতা! কী যে তার চলৎ গতি!
গ্রীবা নাচিয়ে এপাশে-ওপাশে চায়
চাঁদের দেখা পেলে প্রকাশ্যে চুম্বন রাখে
পাতায় লেগে থাকা গণিকা জোছনায়।
কী হবে শিরোনাম! নাকি
কবিতা হবে শিরোনামহীন
সে শুধুই কেনো চঞ্চল বনহরিণী
নাকি মেঘের ওপাড় থেকে
ভেসে আসা অদ্ভুত অপ্সরী
সে কি ফুল, পাখি, প্রজাপতি?
না আমার প্রিয় শীতের
ছোট্ট মৌটুসি পাখি।
বসন্তবচন
সহসা সন্ধ্যায় জোছনার বন্যা নামে
প্রণয়ের খুনশুটি নিয়ে
প্রেমিক হৃদয় উছলে ওঠে প্রকৃতির
নতুন ঝলমলে কিশলয় দেখে
ফুলভারে অবনত বনজবৃক্ষ
লেগেছে আগুন যেনো ফাগুনের আগমনে
নেভানো যাবে না ঐ দৈবিক আগুন আজ
সরে আসে সমীরণ—
বাঁধভাঙ্গা ভালোবাসার প্রিয়
এই বাসন্তী লগন।
চাপা চাপা স্বরে, দীর্ঘশ্বাস বাড়ে
আকাশটা যেনো স্বপ্নের সাগর
তথা থেকে হীম হীম হাওয়ায়
মেতে ওঠে রক্তের নাচন
স্মৃতিগুলো তখন—
হয়ে ওঠে মৃতের কাফন।
রঙের কামকলা
যৌবনের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার
মেতেছে আজ রঙিন উৎসবে—
আবিরের ফাগুন রঙে— চন্দ্রের অনুরাগে
জোয়ারে ভেসে যাবে নিঃসঙ্গ গাং
স্মৃতিতে শুধুই রয়ে যাবে
একমুঠো কামাতুর প্রেমিকার
অধরের চুম্বন।
স্বমেহন স্বরে গোপন শীৎকার ধ্বনি
বেজে ওঠে হৃদয়বীণার তারে তারে
কতো যে আদরের মধুমাধা যৌবন
পরাগের কামকলা খেলে যাও তুমি
জোনকির মিটি মিটি আলোর সাথে নিয়ে
রমণী সভায় নেচে ওঠো
হয়ে এক কামুক ময়ূরী।
অবাক নীরবতা
কৈশোরের দুরন্ত দুপুরে নর্তকী পায়ে কিশোরীরা
নদী পথে হেঁটে গেলে চিতাবাঘ প্রেমিকেরা
বিরহ কাকের আর্তনাদ ছেড়ে
লিখে যায় প্রেমভরা জোছনা আর নদীর কথা
রূপকথা ডেকে আনে তারাভরা
রাতের যতোসব প্রণয়ের উপকথা।
সেখানে অপূর্ব পরী একাকী বেড়াতে আসে
এইভাবে একদিন তাহারই ভেতরে জেগে ওঠে
মানবী হবার একান্ত বাসনা।
জলকেলি নহরে যুবতীর অন্তরে
পুঞ্জীভূত হয় ঢের ভালোবাসা মেঘ;
সময়ে ঝরে যায় অঝোর বরষায়
তখন বৈশাখী ঝরাপাতা নিয়ে উড়ে যায়
জোছনার মাঠ।
প্রেম তো প্রকৃতিরই কন্যা
সে যে লাবণ্যময় কবিতারই উপমা।
সেই নির্জন প্রেমজ প্রান্তরে সহসা
স্বর্গ থেকে মাহিমের ঘোড়া ঘাস খেতে নামে
তখন সহসা পাখি ও পুষ্পের মাঝে
অবাক নীরবতা নেমে আসে
জেগে ওঠে যুবকের বুকে
কামরাঙা এক দস্যি নারী।
অপরাহ্ণের গান
বেলা শেষে একটি গল্প শুনছি—
জীবনের অবারিত সাগর তীরে
বেলাভূমে পড়ে আছে বালি ও ফেনার মাঝে
সুতীক্ষ্ম কাঁটার প্রস্তর খণ্ড; সেথা
গোলাপের উদ্যান ভেবে
সুখের সুনীল পাখনা মেলে
তুমি কেনো গল্পটা শুনতে এলে?
কোনো নদী নেই আশেপাশে
কাদার গভীরে তারা গেছে ডুবে
তবুও ব্যক্তিগত অন্ধকার গাঢ় হলে
অনেকের সাধ জাগে বনলতার মতো
মুখোমুখি বসিবার—
থাকুক না চারিধারে পড়ে
অথৈ বেদনাময় রাত্রি, জোনাকি
আর জোছনার মাঠ
ঢেকে যাক ধূসর পেঁচা
রাত্রির গোপন আঁধারে।
হেথা বিষভরা সোনামুখি সুচের মতন
ঝলমলে কাঁটায়—ভয় আর শিহরণে
তোমার ভেতরে তুমি কম্পনে উঠবে ভরে
বিরহিণী ডাহুকের স্বরে।
তাহলে বলো—
কীভাবে গল্পটা শোনা হবে
অস্থির পতঙ্গের মতো সভ্যতার
এই হলুদ অন্ধকারে।
মেঘবালিকা
এসো গো মেঘ ভারানত বালিকা
এমন ভিজিয়ে দাও
ভিজে যেতে পারি সুখের অসুখে।
এই যে এতো ঊষরতা
এতো বেশি বিশুষ্কতা
শূন্যতা—
অনেক তৃষ্ণার মুখে
ঢোক ঢোক জল গ্রহণেও অনুচিত।
তাই ওভাবে নয়—
বরং তৃষ্ণাকে আরো পরিণত হতে দাও
বিস্মৃত হতে দাও
অপেক্ষা করো—
প্রখর রোদ্রের তাপে মাটির মতো করে তোলো খাক
তারপর ভাসিয়ে দাও গভীর বর্ষণে
সমস্ত রাত্রি জুড়ে ভিজে ভিজে
মরুর পিপাসা মিটুক তার।
অনন্ত পৃথ্বীরাজ এর রোমান্টিক কবিতা পড়ুন
একুশের একগুচ্ছ কবিতা পড়ুন এখানে
দুলাল সরকার এর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
খৈয়াম কাদেরের কবিতা পড়ুন এখানে
মাহবুবার করিমের কবিতার পড়ুন এখানে
খসরু পারভেজের কবিতা পড়ুন এখানে
রাহমান ওয়াহিদের গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
সিদ্দিক প্রামাণিক এর কবিতা পড়ুন এখানে
আযাদ কালামের কবিতা পড়ুন এখানে
বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন
মাসুদ মুস্তাফিজের কবিতা পড়ুন এখানে
অমিত চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে
বড় ও বিখ্যাত কবির কবিতা পড়ুন এখানে
জিয়াবুল ইবন এর কবিতা পড়ুন এখানে
কাজুও ইশিরোগুরের উপন্যাস বিশ্লেষন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে
শূন্য ও আকাশের প্রতি পড়ুন এখানে
অনলাইন সাহিত্যের গুরুত্ব পর্যালোচনা পড়ুন এখানে
এমরান হাসানের কবি পড়ুন এখানে
পোয়াতি ধানের কবিতা পড়ুন এখানে
দুরুত্বের অদেখা প্রাচীর পড়ুন এখানে
শারদুল সজল এর কবিতা পড়ুন এখানে
নকিব মুকশি'র কবিতা পড়ুন এখানে
ভাবুক মাস্টারের পাথর পড়ুন এখানে
কবিতার বরপুত্র আসাদ চৌধুরি এখানে পড়ুন
বাস্তুহারা তারার ইশতেহার পড়ুন এখানে
সুশান্ত হালদারের কবিতা পড়ুন এখানে
মায়াপথিক এখানে
নয়ন আহমেদ এর কবিতা এখানে
লতিফ জোয়ার্দারের কবিতা পড়ুন এখানে
ইসলাম তৌহীদের কবিতা পড়ুন এখানে
মহসিন খোন্দকারের কবিতা পড়ুন এখানে
গল্প বরফের ছুরি পড়ুন এখানে
প্রবন্ধ,উত্তরাধুনিক কাব্যধারার যাত্রাঃ মতিন বৈরাগী-এখানে
প্রবন্ধঃ রাজনীতি ও সাহিত্য পারস্পরিক সম্পর্ক পড়ুন এখানে
কবি মজিদ মাহমুদের গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
প্রবন্ধ,নজরুলের রহস্য,পড়ুন এখানে
লিসেল মুলারের অনুদিত কবিতা পড়ুন এখানে
ভিন্ন স্বাদের গল্প,কফি হাউজের ওয়েটার' পড়ুন এখানে
নজরুলের রহস্যময়তা নিয়ে প্রবন্ধ পড়ুন এখানে
চৌধুরী মো.তারিকের কবিতা পড়ুন এখানে
শিশির আজমের দীর্ঘ কবিতা পড়ুন এখানে
মিলন ইমদাদুলের কবিতা পড়ুন এখানে
তাপস চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে
উত্তরের জানালা
আমার সুখ গেছে শালুফোটা
নির্জন জলধারে
মন তাই এলোমেলো অসুখের বাতাসে।
শীতের পাখিরা পরদেশ থেকে
উড়ে আসে ফের-ফের
তবুও সুখপাখি ফেরে না
প্রতীক্ষায়; আজ আসে-কাল আসে
এভাবে বহুদিনের আসা-যাওয়া
অতএব মনে রেখো এই সুখের প্রতীক্ষা
আমারই রচনা।
যুগল নয়নে যে আকাশ দেখি
তার মেঘ বৃষ্টি হলো তোমার গহনা
স্বপ্নের মাঝে ছুঁয়ে দেই তোমার সেই
মেডুসা চুল আর
শরীরের গোপনে থাকা তোমার
নিভৃত জড়ুল।
রৌদ্রচুম্বন
রাতের আলপথ বেয়ে যে নদী সাঁতরায়—
চোখে তার জোনাকির ফুল, বুকে তার আয়নাজল—
দেহে তার জোছনার ছর, নাভিছেঁড়া গোলাপের ঢল।
ইচ্ছের জলরঙ ঢেলে দেয় পূর্ণিমার খলখলে চাঁদ।
ভাঙনের শেষ হয়— তুলে আনে মায়াময় সুর,
জলের খেলায় নামে ঢল— দোলে কুমারীর মৌতাত ফুল।
মনের ভেতর থেকে গোটা আদর ঠোঁটে তুলে নিয়ে—
ও মেয়ে, তোমার সিঁথিতে রাঙামনে এঁকে যায় রৌদ্রচুম্বন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks