সম্বোধন
ফুলের ঠোঁটের কাছে
এক টুকরো বাতাস
মৃদুস্বরে খেলা করে
সেই বাতাসটুকুই
তুমি।
জনম
ধুলোর ঝড় বয়ে যাচ্ছে চারদিকে
আর আমি উড়ে যাচ্ছি সেই ঝড়ে, যেনো পাতা
উড়ে যাচ্ছি সমুদ্র থেকে সমুদ্রে
,দিগন্ত থেকে দিগন্তে
এক মৃত্যুপুরী থেকে আরেক মৃত্যুপুরীতে।
জন্মান্তরের ব্যর্থতার বাকল খুলে ফেলে
খুলে ফেলে লজ্জা আর ধিক্কারের মালা
উড়ছি আমি আকাশে
এককণা ধুলো।
ডুবে যাচ্ছে শতজন্মের হলুদ পাতারা।
আমাদের বাড়ি
কোথায় সেই বাড়ি! কবে যে তার দেখা মিলবে
কে জানে
কে জানে কোন ঝড়ে
মুছে যায় মুহূর্তেই,সবুজ নদীর ঢেউ, বেলীগুচ্ছের ঝাড়
শিশুদের হাতে নেচে যাওয়া দুপুর
খুঁজে ফিরি আজ আনমনে
আমাদের বাড়ি, আমাদের সেই সোনালি বাড়ি।
জীবনের রঙ
সমুদ্রের চেয়ে গভীর হৃদয়ী
কোন মানুষকে জানার জন্য
আমি চলে যাই সমুদ্রের কাছে
তারপর আবিষ্কার করি
সব মানুষের হৃদয়ই সমুদ্রের চেয়ে গভীর, গভীর।
তুষারের চেয়ে শুভ্র হৃদয়
কোন মানুষকে জানার জন্য
আমি চলে যাই তুষারের কাছে,
তারপর আবিষ্কার করি
প্রতিটি হৃদয়ই এমন শুভ্র, অমলিন।
কয়লা চেয়ে কালো কোন মানুষকে জানার জন্য
চলে যাই কয়লাস্তূপের কাছে,
কাছে গিয়ে অবাক বিস্ময়ে আমি আবিষ্কার করি
প্রতিটি হৃদয়ই সেই কাঠকয়লার চেয়ে
শতগুণ বেশি পোড়া দুঃখের অসহ্য অনলে
পুড়ে পুড়ে আজ সে যে অবিশ্বাস্য কালো হয়ে গেছে।
তবুও তো আমরা ভালবাসি ঐসব কালো মানুষকেই
সেই সব মানুষকে যারা
চোখের তিক্ত জলে সিক্ত, স্নিগ্ধ
এক একটি কৃষ্ণ গোলাপ।
আরো পড়ুন
চাঁদের শরীরে জ্বলে নক্ষত্রের স্রোত
বুকের ভেতর কিছু মেঘ আর রোদ ঘুম যায়
প্রশ্ন করে
কাকে বলে ভালোবাসা?
সে কি কোন শালিখের বুক?
সে কি কোন নিভৃত অসুখ?
বেদনার অন্য নাম?
জানিনাতো।
শুধু জানি মোমের মতোন কি যে গলে যায় বুকে
তারার মতোন কি যে খসে যায় ধীরে-
চাঁদের শরীরে জ্বলে নক্ষত্রের স্রোত।
বিবর্তন
জল তুমি গড়িয়ে যাও মেঘ থেকে
মেঘে মেঘে হাওয়ায় হাওয়ায় ছড়াও তোমার হাত
পাতা থেকে পাতায়, শাখা থেকে শাখায়
দেঊড়িতে ও রোদে,
কেউ দেখবেনা কেঊ জানবেনা একদিন
এক ফোঁটা জলে ডানা মেলবে অসম্ভবের ফিনিক্স
জেগে উঠবে সর্বপ্লাবী অপার মহাসাগর।
সমীকরণ
অন্ধকার যখন ঘন জমাট হয়ে ওঠে
তখন ফুটে ওঠে তারা
পাখপাখালির বুলি যখন ঘন হয়ে জমে
তখন ভেসে আসে ভোরের সমাচার
আর
তোমার কন্ঠ থেকে যখন নেমে আসে সুরের জলতরঙ্গ
জীবন ভরে ওঠে মৌতাতে,সুঘ্রাণে।
মানুষ হয়ে
মানুষ হয়ে জন্মেছি ভবে কি সুন্দর এই ব্যাপারখানা
আরতো সবি বলি ওরে, আরতো সবি তা না না না।
যার চোখেতে সুন্দর নামে তার চোখেতে সুন্দর আমি
যার হাসিতে হাসে ঈশ্বর , সেই তো আমার অন্তর্যামী।
ঝর ঝর ঝরে বাদল,আমি কাঁদি হাসির ভেতর
ঝরি আমি জলের ধারায়,সব ভেসে যায় ও গো স্বামী।
মানুষের নাম আসলো আগে তার পরে সব দেবদেবতা
মাটির দেহে সোনার পাখি অমর রূপের শোনায় বার্তা।
ও সে রূপ তুমি ধরবে কিসে বাধন খুলে যাবে মিছে।
খাঁচার পাখি যাবে উড়ে, থাকবে পড়ে ময়লাপানা।
মানুষ হয়ে জন্মেছি ভবে কি সুন্দর এই ব্যাপারখানা।
জলের মধ্যে
জলের মধ্যে খেলে তোমার মন ও জ্ঞাতিজন
জলে ডোবো জলে ভাসো কারণ অকারণ।
ঢেঊয়ে ঢেউয়ে তুমি নাচো,জলের হৃদয় তুমি সেঁচো
আকাশ তোমার প্রেমে পাগল বিপদের কারণ
জলের মধ্যে খেলে তোমার মন ও নিরঞ্জন।
এই জীবনটা যাপন হলে অন্য জীবন ঝলমল করে
ভাসছে যেন হৃদয় বন্ধু ফোটা পদ্মফুল
তুমি আলো আমি আঁধার, তোমার আমার নেই পারাপার
আমার সিন্দুক খোলার চাবি সেতো অন্যজন
জলের মধ্যে খেলে তোমার মন ও নিরঞ্জন।
হংসজীবন
রাজহংসেরই জীবনখানি পেতাম যদি আমি
কী যে খুশী হতাম সে যে জানে অন্তর্যামী।
মেলে দিয়ে সাদা ডানা উড়াল দিতাম দূর অজানা
মিঠা মিঠা বাতাস খেতাম রূপের রাজ্যে থামি।
দুগ্ধজীবন পাত্রে নিয়ে ননীখানি নিতাম পিয়ে
জলটুকু তার রইতো পড়ে হতাম শুদ্ধ প্রেমী।
দিয়ে তোমার প্রেমের ধারা করতে আমায় পাগলপারা
দু'চোখ ভরে নিতাম দৃশ্য হতাম না আগামী।
আরো পড়ুন...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks