স্বরেও স্বরেআ
খৈয়াম কাদের
সদ্যজাত শিশুর ক্রন্দনে একুশের কণ্ঠ শুনি
এ কণ্ঠের শব্দে আমার স্বদেশ জেগে ওঠে
এ কণ্ঠের ধ্বনিতে মুক্তির গান বেজে ওঠে
এ কণ্ঠ জারিত করে ক খ অ আ-র শাশ্বত বাণী।
ঢাকা থেকে শিলচর - বর্ণমালার মিছিল ধেয়ে চলে
বাহান্নর একুশ আর একষট্টির উনিশে মে
পুরাণের স্বরে হাঁটে বদ্বীপ-বঙ্গের পথে-ঘাটে-মাঠে
হাজার নদীর পানি মায়ের বুলিতে ঢেউ তোলে।
স্বরেও স্বরেআ প ফ ম ভ
ধানপাতার শাড়িতে নাচে ত থ দ ধ
ফলা রেফ কার আর হ্রস্ব হস্
ষড়ঋতু আসে যায়,আসে যায় পালা-পার্বন বারোমাস।
ভাষার গান
আমিনুল ইসলাম
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
গাছে গাছে আগুন
পলাশ শিমুল নিয়ে এলো
আগুন লাগা ফাগুন।
দোয়েল কোয়েল গান ধরেছে
তাদের মাতৃভাষায়
আমরা রচি গান কবিতা
মোদের বাংলা ভাষায়।
শহীদ মিনার উঠছে ভরে
ফুলের তোড়ায় তোড়ায়
আমার ভাইয়ের রক্ত যেন
ফুলের গোড়ায় গোড়ায়।
রক্তে রাঙা স্মৃতি নিয়ে
এলো ফেব্রুয়ারি
ভাইয়ের মায়ের কথা কি আর
আমরা ভুলতে পারি।
দুনিয়া জুড়ে হাজার ভাষা
কিংবা তারও বেশি
সবার ভাষা সবার কাছে
সমানভাবে দেশি।
‘ভালোবাসি’ বললে তুমি
অমনি আমি গান,
‘লাভ ইউ’ বললে অ্যামেলিয়া,
চার্লির উতল প্রাণ।
রুনা লায়লা বাংলা ভাষায়
আতিফ উর্দু গানে,
ফুটবল কন্যা মারিয়া ঢুলে
গারো সুরের টানে।
ওয়াকা ওয়াকা -- গায় শাকিরা
উর্মি স্লিম ফ্রেমে
হামব্যাক তিমির জলের ভাষা
গান হয়ে যায় প্রেমে।
অনেক ভালোবাসি আমি
লেজনাচুনীর গান
যদিও অচিন হুহচি লুহচি,
সুর ছুঁয়ে যায় প্রাণ।
পাখির ভাষা পাখি বোঝে
নদীর ভাষাও নদী
তাদের ভাষা তাদের মতো
জানতাম আমি যদি!
কেউ কেড়ো না কারও ভাষা
সবার ভাষাই প্রিয়,
নাই জানিলে অর্থ কথার
সুরটি শিখে নিয়ো।
একুশ মানে বাংলাদেশ
চারু মান্নান
একুশ মানে বাংলাদেশ
একুশ মানে মায়ের ভাষা,
একুশ মানে আমাদের মনস্তত্ত্বের জ্ঞান,
একুশ মানে মুক্ত বাতাস,
একুশ মানে কৃষ্ণচূড়ায় আগুন।
এই ফাগুনে আগুন জ্বেলে,
পুড়িয়েছি দ্রোহের নিভৃত আক্রশ,
কিনেছি মায়ের মুখের কথা,
বিলিয়ে জীবন রক্তে রাঙা সোদা মাটি।
বুকের তাজা রক্তে রাঙিয়েছি পথ,
ধবলতারার নীলাকাশ ছুঁয়ে
মাতৃভাষার উচ্চারিত দুনিয়া জোড়া,
অবহেলা নয়তো পেয়েছি মর্যাদা মায়ের কথার।
একুশ মানে স্বাধীনতা
একুশ মানে বাংলাদেশ।
প্রমিত অক্ষর বুনেছি
রাহমান ওয়াহিদ
প্রমিত অক্ষর বুনেছি নিঃশব্দের ক্ষেতে
ধুলোমেঘ ঝরেছে পরতে পরতে।
এখানে অঙ্কুরিত শব্দরা শেকড়সুদ্ধ বৃক্ষ হবে
এখানে বিমল শব্দরা গুঞ্জরণের সারথী হবে।
চেতনার দোতারায় টুং টাং বাজে যদি হৃদি সংগীত
জলাবদ্ধ মোহনায় ভাষারাও ফিরে পাবে হৃত সম্বিত।
অক্ষরের রক্তজ্যোৎস্না
জিয়াউদ্দিন লিটন
যে ভাষায় মা প্রথম ডেকেছিল,
সেই ভাষাই একদিন রক্তে লিখেছিল নিজের নাম।
ফাগুনের ভোরে কুয়াশার ভেতর
কেউ রেখে গিয়েছিল লাল অক্ষরের শপথ—
নিঃশব্দ মাটিও সেদিন উচ্চারণ করেছিল প্রতিবাদ।
বুলেটের শব্দ ভেদ করে
যে স্বর উঠেছিল বুকের গভীর থেকে,
তা ছিল না শুধু উচ্চারণ—
ছিল ইতিহাসের শিরায় জ্বলে ওঠা আগুন।
শহীদেরা জানত,
মৃত্যু কখনো ভাষাকে থামাতে পারে না;
কারণ শব্দ জন্মায় মানুষের আত্মায়,
আর আত্মা কখনো বন্দি হয় না।
আজও যখন শিশুরা প্রথম অ আ ক খ লেখে,
কাগজে নয়—
লিখে সময়ের দীর্ঘতম প্রতিরোধের গল্প।
এই ভাষা শুধু উচ্চারণ নয়,
এ এক অনন্ত দায়, এক দীপ্ত উত্তরাধিকার—
যেখানে প্রতিটি বর্ণের ভেতর
একটি হৃদয়ের স্পন্দন লুকিয়ে আছে।
তাই আমরা যখন কথা বলি,
আসলে প্রতিটি শব্দে জ্বেলে রাখি
রক্তমাখা একুশের অমর জ্যোৎস্না।
চলো নত হই
সুমন আমীন
চেতনার আকাশ দ্যুতিময় বটবৃক্ষ
সময়ের পরতে পরতে স্বর্ণাভ মাইলফলক
তোমার পলিমাটি জেগে ওঠে
মারফতি জলজ বাতাস
আদি কবি লুইপা নক্ষত্রের ভাঁজে বসে
বর্ণমালার উল্লম্ফনে স্বর্গের জলসা কাঁপায়
ধ্রুবতারা শহীদ মিনার
জেগে থাক মহাদেশ মহামিলন
শিমুল ভালোবাসার অর্ঘ্য হোক
শিশুর হাসির ব্যঞ্জনায়।
চলো নত হই
বসন্ত হারানো সবুজ পাখির প্রতি।
বর্ণের মিছিল
রফিকুল নাজিম
জলপাই ফুল থেকে চুইয়ে পড়া রৌদ্রের হাসি উপেক্ষা করে
নবীন কবি সেইদিন নেমে এসেছিল রাজপথে।
প্রেমিকার জন্য রাতজেগে লেখা চিঠিটা বুক পকেটে নিয়েই
ভীরু প্রেমিকটাও বীরদর্পে ভেঙ্গেছিল রাজপথ,
বটতলার তুখোড় ছাত্রনেতাও বুক চিতিয়ে এসেছিল মিছিলে।
জিন্নাহ-ইয়াহিয়ার মুখে লাথি মারতে মায়ের আঁচল ছেড়ে এসেছিল দুরন্ত এক কিশোর; মতিউর।
নিজের বিয়ের সদাই-পাতি এক দোকানে রেখেই
সেইদিন মিছিলে এসে শামিল হয়েছিল- রফিক।
প্রেসে তালা ঝুলিয়ে ছাপাখানার কর্মীও এসেছিল রাজপথে,
ছাত্র-যুবা, মা হারা সন্তান, বাবার অবাধ্য ছেলে, বাউন্ডুলে সেই যুবক, মহল্লার পাতি মস্তান, মসজিদের ঈমাম, মন্দিরের পুরোহিত; একে একে সবাই ঘর ছেড়ে এসেছিল রাজপথে।
ফাল্গুনের আগুনরঙা রাজপথে; বর্ণমালার মিছিলে শ্লোগানে।
বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় থেকে বর্ণগুলো নেমে এসেছিল মিছিলে
প্লেকার্ডে প্লেকার্ডে, শ্লোগানে শ্লোগানে
প্রকম্পিত হয়েছিল গণপরিষদ; পাকিস্তান।
সেইদিন মিছিলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল বিষাক্ত পাকি-পোকা
বন্দুকের ট্রিগার চেপে ধরেছিল উর্দুর বেবাট পুলিশবাহিনী
আর সহাস্যে সটান শিড়দাড়ায় হাঁটছিল প্রিয়তম বর্ণমালা
কোলের শিশু মায়ের মলিন মুখ দেখে 'মাগো' ডেকে কেঁদেছিল
সেইদিন শিশুরা বর্ণমালার জন্য উন্মাদ হয়েছিল শাব্দিক প্রতিবাদে।
সেইদিন থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ঠুসঠাস শব্দকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল
বাঙালির 'মা-মাগো' ডাকের চিৎকার
সেইদিন বুলেটবিদ্ধ বুক থেকে একফোঁটা রক্তও ঝরেনি
তবে রক্ত ঝরেছিল পলাশ শিমুলের বৃন্ত থেকে
অথবা কৃষ্ণচূড়ার ডাল থেকে।
সেইদিন বর্ণমালার চিৎকারে ফোটেছিল বর্ণের ফুল,
আজ সেই বর্ণমালা ফুলে ফুলে সুবাসিত করছে বিশ্বকে
সেই চেনা সুরে বিশ্বও গাইছে; আ-মরি বাংলা ভাষা!
স্বাধীন ডানাসজলকুমার টিকাদার
বাংলা ভাষা শুধু, অ আ ক খ... না;
সে লৌহ-কঠিন অঙ্গীকারও,
'এ ভাষা আমার!'
আর একুশে ফেব্রুয়ারি, পৃথিবীর
সমস্ত ভাষা-পাখিদের ওড়ার
এক স্বাধীন ডানা।
কতদিন ভেবেছি
সুশান্ত হালদার
কতদিন ভেবেছি
সাত কোটি গোলাপের বসন্ত হবো আগমনী বর্ষার কালিদাস বিরহে
কতদিন ভেবেছি
পাতাঝরা দিন শেষে চৈত্রের হাওয়া হবো উপকূল- দক্ষিণে
কতদিন ভেবেছি
ঘুম ভাঙা পলাশের চোখে
স্বপ্নাতুর-ভোর হবো একুশের পদযাত্রা মিছিলে
কতদিন ভেবেছি
জননী সভ্যতায় জাগ্রত হবো পল্টন ঘেরা নেলসন ভাষণে
কতদিন ভেবেছি
প্রতিশোধ বদলায় মতিউর হবো হাহাকার ভরা জননী বিদীর্ণ সকালে
কতদিন ভেবেছি
বোনের হাসিতে পতাকা হবো ঘোষিত বিজয় মিছিলে
ভাই-হারা মায়ের বুকে
শহীদী পিতার 'কসম' হবো ঝড়ো-হাওয়ায় পতাকা শোভিত বিকেলে
কতদিন ভেবেছি
প্রেমিকার চোখে আঁকাবাঁকা পথ হেঁটে যাব দিশেহারা চৈত্রের কোন দুপুরে
যেখানে কালোমেঘ জমে থাকে সূর্য-অস্ত ভরা ভাদর সীমান্তে
কতদিন ভেবেছি
বুক খোদাই করা পাহাড়ে ঝর্ণা যদি নদী হয় আক্ষেপ ভরা মৌসুমে
তবে বেহুলা প্রেমে আমিও লখিন্দর হবো চন্দ্রবোড়া ছোবলে!
ভাষার প্রেমে
এস ডি সুব্রত
সালাম জব্বার রফিক বরকত ..
শুয়ে আছে শ্যামল কচি দূর্বাঘাসে
বাংলা আমার এখনো ভেজা
তাজা রক্তের নিঠুর খুনে,
এই বাংলার আকাশে বাতাসে
হাওর নদীজলে পলাশে শিমুলে
চেতনার ঢেউ যায় খেলে
দুর্নিবার অনন্য ভাষার প্রেমে।
পীচঢালা পথে দুর্বার রক্তস্রোতে
বুলেটের আওয়াজ কানে ভাসে
ভাষা রক্ষার অকুতোভয় সংগ্রামে
রক্ত আজো টগবগিয়ে উঠে,
এই সবুজ শ্যামল মাটির বুকে
আজো কান পেতে যাই শুনে
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই - উদাত্ত মিছিলে
বায়ান্নর দৃশ্যপট ভাসে চেতনার আকাশে।
স্বরবর্ণ বিধৌত শ্লোক
কমল কুজুর
মায়ের ভাষায় উচ্চারিত দৃপ্ত শপথ
প্রতি পদক্ষেপে আগুন ছড়িয়ে যায় শব্দ শকট
দুর্বিনীত আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা বিদগ্ধ চোখ
মুক্ত আগামীর স্বপ্নে বিভোর আনন্দলোকের ঘেরাটোপ
পিচঢালা অমাবস্যা পথের পরে পোড় খাওয়া শরীরের
আছড়ে পড়া অ আ ক খ র সাদাকালো রঙ
বিভেদ ভুলে গিয়ে নিকেল হারিয়ে তারা নদী হয়ে যায়
কালো জলের ঘুমন্ত নদী
যেখানে মানুষখেকো কুমির সাঁতার কাটে হন্যে হয়ে
মুক্ত বিহংগ ডাহুকের স্বপ্নবিভোর ডানায়
কালো আকাশের ক্রোধ পড়ে ভেঙে
তবু বক্ষ উঁচিয়ে দাঁড়ায় সূর্যের দিকে চেয়ে…
ফাল্গুনের দুপুর
অলোক আচার্য
হলদে পাখিটা গেয়ে যায় অকালের গান।
বিকেল পেরিয়ে রাত ভোরের অপেক্ষায়,
বাতাসে সুর নেই, বোবা ঢেউ আছড়ে পরে
তীব্র ক্রোধ আর স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পরে রাজপথে।
হাত থেকে হাত, বুক থেকে বুক- একটি শব্দগুচ্ছ
ফাল্গুনের দুপুরে তখন প্রজ্বলিত স্ফুলিঙ্গ।
ঘাতকের বুলেট- বেয়নেট আর শফিকের রক্ত
মিশে একাকার কৃষ্ণচূড়ার রং এ।
মাগো তোমার হীরকবুলি
সৌপর্ণ মাছুম
সালাম বরকত রফিক জব্বার বিলিয়ে দিলো প্রাণ
মাগো তোমার হীরকবুলি অমৃত অম্লান ।।
হাজার কবির পীযূষধারায়
কাব্য-গানে মন ভেসে যায়
উচ্চশিরে বিশ্ববাসী গায় একুশের গান ।
করেছি পণ শুদ্ধরূপে তোমার মুখের ভাষা
শিখব মাগো দিও শুধু আশিস-ভালোবাসা
রুখব মাগো বাংলাদূষণ
করব তারে জীবনভূষণ
বাড়বে তবেই বিশ্বব্যাপী বাংলার সন্মান ।
বিশুদ্ধ বাঙলা
রহিম ইবনে বাহাজ
ফেব্রুয়ারি এলেই জাগ্রত হয় মৌসুমি কোকিল, মাতৃভাষার চাষ করবার জন্য
নিয়ম বন্টন করার গান, সমগ্র বাংলাদেশ
প্রার্থনায় জননীর আর্তনাদ।
ভাতের ফেনার মতোই দরদ উপচে পড়ে
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে শহরের কাক বয়ানে বুক ফাটা কন্ঠ শুধু মাত্র
ফেব্রুয়ারিতে শুনতে পাই।
আফসোস, মাগো, তোমার মুখের ভাষা আজও শতভাগ ব্যবহার হচ্ছে না।
ফেব্রুয়ারি অতিক্রম হলেও
পুনরায় ভুলে যাবে লাট সাহেবরা।
পাড়া গাঁয়ের জেলে,কামার, কুমার,মুচি, চাষি, কৃষক - কৃষণী,রোদেপুড়া,শ্রাবণে ভেজা দিন মজুর, মাঠের রাখাল, একমাত্র তাদের ভাষা শত ভাগ বিশুদ্ধ বাঙলা। বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহার স্খলন হচ্ছে
বাংলা ভাষা ক্রমশ গিলে খাচ্ছে
এফ এম রেডিও কর্তৃপক্ষ,
সবাই যখন বলে
কিছু বলার নেই
কিছু করার নেই। আমি তখন টুঁটি চেপে ধরে আদায় করতে চাই বিশুদ্ধ বাঙলা।
প্রতিধ্বনি
মাহমুদ নজির
কথার ভেতর আছে শুধু ক্রোধ
হিংসা- দ্বেষ,অভিমান
যন্ত্রণা, যাতনা, বিরহ, বেদনা।
স্নেহ, ভালবাসা, শান্তি, স্নিগ্ধতা
মিলন, মুগ্ধতা, সাম্য ও সম্প্রীতি
মুক্তির কথা নেই কোনো।
যেদিকে তাকাই, যে দিকেই কান পাতি
রক্তচক্ষু, অসংলগ্ন কথার হিড়িক,
প্রাণে বাজে, বুকে বাজে
বিশ্রী, বিদঘুটে হাওয়া।
দিনরাত দুঃসহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠি
হাঁপিয়ে উঠি, চমকে উঠি হরহামেশা।
কথার ভেতর আছে শুধু ভাঙন
দাউদাউ ঘৃণার আগুন!
চেতনা, চৈতন্য, শিল্প-সাহিত্য, সাধনা
আনন্দ, হাসি, গান নেই তালে, সুরে।
চারিদিকে ছন্দহীন বেসুরে আওয়াজ
ধ্বনি-প্রতিধ্বনি হয়ে
প্রাণে বাজে, বুকে বাজে ধু-ধু...
একটি জঘন্য উপত্যকা, ভয়ানক অক্ষরের মৃতদেহ ও আত্মার লিপস্টিক শৌচালয়
নিমাই জানা
ভয়ানক রেডিয়াম ফুৎকার ক্যাটারিং হাইড্রোফেনাল ও কেমোথেরাপির লিথিয়াম তারজালি ভেদ করে বেরিয়ে আসা উইকিপিডিয়ার মতো আমি রাজপথে পড়ে থাকা লাশেদের ওপর রেডিয়াম ফুঁ দিচ্ছি। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে তাদের বুলেট ক্ষত আগ্নেয়াস্ত্রের লম্বা লম্বা ঠ্যাং ওয়ালা সারফেনটাইম ও সাপেদের টি বি বারকোড সংক্রান্ত সমস্ত মহাবিদ্যালয় ঘুম,
পৃথিবীতে সব অক্ষর পুরুষেরা ষড়যন্ত্রের শিকার, ধাতব লালা নিয়ে অদৃশ্য ক্যাপসুলের ভেতরে ঢুকে যায় মৃততান্ত্রিক হত্যা বিশারদদের মতো, ভয়ানক বৃষ্টি হবে কম্বোজের ঝিনুক উলঙ্গ হয়ে যাবে মৃত লাশেদের অদ্ভুত মুখগহ্বর ফুটে উঠবে মৃতজীবীর ছত্রাক ভয়ানক কবরের ভেতর অদৃশ্য মানুষেরাই হাড়হিম বরফ কলের শীতল ঠান্ডা তুলো নিয়ে ভাঁজ করে খেতে খেতে উপভোগ্য হয়ে বসে পড়বে অতিরিক্ত উত্তর গোলার্ধের আর্যাবর্ত ভীষ্মকালীন লম্বা চতুর্মুখী শ্মশান বিশাল ব্যোমপাত্রের উপর , ক্রমশ বিচ্যুত হচ্ছে ঞ , সবকিছুই খাচ্ছি মায়ের গল্পকালীন গর্ভ ছিন্ন করে আমার রক্তাক্ত জরায়ু বের করে আনছি ঢুকে যাব থার্ড জেন্ডার ও পার্টিসিপল লৌহ ইস্পাতের চামচের ভেতরে, এ আই ফরমেটে আমার মৃতজীবী তুলো নিয়ে যাবে সমস্ত শব বাহকদের , এতো পোস্টমর্টেম ঘরে শীতল বাতাস মাথা রাখার রক্তাক্ত ইঁট লাশখরের বিষাক্ত ভয়ানক গর্ভ আমাকে প্রতি রাতে দীর্ঘ ঈ কার শেখাচ্ছে , হি হি করে হাসি লালা বিক্রি করি কপালে সুড়ঙ্গ তৈরি করি ব্লাড ক্যান্সারের অতিরিক্ত সেল গুলোকে টেস্টটিউবে ভরে পাঠাই কোন শিক্ষাবিদের রন্ধনশালার প্রাগৈতিহাসিক কোন ধ্বংসপ্রাপ্ত সাম্রাজ্যের ডানদিকে রাখা ছাইদানে,এখানে আটজোড়া নিঝুম নিস্তব্ধ ট্রাফালগার নিয়ে পৃথিবীর শহীদ দিবসে কেমন পাতলা সাদা প্লেটের উপর জাহান্নামের লকিং জল বন্ধক রেখে উড়ে যাচ্ছে অশ্বত্থামার হাড়গোড় নিয়ে ,মানচিত্রে ভুল করে ঢুকে পড়ে মৃত্যু , মৃত্যুর লোহিত , সাদা দাঁতের মরীচিকার অয়ন পদার্থ , জ্বলে জ্বলে উঠছে ব্যক্তজীবী লোহার সাঁড়াশি, শিক কাবাবের মতোই মৃত সন্তানেরা অন্তর্বাস খুলে রেখে স্তনের মাংসের উপর পুঁতে দেবে, রক্তভেদী কোন লেলিহান বিপ্লবের আলগেরিদম এভিডেন্স , হাঁ করে হেসে ওঠে কসাই গোলাপি মৃত্যু পথযাত্রী আঁশটে পতাকা উঁচিয়ে ঋ কার শব্দ কেমন মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রেনের নিচে জমজ জলের হ্যালুসিনেশান দেখাচ্ছে , তিনজন পুরুষ অজস্র বাকযন্ত্র থেকে ব্যঞ্জনধ্বনির পাগলাগারদ বের করছে জাহাজের অবিন্যস্ত ফিজিং কাউন্টার থেকে , পৃথিবীর সমস্ত কফের দোকানের শীর্ণকায় পরী অ্যাজমাটিক রোগী সেজে আত্মার কিউমুলেসান বিক্রি করছে ননটেরিফিক মূল্যে
ভাষা ও শিল্প
দ্বীপ সরকার
ভাষাকে দিয়েছি আত্না
অক্ষরকে দিয়েছি শরীর
তবুও আমার ভাষাকে
তোমরা আটকাতে চাও
অক্ষরের চোখে বারুদ
ভাষার আত্নায় শিল্প
বারুদ আর শিল্প মিলে
কখন যে ভাষা হয়ে উঠেছি
আমি যখন কথা বলি
বারুদের মতো লাগে
আমি যখন লিখি
কবিতার মতো লাগে
কত যে শিল্পসম্মত অক্ষর
কত যে মায়াভরা উচ্চারণ
"ভালোবাসি"বললে
ক্রাশ না খেয়ে পারে না।
কী আছে এইটুকুন শব্দে!
কী যে পরাগের মতো রুপ!
আমার প্রেমিকা যখন তাকায়-
অক্ষরগুলো "ভালোবাসি" হয়ে যায়
আমার মা যখন চেয়ে থাকে
অনুচ্চারিত কিছু একটা ভেসে আসে
চোখের তার কত যে ভাষা!
হাতের কাঁকনে কত যে শিল্প!
মুখের ভাষা কখনও নদী
কখনও ধানক্ষেত
ঘুম থেকে উঠলেই চোখে
ফোটে অক্ষরের গোলাপ
১৭টি কবিতা নিয়ে সমৃদ্ধ ভাষা দিবস সংখ্যা। বাঙালি কবির মাতৃভাষাপ্রেম নানা রূপে নানা ব্যঞ্জনায় ফুটে উঠেছে কবিতাগুলোতে। সম্পাদক মহোদয় সাধুবাদ পেতে পাতেন।
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks