সিদ্দিক প্রামাণিকের গুচ্ছকবিতা।। poems by siddik pramanik.kuasha

সিদ্দিক প্রামাণিকের গুচ্ছকবিতা

এ আমার মুদ্রাদোষ

মনে মনে আমি মধ্যবিত্ত
উপরে উপরে ঘোরে চোখ।
ডানা নাই, ছিলো না কখনো
উড়ে বেড়াবার তবু ঝোঁক।
নিম্নবিত্তের কবিতা লিখি,
লিখছি বিপ্লবীদের মতো।
রানওয়ে জুড়ে ভয়, দ্বিধা—
উঠানামা করে ক্রমাগত।
লিখে যাচ্ছি ফালতু জীবন,
অযথা তাড়াচ্ছি বুনো মোষ।
অ্যাশ-ট্রে উপচে পরে যাচ্ছি
নিচে—এ আমার মুদ্রাদোষ।


খোঁজ

পকেটে 
চাবি 
রেখে 
খোঁজার 
মতো 
খুঁজতে
খুঁজতে
তোমাকে 
কোথাও 
পাচ্ছি 
না 

প্রোপাগান্ডা

আল্পস পর্বতমালায়, বরফের নিচে প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওযা গেল ৫,৩০০ বছর আগের এক মানব শরীর। সাথে তার চকমকি পাথরের ছুরি, তূণীর সাথে পাওয়া গেল তামার কুড়াল। ওয়েব ম্যাগাজিনে এইরকম একটা নিউজ দেখে কেউ একজন মন্তব্য করলেন ‘গুজব আর কাকে বলে!’

বিগত মানুষের সেইসব মুখ নিঃসৃত বাণী উদ্ধারের ব্যাপারে অনেকেই আশাবাদী। একদিন যিশুখ্রিষ্ট, গৌতমবুদ্ধ থেকে শ্রীকৃষ্ণের যাবতীয় কথা উদ্ধার করবেন বিজ্ঞানীরা। চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এইসব কথা আমরা শুনবো সহজেই।  আর শুনতে শুনতে কেউ একজন রাগত বলবেন—‘শয়তানের কারসাজি, ভেসে আসছে আকাশ থেকে’ 


উদ্ভটত্ব
 
বেসাইজ জুতোয়
বেখাপ্পা পা রেখে
কী করে বলি-সুখি দম্পতি!
 
ঘোড়ার লাগাম টেনে-
চলো, কথা বলি ফর্মা মেপে


১ মিনিট

১ মিনিটে একটা যুদ্ধবিরোধী কবিতা পড়ে
নেমে এলেন কবি।
এই এক মিনিটে ১ বার 
পৃথিবীটাকে ধ্বংস করতে পারে চীন,
২ বার রাশা,
৩ বার আমেরিকা।
শুনতে শুনতে আমার মাথায় মাল উঠে গেল।
মাটির ব্যাংকটাকে মনে হলো আমাদের পৃখিবী 
কিম্বা আরও তুচ্ছ কিছু।
খেলতে খেলতে ফুটবলের মতো
ফ্লোরে পড়ে গিয়ে—ঝনঝন শব্দে বিক্ষিপ্ত
ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো অসংখ্য মুদ্রা,
পৃথিবীর ঘেলু

শান্তিকামী

যেভাবে মেলাতে চাও
সেভাবে মিলছেনা পা
উদারা থেকে তারায়
যেতে যেতে গড়মিল
জীবনের সারেগামা।
তুমি চাইছো সবাই
তোমার মতোই হোক
আনন্দে আনন্দ পাক
শোকে মুহ্যমান শোক
মনটাও হোক জুতসই
উপভোগ্য চমৎকার
এমন হয় না জানি
যেভাবে চেয়েছো তুমি
সর্বদাই ঘটে উল্টো
মনের বিরুদ্ধে মন
নিজের বিরুদ্ধে ছায়া
সম্মুখ সমরে দেখি—
উদ্যত কুপাণ হাতে
তড়িঘড়ি ছুটে আসে
আমাদের শান্তিকামী।

আযাদ কালামের কবিতা পড়ুন এখানে
বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন
রূপান্তর

একজোড়া বাচ্চা রেখে
প্রসবকালীন ওদের মা মরে গেল।
সেই থেকে
আমি রান্না করি, 
বাচ্চা সামলাই।
দৌড়ের ওপর থাকি।
হাদিসের মতে—
এক থেকে তিনে বাবা নাই,
তাই
আমি চতুর্থ নম্বর
মহামূর্খ পিতা।
ওদের মা’র চরিত্রে অভিনয় করি। 
শিশুরা আমার বুকে হাত দেয়,
খাদ্য খোঁজে।
দুধের বদলে নেমে আসে বিন্দু বিন্দু ঘাম ।
বাবা হতে হতে একদিন
আমিও মা হয়ে যাই।

আসাবা

বিয়াল্লিশ ডিগ্রী তাপদাহে শুয়ে আছি
বউয়ের কাছে। আমাদের একমাত্র মেয়ে 
শুয়ে আছে অন্যপাশে। সবাই ঘুমাচ্ছে।
শুধু জেগে আছি আমি আর 
মাতৃগর্ভে থাকা তিনমাস. একটু একটু নড়ছে সে।
এই শিশু যখন ভূমিষ্ট হবে—
ছেলে হলে নাম রাখবো বিপ্লবীদের নামে। 
মেয়ে হলে?
ভাবতেই শিউরে উঠলো গা
যদি 
এই মুহূর্তে হঠাৎ মরে যাই আমি
এক পঞ্চমাংশ সম্পদ চলে যাবে ভাইদের কাছে।
আয়োজন আর মাপজোক শুরু হলে—
দ্রæতই বদলে যাবে বাড়ির সীমানা,
ফসলের মাঠ 


নিবেদিতা সেন

পিংপং বল আর তোমার শরীর
নিয়ে খেলতে থাকা লোকটাকে
তুমি দেবতার মতো মান্য করো।
অফিসে কিম্বা অন্য কোথাও 
যাওয়ার আগে 
চাবিটা গচ্ছিত রাখার মতোই 
তোমার চড়ুই চড়ুই মনটা আমার কাছে রেখে 
প্রত্যহ চলে যাও তুমি।
ফিরে এলে আমিও ফিরিয়ে দিই সব।
তোমার ঘরে এখন ছুঁচো ঢুকে পড়ে,
বিবিসির সাথে মহামান্য বাইডেন।
চায়ের পেয়ালা হাতে হাসতে হাসতে
বেসামাল
কিছুটা উছলে পড়ে তোমার শরীর

প্রবন্ধ,উত্তরাধুনিক কাব্যধারার যাত্রাঃ মতিন বৈরাগী-এখানে
প্রবন্ধঃ রাজনীতি ও সাহিত্য পারস্পরিক সম্পর্ক পড়ুন এখানে
কবি মজিদ মাহমুদের গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
প্রবন্ধ,নজরুলের রহস্য,পড়ুন এখানে
লিসেল মুলারের অনুদিত কবিতা পড়ুন এখানে
ভিন্ন স্বাদের গল্প,কফি হাউজের ওয়েটার' পড়ুন এখানে
নজরুলের রহস্যময়তা নিয়ে প্রবন্ধ পড়ুন এখানে
চৌধুরী মো.তারিকের কবিতা পড়ুন এখানে
শিশির আজমের দীর্ঘ কবিতা পড়ুন এখানে
মিলন ইমদাদুলের কবিতা পড়ুন এখানে

পলায়ন

যাচ্ছি,
যাব
করতে করতে আর যাওয়া হলো না
মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে দেখি—
বাগানের ফুলগুলো ফুটে গেছে, শোনা যাচ্ছে কলরব।  
একে একে  
দেয়াল টপকে অন্ধকারে
কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে সব!

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন