গুচ্ছকবিতা।। মোঃ লাল মিঞা।। poems by md lal mia.kuasha

গুচ্ছকবিতা
মো: লাল মিঞা

কানাই মাস্টারের মৃত্যুর পর
             

আমাদের শ্রেষ্ঠ গানটি গাওয়া হয়ে গেছে;
সারঙ্গীকুল আজও লীন বিমুগ্ধ মূর্ছনায়!
মাঠের ঘাসে গুটিকতক চীনেবাদাম
মঞ্চের ওপর বটপাতা অশ্রুসিক্ত, ছড়িতে ছিটিয়ে।
আমাদের শ্রেষ্ঠ বসন্তটি বিদায় নিয়েছে;
আহত ভূলুণ্ঠিত সূর্যমুখী-কসমস
ঠাণ্ডা বাতাসে বিশীর্ণ চন্দ্রমল্লিকা অশ্রুমুখী
হলুদ গাঁদার ওপর প্রজাপতির ভাঙা ডানা
মেহগনির নতুন পাতায় নাম না-জানা পাখিরা
হেমন্ত নামার আগে পদচিহ্ন রেখে গেছে।
আমাদের শ্রেষ্ঠ কবিতাটি লেখা হয়ে গেছে;
কাশবনে খাবিখায় পদ্মার ঢেউ
চায়ের কাপে রাজনীতির ম্যানগ্রোভ
ডানার গন্ধ মুছে ফেলা চিল
সিঁদুর হারানো হরিদাসী
কপালের দগদগে ঘা নিয়ে সখিনা বিবির
কথাও আজ ঠিক মনে পড়ে না।

আমাদের শ্রেষ্ঠ কথাটি শোনা হয়ে গেছে;
হারিয়ে গেছে দোলনা ঠেলার গান
মদনমোহনের শিশুপাঠ আজ আর ছাপা হয় না
ইলিশের ভুরভুর গন্ধ ধুয়ে দিয়েছে সমুদ্রের জল
কানাই মাস্টারের মৃত্যুর পর
আমাদের শ্রেষ্ঠ ঘুড়িটা উড়ে গেছে।
এই বিষণ্ণ অপরাহ্ণে দাঁড়িয়ে তবু
ঘাসের কথা, মাঠের কথা, শ্রেষ্ঠ নদী ও নারীর কথা
কিছু কিছু মনে আছে।


একটি অসমাপ্ত ভ্রমণ
         
গভীর অরণ্য থেকে গড়িয়েছে মিসিসিপির জল
পেয়েছে উপহার তার, স্রোতস্বিনী পদযুগল।
নদীর ঠিকানা জানা হলো না, জানা হলো না বায়ু কেন বয়
গন্তব্যহীন এই যে গতি আমাদের  শিরায়-উপশিরায়।
সূর্য থেকে, অন্ধকার থেকে চুরি হওয়া স্বপ্ন
রেখে গেলাম রক্তঝরা কালের নৌকায়।

মায়ের মুখের মতো স্নিগ্ধ-ছায়াভরা প্রিয় স্বদেশ;
জামরুলের পাতার ভেতর কালো পিপড়ের মতো
বাঁচতে চেয়েছি, তবু কত বার হয়েছি কাকের আহার!
কখনো হয়নি, হবে না জানি মানুষের দুঃখ মোচন
গায়ে মেখে কাদা-ধূলো, দুঃখ জাগানিয়া  প্রিয়ার মতোন।


অতলান্ত
          
এত অন্ধকার কোনো আকাশ কখনো ধারণ করেনি !
এত অশ্রু কোনো সাগর কখনো বহন করেনি!
এত উত্তাপ গিলে খায়নি কোনো ভিসুভিয়াস!
চোখ বন্ধ করলেই আমি
সোনালি টিয়ার রক্তাক্ত শরীর দেখি;
চোখ মেললেই দেখি কিলবিল করা অন্ধকার
চিরচেনা পদ্মা-মেঘনা-ভাগীরথীর অতলান্ত রূপ দেখি
দেখি নবজাতকের আত্মদীর্ণ অশ্রুপাত।

ও আকাশ! প্রিয়তম ত্রিদিব আকাশ!
তুমি দেখতে কি পাও-
কোথা থেকে আসে উন্মাদ সমুদ্র এত!
বুকের ভেতর কে তোলে বৈনাশিক ধূলিঝড়!
এত হিন্দোল দোল ওঠে কোন মহাসিন্ধু-নিরে!
তবে এবার চৌচির হও
বিবস্ত্র হয় হে মাঘ-নিশিথের মৃত আকাশ!

নৈঋত-বায়ু- ঈশান-অগ্নি জ্বালামুখ উন্মুক্ত করুক,
শ্মশানের বুকে লুটিয়ে পড়ুক রক্তডানার চিল
শতাব্দীর অভিশাপ নিয়ে
বিক্ষুব্ধ চিতায় বয়োবৃদ্ধ নিলাজ সূর্যটি
আরেকবার ভস্মীভূত হোক।


প্রতিদিন তোমাকে দেখি
          
তুমি হাসিমুখে আসো কেঁদে চলে যাও
সাথে নিয়ে যাও আমার সুখদুঃখ
অস্থির বাসনা, হাসি-কান্নাও।
নিদারুণ ভালোবসি! ভীষণ ভয় পাই;
যত এড়াতে চাই, ততই কাছে যাই
ডাকিনি কখনো, আছো কোলঘেঁষে
আত্মীয়ের মতো কাছাকাছি,  ভালোবেসে।

শত্রুবন্ধু, আদিপিতা, পিতা-পিতামহ
তোমার মাঝে দেখতে পাই আজও অহরহ
কেমন রেখেছ তাদের? আছেন তোমার কাছে !
স্মৃতিপটে আজও যারা সুখ দিয়ে দুঃখ যাচে।
বন্ধু আমার! দুর্জ্ঞেয় অন্ধকারের সাথী
একটু সময় যদি দিতে! এখনো নেভেনি বাতি
এখনো মেটেনি সাধ
ফেলেছি জাল, মোহনার মায়া বিচিত্র শৈবাল
স্যালমেন গন্ধ পাই, দরিয়া অগাধ।
যেতে তো হবেই
অসমাপ্ত যাত্রা পথিমধ্যে রেখে যাবো রথ
ভুলে গেছি কখন খেলার ছলে নিজ হাতে
রুদ্ধ করেছি ফিরিবার পথ!


তোমার তো অসুখ ছাড়ে না!
                                
'গেল গেল----'
কী গেল? কেউ জানে না।
কেউ কেউ জানে, বলে না।
'চলো চলো ---'
কোথায় চলছি? কেউ জানে না।
কেউ কেউ জানে, চলে না।
মিছিলের পুচ্ছ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
'মানি না,  মানি না' স্লোগানে মুখরিত আকাশ
আলো জ্বলে, নেভে বার বার।

বাতাসে খ্যাতির বরমাল্য দোল খায়
কেই মুটে, কেউ ভবঘুরে, অধ্যাপক কেউ কেউ 
ডানবাম করতে করতে আমিও হয়তো সামিল হয়ে যাই
হাততালির মিছিলে, চায়ের ধোঁয়ায়
কার খ্যাতি? কীসের খ্যাতি?
এই যে বরমাল্য, গগনপট বিচরণ!
'কেন' কথার উত্তর মেলে না।

ঝড়ের পরে তটস্থ পাখিরা
সূর্যকে প্রার্থনায় রেখে ঠোঁটে কাটে খড়কুটো।
দিঘির জলে জলোচ্ছ্বাস 
মাছেরা জানে না, ঘোলাজল কতটা কারুণ্য আনে।
টিমটিমে আলোর দৃশ্যপটে কালো পর্দা দোল খায়
কাক-কোকিলের প্রেমালাপ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর
বৈদ্য, পথ্য নিয়ে বসে থাকি
প্রিয় স্বদেশ, তোমার তো অসুখ ছাড়ে না!


তৃষিত ছায়া

মনে হয় আমি মানুষ ছিলাম না,
রক্তাক্ত সূর্যের সাথে যেদিন
প্রথম পরিচয়, দিনটি ছিল অচেনা
গ্রহবাসীদের অর্থহীন এক আনন্দের দিন;
ভয়ে আতঙ্কে আমিও কেঁদেছিলাম
আজারবাইজানে, গ্রেগরি শিশুদের সাথে, অভিন্ন স্বরে।
তারপর, ধীরে ধীরে প্রত্যাশিত প্রত্যঙ্গের
বিবর্তন; হাত বদল, শয্যা বদল-
বদল খেলার নিপুণ আয়োজনে।

দুপাটি দাঁত জানিয়ে দিলো
মাংসাশীর সাথে চমৎকার সাজুয্য তোমার;
শিং নেই, লেঙুড় হয়েও হলো না।
বুঝি তাই
সময়ের করাতে নিত্য বদলে যাই
প্রতিদিন কণ্ঠ এক ডেকে যায়
বলে, বদলের দলে আয়!
বদলাতে বদলাতে কাকাতুয়াও একদিন
শকুন বনে যায়!
উষ্ণ রক্ত বদলে যাবে একদিন!

সেও জানি, বদল খেলার গোধূলি
শরণ
মাল্য হাতে সুচারু মরণ  তাও মানি
সিন্ধুর তলে সূর্যের ছায়া মৃয়মান
তবু নেশা কাটে না!
তুমি এমন করে কথা বলো কবি!
মানুষ আমি! না-কি
জলের উপর আঁকা জলের ছবি
তুমি না বলে দিলে
তাও জানা হতো না।

সিদ্দিক প্রামাণিক এর কবিতা পড়ুন এখানে
আযাদ কালামের কবিতা পড়ুন এখানে
বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন
মাসুদ মুস্তাফিজের কবিতা পড়ুন এখানে
অমিত চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে
বড় ও বিখ্যাত কবির কবিতা পড়ুন এখানে
জিয়াবুল ইবন এর কবিতা পড়ুন এখানে
কাজুও ইশিরোগুরের উপন্যাস বিশ্লেষন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে

অপেক্ষা
                     
সারি সারি ওই যে সাদাকালো মেঘ
তারও তো একটা ঠিকানা আছে!
তাহলে কেন এত আহাজারি, বুকভাঙা শ্বাস!
মত্ত হাতি দিয়ে দলিত করা বাসনার চারাগাছ!
মাটিতে বুক পেতে বেঁচে থাকে যে কচ্ছপ
তার মতো আয়ু যদি পেতাম আমরা!
কিংবা ঝিলের পাড়ে জবুথবু ওই

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন