মা দিবসের কবিতাগুচ্ছ।। Cluster Poems o mother কুয়াশা

১০ মে বিশ্ব মা দিবস। এ উপলক্ষে কুয়াশার ছোট আয়োজন। এখানে শুধু মা'কে কেন্দ্র করে রচিত লেখা, তার সাথে অবশ্যই মানের বাছ বিচারে গ্রহণীয় লেখাকে প্রাধান্য দিয়ে সংকলিত করা হলো। সকল কবিকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

||সম্পাদক




ভাতের আগে দুধের অধিকার
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল 

ভোটাভুটি বা বুড়ি আঙুলের অমোচনীয়
কালিদাগের আগে  
ভাতের স্বত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
এবং ভাতের আগে চাই মায়ের দুধের অধিকার, 
অনীবার্য।

মা দিবসের পাশাপাশি সন্তান দিবস চাই,
সমান্তরাল।


মা সব দেখছেন
মাহফুজ রিপন 

মায়ের ছবি-টা আলমিরাতে তুলে রেখেছি
যাতে মনের ছবিখানা কখনও নষ্ট না হয়।
শৈশব থেকে লক্ষ করছি আকাশে পাতালে
গোল গোল মরীচিকার মধ্যে জ্বল জ্বল করে।
ইস্কুল পেরিয়ে কলেজের বারান্দায় আসলাম
বোধের অবক্ষয় ঘটলেই সামনে ছায়ামূর্তি। 
যে দিন তুমি উষ্ণ হাত রাখলে আমার হাতে
সে দিন থেকে মনিটরটা ঝির ঝির করে।
একলা চলি, একলা লড়ি, ভয়হীন মননে
একটাই বিশ্বাস বুকেতে মা সব দেখছেন।


মায়ের স্নেহ 
আলাউদ্দিন আজাদ 

মা তুমি ভোরের শিশির, কোমল আলোর গান,
তোমার ছোঁয়ায় জেগে ওঠে ক্লান্ত পৃথিবীর প্রাণ।
ঝড়ের দিনে বুক পেতে দাও সাহস জাগাও মনে 
তোমার চোখেই দেখি মাগো নতুন স্বপ্ন ভুবনে।

ক্ষুধার দিনে নিজের সুখ করো নীরবে দান,
আমার হাসির মাঝেই খোঁজো জীবনের সম্মান।
রাত জেগে আগলে রাখো স্বপ্নগুলোর তরে,  
নিজের ব্যথা লুকিয়ে রাখো হাসিমুখ করে। 

মা তুমি নদীর মতো অফুরান স্নেহ, মায়া বেশ,  
তোমার ভালোবাসায় মুছে যায় সব ব্যথা ক্লেশ। 
এই পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র যে নাম,
মা ডাকে ভরে ওঠে হৃদয়ের নীল খাম।

জীবন যত দূরে যাক, বদলাক শত সময়,
মায়ের ভালোবাসা শুধু চির অমলিনময়।
সব হারিয়েও মানুষ পায় বাঁচার নতুন আশ,
মায়ের স্নেহে লুকিয়ে থাকে স্বর্গেরই সুবাস। 


যেতেই হল, তুমি চলেই গেলে 
শাওন আসগর 

তোমাকে যেতেই হল 
একটু অপেক্ষা করলে না 
একটুও তর সইলো না তোমার 
একটু মায়ার বাঁধনে টান পরলো না তোমার 
স্নেহের বৃত্তে আর কিছুক্ষণ থাকতে পারলে না?

আমরা
স্বজন সবাই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম আসবো বলে 
এই পথ কেমন যেন দুজন দুজন দূরের হলো 
এই পথ যেন ফুরাবে না কেয়ামত পর্যন্ত
কী এমন তৃষ্ণা লেগেছিল আজ তোমার
তুমি কি জান্নাতে হাউজে কাউসারের 
পানি পান করবার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিলে? 

চলেই গেলে
যেতেই হল দ্রুত 
শূন্য উঠোন তোমার সেই লাউ ঝিঙ্গা সিমের ঝাড়
প্রিয় মুরগির বারোটি ছানা, গোয়ালে গরুর শাবক
নারকেল আম, কিছুই তোমাকে আটকাতে পারল না? 

যেতেই হল 
চলেই গেলে 
আমার মাথায় হাত ছুয়ালে না আজ 
সকালে যখন দপ্তরের যাব বলে ঘরের বের হই 
যখন বিদ্যুৎ বিল দিতে যাই, গ্যাসের অফিসে ঢুকে পড়ি ফেরার পথে যখন তোমার জন্য কিনে আনি পান সুপারি তখন দরজায় অপেক্ষা করতে তুমি 
অত সব দায়িত্ব
অত সব দৃঢ় স্নেহ বন্ধন
অত সেই করুণ স্মৃতি রেখে 
শেষ পর্যন্ত চলেই গেলে জননী আমার..

এই শূন্যতা 
এই হাহাকার
ক্রন্দনের চিহ্ন নিয়ে আমি কবে ছুটে যাব কবরের কাছে?

কবে আর নেয়া হবে তোমার আঁচলের গন্ধ  
কতো চিৎকার করে 
ভীষণ চিৎকার করে 
সমস্ত শক্তি দিয়ে বিলাপ করে বলব: জননী, মা আমার তুমি চলেই গেলে
একটু অপেক্ষা করলে না
এত রাগ এত কেনো অভিমান 
কেনো ছিলো আমার ওপর... আমাদের ওপর....


মা
ঋজু রেজওয়ান

পরিবারের এমন এক চাপকল
চাপতে... চাপতে... গল গল করে পড়ে... অজস্র জল। 
যার ভেজা আঁচল শুকায় না, ভেজা জোৎস্নার শঙ্কায়!


মায়ের মুখ
পুলিন রায়


ডানে দেখি, বায়ে দেখি
সামনে এবং পেছন দেখি
শয়নে দেখি, বসায় দেখি
পাতার সবুজ রঙে দেখি
শস্য এবং ফুলে দেখি
জলে দেখি, ডাঙায় দেখি--
দেখি মায়ের মুখটি দেখি।

দানায় দেখি, পানায় দেখি
চন্দ্র এবং মঙ্গলে দেখি
পালকে দেখি, ঝলকে দেখি
পাল তোলা নৌকায় দেখি
ভরা নদীর স্রোতে দেখি
দেখি, মায়ের মুখটি দেখি।

সুখে এবং দুঃখে দেখি
নিটোল ভালোবাসায় দেখি
নতুন কবিতাতে দেখি
মনমাতানো গানে দেখি
দেখি মায়ের মুখটি দেখি 

হাসিমাখা মুখটি মায়ের
সারাটি ক্ষণ করে যতন
একান্তই বুকে রাখি।


মা, ঘুড়ি ও উৎসব
মাহবুবে খোদ টুটুল

মা নেই। 
শুকনো রোদের সুতায় উড়ানো
                     সেই ঘুড়ি উৎসবও নেই। 

আকাশে রঙে—বদলে যেত ঘুড়ি,
আমরাও ভেসে বেড়াতাম ঘুড়িযুদ্ধে 
হেরে গেলে অদ্ভুত শূন্যতা পা ডুবিয়ে বসে যেত বুকে।

শান্ত মা আমার করুন মুখ পাঠ করতো আর 
বলতো— “এত মাতামাতি কোরো না। মানুষ হও।
মানুষ হলে আকাশও ছোট হয়ে যাবে।”

ছোট হওয়া আকাশের নিচে মানুষের দূরত্ব বহুদূর, 
সুতা ছাড়লেও ঘুড়ি উড়ে না, উড়ায় বাতাস। 
কখনো বিদ্রোহ করে ঘুড়ি, ছুটে যায় অন্যদিকে। 
জীবনও তাই— উড়ে উড়ে সামলাতে হয় টান। 

এখনও দূর থেকে ঘুড়ি উৎসব দেখি আর 
মনে হয়, তুমি যেন বলছো— “উড়ো, তবে টান ভুলে যেও না।


মা
হাসনাইন হীরা

মা আমার হিজল কুড়ানো পথ, 
পথের বাঁকে বয়ে চলা নদী,
আমরা তাঁর মন মেশানো জলে
গানের মতো হাঁটছি নিরবধি। 

হাত বাড়িয়ে ভাঙছি সদা দূরের সীমানা
খুঁজছি সদা কাচলভরা ফুলের ঠিকানা।

মা যে আমার নরম বুকে নকশা করা রুটি,
আমরা তাঁর সুগন্ধিতে ফুলের মতো ফুটি।

ফুটতে ফুটতে ছুটি, ছুটতে ছুটতে ফিরি
ঢেউয়ের মতো লিখি অনেক নাম,  
মা যে আমার হিজল কুড়ানো পথ, 
পথের দেখানো শ্যামল নদীর গ্রাম। 


মা 
গোবিন্দলাল হালদার

জীবনের গন্ধ না নিয়েই নাগডেমরার পাঠ
শেষ না করেই কিশোরী বয়সে প্রাণনাথের
ছেলের সাথে মা চরপাড়ায় এসে এখন সে
ঘুমিয়ে আছে সাড়ে তিনকাঠা মাটির নিচে।

শীতে আমার মা ঢেঁকিতে মাড়া চালের গুড়া 
দিয়ে মালপোয়া তৈরি করতো। চুলোর পাশে
বসে গরম পিঠা খেতাম আকাঙ্খার রসনায়।
খেঁজুর গুডের ঝোলা রস আর মাত্রই ভাজা 
মুডি মাখামাখি রোদের আদর নিয়ে উঠোনে
বসে ছোটদের সাথে ভাগাভাগি করে খেতাম।

মা ছিল সংসারী,ধর্মমতি। সদালাপী, মিষ্টিমুখ।
কষ্টের বক্ররেখা মায়ের মিষ্টিমুখে হেঁটে হেঁটে
হাসির চঞ্চলতা কক্ষনো দূর্বল করতে পারেনি।
অভাবের খণ্ডচিত্র ঢেকে হেঁটেছে ধৈর্যের সুতো
আঁকড়ে ধরে। মেনে নিতে হবে কথার স্রোতে।
মা এখন তৃতীয়টির ধুপ দীপ গন্ধ নেয় প্রতিদিন। 

     
মা আমার
মৌসুম মনজুর

মা জীবনভর ছিলো বেতনহীন। আজীবন বেসরকারি চাকরি, বোনাস পেয়েছে ভগ্নস্বাস্হ্য,
        অকাল মৃত্যু।

তার চাকরিস্হল গোয়াল ঘর। ডিউটি ধানখোলায়।
সুবেহ সাদেকে অগ্নি প্রজ্বলন,সেদ্ধ করেছে প্রাত্যহিক অন্ন।

কলতলায় তার অসীম ব্যস্ততা। পুকুর ঘাটে ওভার টাইম। ধান ভানার তুমুল যজ্ঞে দিসাহারা তার পরান পাখি।

অগুনতি সদস্যে ভরা তার মাটির ডাইনিং । হাস মুরগী ভিক্ষুক, ছিলো পালিত সারমেয়।
প্রতিবেশি সখিনা,জরিনা, সিদ্ধ করে খেয়েছে তার অস্হি মাংস। 

কার্তিকের মংগায় খুঁজেছে মা উৎসব ভাতা। মাঠে যখন কচু ঘেচুর আকাল, তখনও মা যেনো জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে মরিয়া।

মা বিহীন এক মাঠ পড়ে আছে আজ দিগন্ত জুড়ে। 
ধানের অরণ্যে মৌ মৌ গন্ধ ,মাকে আজো দেখি যেনো 
সেই পৌষ পার্বনের উৎসবে।


আরো পড়ুন..

রুদ্র সাহাদাৎ এর কবিতা পড়ুন এখানে
হাবিব হেলাল এর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
নিরাঞ্জন রায়ের কবিতা পড়ুন এখানে
শ্রমিক দিবসের কবিতা পড়ুন এখানে
মে দিবসের কবিতাগুচ্ছ পড়ুন এখানে
আবদুর রাজ্জাকের কবিতা পড়ুন এখানে
অনিক খুরশীদের পড়ুন এখানে
চরু হক এর কবিতা পড়ুন এখানে 
প্রেমাাংশু শ্রাবণের কবিতা পড়ুন এখানে
সোমা দে'র নিবন্ধ পড়ুন এখানে
সিকান্দার কবিরের কবিতা পড়ুন এখানে 
তমিজ উদ্দীন এর কবিতা পড়ুন এখানে
আমিনুল ইসলামের কবিতা পড়ুন এখানে

       
মা 
সৈকত রায়হান 

মা নেই - বিষাদে ছেয়ে আছে গৃহকোণ,পুকুরঘাট, উঠোন-ঘাটা !
ঘাটে আসা পোনামাছ তোমার হাতের
 উপরি খাবার না পেয়ে 
পুকুরজুড়ে মিছিলে নেমেছে!
উঠোনের কোনে শালিক পাখি 
কান্নার কলরবে ভাসিয়ে দিয়েছে 
দশদিগন্ত - আকাশের সীমানা ।
মা নেই -সব ঘুটঘুইট্টা আন্ধার !
কেউতো আমারে বোঝেনা।


মা

ইলিয়াস মাহমুদ

পার্ল এস.বাকের মমা
মাক্মিম গোর্কির মাত
আনিসুল হকের মা
বইয়ের পাতায় নিদ্রিত
                        তাদের স্বগীয় মুখ ।
মা আমার
হেঁশেলে মাটির হাঁড়ি পাতিলে
বাবার অভাবগুলো রান্না করে

বিয়ানরাতে
ডাহুকীর কান্নার হাট বাজারে
ছেঁড়া শাড়ীর মতো অথেন্টিক দু:খগুলো
মা  আমার সেলাই করে

মা,  জীবনের  এক রেলগাড়ী
ছুটছে  তো ছুটছে , গন্তব্য
                           বাবা নামের স্টেশনে ।



হাহাকার
​রোখসানা ইয়াসমিন মণি

​হাজার মানুষের ভিড়ে এখন নামে নীরবতা,
দেয়ালের ফ্রেমে বাঁধা সেই হাসিমুখ আর নেই।
মা চলে গেছে আমার বহু আলোকবর্ষ দূরে,
ফিরাতে পারি না তাঁকে, ফেরাতে পারে না কেউ।

​মাগো, তোমাকে ডাকি আজো গোপনে, আনমনে
মনে হয় এই তো তুমি আছো আমার সম্মুখে,
তোমার সাড়া না পেয়ে ডুকরে কেঁদে উঠি আজও
যদি ভুল করে এ পথে এসে ভেজা চোখ মুছে দিতে!

​মাগো! মায়েদের কেনো চলে যেতে হয় দূরপারে?
কেনো ক্ষত মুছে দেয়ার কোমল হাত পাই না খুঁজে?
মাগো, তুমি ফিরে এসে দেখে যাও কী হাহাকার!
তোমার স্মৃতিতে বিষণ্ণ চোখ আজো রেখেছি বুঁজে!


মাকে নিয়ে

চরু হক


তারার আলোয় তোমাকে দেখতে পাচ্ছি মা 

মা আমার, 

মেঘলা ফুলের গন্ধে তুমি মিশে গ্যাছো 

তোমার আঙ্গুল, শাড়ি, দুধমাখা ভাত 

তোমার কষ্ট, তোমার সুখ, তোমার আগুন, 

                        তোমার জল


সব কিছু মনে পড়ছে 

    মনে পড়ছে আজ

    মনে পড়ছে।


তুমি ক্যামোন আছো, সাবিত্রী মা আমার?


মা
হামিদা আনজুমান 

মা মানে তো নাড়ীর বাঁধন মা মানে ঠিক মা ই
মায়ের মতো ত্রিভুবনে আর কিছু তো না ই।

আলো ভরা এই পৃথিবী দেখান যিনি, মা
হয় কি বলো কোনকিছু তাহার তুলনা?

জন্ম এবং জীবন জুড়ে কার আঁচলে ঠাঁই?
মাকে ছাড়া দরদী আর কাকে বলো পাই?

যার চরণে পাবে তুমি জান্নাতি সব সুখ 
দেখলে পালায় দুঃখ-ব্যথা মায়ের হাসিমুখ।

তাইতো বলি, সকল সময় মাকে বেসো ভালো
মায়ের বুকে সুখের সুধা মা ই চোখের আলো।



মা ছিলো আজ নেই
সফিউল্লাহ আনসারী 

ঈদ আসে ঈদ যায় যায় যায় দিন রাত,
মা ছিলো আজ নেই স্নেহ মাখা সেই হাত!

ভিন্ন মুখে আজ খোঁজে ফিরি মা'র মুখ
স্মৃতির পাতায় মাগো লেগে আছে ছায়া সুখ! 

ঈদ আসে ঈদ যায় আসেনা তো ফিরে মা,
ঈদের খুশির দিনেও বুক জুড়ে খা খা..!

ভুলে থাকি মা তোমায় দুনিয়ায় মায়াতে
আসলে কী যাবে ভুলা স্বল্প এ হায়াতে?

ঈদ আসে ঈদ যায় মা'র স্নেহ মায়া কই?

বুকে চেপে সব ব্যাথা কোলাহলে ডুবে রই!


সালাম জানাই মাকে 
মজনু মিয়া 

দূর আকাশে মা থাকে না মা থাকে এই বুকে
মায়ের জন্য অশ্রু ঝরে দুঃখ কষ্ট শোকে।
হাজার জ্বালা বুকে সয়ে সন্তান পালন করে 
খেয়ে না খেয়ে জননী আদর সোহাগ ভরে।
পৃথিবীর কেউ না জানুক জানে সকল মায়ে
জঠর জ্বালা কেমন জ্বালা,জ্বালা কত গায়ে।
কেউ না বুঝুক বুঝে মায়ে সন্তানের কি কষ্ট 
আঁচল ছায়ে রাখে ধরে জানান দেয় স্পষ্ট। 
অসুখ বিসুখ বিপদ আপদ জন্মদাত্রী জানে
লুকাই রাখে জীবন বাজি খুঁজে না আর মানে।
পাগল আতুর কানা ল্যাংড়া যাই থাকুক না সন্তান 
মায়ের কাছে সন্তানই সে হোক না সেজন মাস্তান। 
দশ মাস দশ দিন পেটে ধরে জন্ম যন্ত্রণা সয়
বুকের দুগ্ধ পান করিয়ে লালন ও পালন হয়।
এই জন্য মায়ের মর্যাদা সবার ওপর থাকে
পায়ের নিচে স্বর্গ আছে সালাম জানাই মাকে।


মাতৃ-নৈঃশব্দ্য
কাজল রশীদ 

মা...
এক অনির্বচনীয় মহাকর্ষ,
যার দিকে
সমস্ত ভাঙন নিঃশব্দে ফিরে আসে।

তার চোখে ছিলো
বিলুপ্ত নক্ষত্রের শোক,
আর কণ্ঠে
অদেখা আশ্রয়ের প্রত্নধ্বনি।


মা সৃষ্টির চিরন্তন ভাষা
হাবিব হেলাল

মা এক নকশিকাঁথা —
ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে
শীতরাতের উষ্ণতা
প্রতিটি ফোঁড়ে গেঁথে রাখা
পঞ্চদশী চাঁদ

মা বর্ণপরিচয়ের প্রথম ‘অ’
রান্নাঘরের ধোঁয়ায় অদৃশ্য মেঘ
অথচ প্রাজ্ঞ, অমোঘ ও শাশ্বত

সাঁঝবেলায় মায়ের কণ্ঠ
চরণামৃত — ঝরনার সানুদেশে
বাউলের অনন্ত সুর
তপ্ত দুপুরে
চালকুমড়োর ছায়ায় বসে
সুঁই-সুতোয় বোনেন মা জীবনের নকশা

আমি পথ হারালে
মা ধ্রুবতারা —
দাঁড়িয়ে থাকেন দিগন্তে
না ডেকেও যেভাবে
নদী টানে মোহনাকে

মা নিসর্গ ঘুম
ভাঙলেও চোখে লেগে থাকে

মা সৃষ্টির চিরন্তন ভাষা
যার একটি শব্দও
অভিধানে নেই
তবুও মানুষ বহন করে
রক্তের ভেতর
জন্মের আগে থেকে
মায়ের ব্যাকরণ যে বোঝে
সে-ই কেবল মানুষ।


কাঁথা
মিলন মাহমুদ 

একদিন সকালের প্রথম পার্থে জড়িয়ে 
রাখি, খুলে দেখি স্মৃতির কলস 
ঝরে পড়ছে টুপটুপ মা'য়ের আদর। 

কাঁথার প্রতি ফোঁড়ে লিখা আছে
নাম, আমাকে দিয়েছিলো নিস্তরঙ্গ
আঁতুড়ঘরের মুকুট। তারপর ধীরে ---

কোলাহল নিয়ে আমাকে জন্মাতে দেখি 
বাঁচি শরীরজ ঘ্রাণ নিয়ে মানুষের সভায়।

যতোদূর যাই, ততোধিক সমুদ্র ফেনায়
ভেসে আছে কোলাজ তার নিচে নক্ষত্রবিথী,
সহস্র  বছর কাঁথার স্নেহে মুড়ে রাখে গর্ভধারিণী! 


হাসপাতাল 
হোসেইন দিলওয়ার 

হৃদয়মরা চুনসুরকির গায়ে ঝুলছে মৃত্যুর নীরবতা। 
দেখে মনে হয় এর গায়ে কেউ পরিয়ে দিয়েছে 
পুরোনো কবরের কাফন— অভ্যন্তরে মেঘের মতো 
ব্যতিব্যস্ত মানুষ ছুটছে এখানে-ওখানে, সাথে কাঁথা 
আর বালিশ। যেন নরম জাউয়ের মতো বিমর্ষ চোখে 
সবাই বিরিয়ানি রং সুস্থতার অনুসন্ধানে নেমেছে।

সন্তান হারা পাখির উদ্বিগ্নতা নিয়ে আহত প্রশ্বাসেরা
হামাগুড়ি দিয়ে হামলে পড়ছে সিরাপে, ক্যাপসুলে।
ভিড় ঠেলে-ঠেলে ভিড় বাড়ছে, পুড়ে যাচ্ছে পা থেকে মাথা, পরিবেশের। অথচ জলপট্টি দেওয়ার কেউ নেই, কেননা হাসপাতালের কোনো মা নেই।


তারার দেশে মায়ের খুঁজে 
মিয়া ইব্রাহিম 

মা যে আমার ফুলবাগিচা, আমার মুখের হাসি 
একটু কিছু হলে মায়ের, নয়ন জলে ভাসি। 
মা যে আমার কই লুকালো,আমায় রেখে বলো
আনতে হবে মাকে খুঁজে সবাই মিলে চলো ।

মা যে আমার চাঁদ মুখো চাঁদ, আমার বাতি ঘর
কোন দেশেতে গেছ  তুমি আমায় করে পর।
কোথায় আছো, কেমন আছো একটু বলে যাও
আমায় তুমি একলা রেখে  কেমন করে খাও?

মাস পেরিয়ে বছর গেলো তোমার হদিস নাই
কোন দেশেতে গেলে আমি তোমার খবর পাই?
বলো মা, তুমি কী মা আসবে আবার ফিরে ?
কেমন করে খুঁজবো তোমায় লক্ষ তারার ভিড়ে?

তুমি আমার স্বর্গ -সুখ  সন্ধ্যাকাশের তারা
তুমি ছাড়া আমার জীবন চলছে গতিহারা।
ভালো আমায় কেউ বাসেনা তোমার মতো আর 
তোমায় ছাড়া পরকালে কেমনে হবো পার?

পর জনমেও চাই তোমাকে আমার মাথার পাশে 
তোমায় দেখে মুখটা যেনো ফুলের মতো হাসে ।
চাঁদ তারাদের দেশে থাকো চাঁদের মতো হেসে 
আমিও একদিন আসবো সেথায তোমায় ভালোবেসে। 


মা
ইসলাম মুহাম্মদ তৌহিদ 

আকাশ পানে চাই-
দুনয়নে শুধু মেঘ আর শুন্যতা। 
তৃতীয় নয়নের আকাশপটে ভেসে ওঠে গর্ভধারিণীর মমতার বিশালতা!

স্রষ্টার পর কে বেশি উঁচু? 
স্বয়ং স্রষ্টার কাছে সদুত্তর জেনে মহীয়সীর পদতলে ধন্য হওয়ার প্রার্থনায় অবিচল সুউচ্চ এভারেস্ট চূড়া! 

অতঃপর সাগর পানে চাই-
সাগর জল আমাকে ভেজায়, ক্লান্তি কিছুটা কমায়;
কিন্তু ঢেউয়ের কোলাহল উস্কে দেয় ব্যাকুলতা।
নীলজলে হঠাৎ ভেসে ওঠে জগৎশ্রেষ্ঠ মুখ!  মমতার চুম্বনে সব ব্যাকুলতা চুষে নিয়ে ডুবে যায় গভীর সমুদ্রে।
মায়ের মমতার কাছে হেরে যায় সাগরের গভীরতা।



নীরব আশ্রয় 
স্বপ্নীল বড়ুয়া কনা

মা যেন ধানক্ষেতে নুয়ে থাকা বিকেলের রোদ,
শালিক ডাকা পথে জেগে থাকা নীরব এক স্রোত।
কুয়াশা ভেজা ভোরে ঘাসের ডগায় তার নাম,
দূর আকাশে ভেসে থাকে অচেনা মেঘের ঘ্রাণ।

মা মানে হারানো পথে হঠাৎ পাওয়া সবুজ ছায়া,
শূন্য মাঠে একা দাঁড়িয়ে থাকা গোধূলির মায়া।
জীবন যত দূরে যাক, ফিরে আসে সেই ঠাঁই
ধূসর এই পৃথিবীতে মা-ই আমার একমাত্র ঠাঁই।



সবুজপ্রসূ
সৌপর্ণ মাছুম

মৃত্তিকা মা বেলা শেষে স্নেহময়ী কোলে
ঘোর-তিমিরে ঠাঁই দিও মা বিয়োগসন্ধ্যা হলে ॥

তোমার পূত জঠরে মা
জন্মান্তরে এলাম রমা
আগলে আমায় করলে লালন, রেখে বুকের তলে ।।

সর্বংসহা যাও সয়ে সব আঘাত-অপমান
নীরবে নিভৃতে তবু ফোটায়ে যাও প্রাণ

ঊষর-ধূসর গিরি-মরু
সঞ্জীবনে রাঙলো তরু
তুমি তো মা 'সবুজপ্রসূ' উর্বশী ঝলমলে ৷৷



দু’টো স্কেস
অলোক আচার্য

একটি জলপাই রঙের স্কেস; আমার শোবার ঘরে ঝুলে
আমার শৈশবকে মনে করায়। আমার মা, স্কেসটা থেকে তাকিয়ে থাকে
হাসে-কথা হয়। নদীর ম’রে যাওয়ার কথা, বাইরের দেবদারু গাছটার কথা,
বারান্দার পোষা কবুতরের কথা; সিধু জেঠুর মরার খবরটা দেই! 
বাইরের উঠানটাও আমার সাথে এসে দাঁড়ায়; এই উঠানজুড়ে মা অনেককাল 
হেঁটেছে; বউ হয়ে প্রথম পা ফেলেছিল, উঠানটা ভোলেনি মা’র নুপূরের শব্দটা!
আমি আর উঠানটা পাশাপাশি, এরপর
আমার আর মা’র স্কেসটা পাশাপাশি ঝুলে থাকে!


মা
রনি বর্মন 

এখনো ভাঙা থালার পাশে
এক মুঠো ভাত হয়ে বসে থাকো।

আমি শহর শিখছি
তোমার জীবন অপেক্ষায় লেখো।


মা 
অরূপ দত্ত

সবার জন্য কাজ করে যান তিনি 
দিনান্তে একটি শূন্য থালার সম্মুখে 
বসে থাকতে দেখেছি তাকে। 
একটি সংসার মাথায় করে রাখতে দেখেছি,
বেশ মনে পড়ে 
না না না, আমি সবকটাকে হ্যাঁ করাতাম 
মা মা মা বলে।


আমাদের মা
অদিতি রায়

হাজার গন্ধরাজের সাদা সুবাসের ভেতর
আমাদের মা যেন এক রঙিন প্রজাপতি—
উড়ে বেড়ান সংসারের ফুলবাগানে।

মায়ের দুঃখগুলো শিউলি ফুলের মতো
ভোরের শিশিরে নীরবে ঝরে পড়ে,
আর কষ্টগুলো উঠোনজুড়ে
অগোচরে সাজানো থাকে থরে থরে।

তবু তাঁর মুখে লেগে থাকে
জুঁইয়ের কোমল হাসি,
বেলির মায়া,
হাসনাহেনার গোপন সুবাস।

আমাদের প্রতিটি সফলতা
মায়ের আঁচল ছুঁয়েই
ফুল হয়ে ফোটে।

মায়ের ভালোবাসা—
এক অনন্ত বসন্ত,
যেখানে ক্লান্ত পৃথিবীও
নতুন করে বাঁচতে শেখে।



মা
অনুরাগ ভৌমিক 

অন্ধকারের এক মৌন আলো 
ও চোখ থাকে;

যার সাথে মিলে যাচ্ছে মা'র চেহারা।

মা সকালেই নদীর জলে স্নান করে বাড়ি ফিরতেন,
গায়ে জড়িয়ে থাকতো আস্ত গোমতী;

সেই থেকে গোমতী কে মা বলে ডাকি—এখন ও তিনি দুঃখ গুলো দরজায় এসে নিয়ে যান তাই দিয়ে আমার আনন্দ
যাপন...


মাতৃকোল
সাকিব জামাল

মমতার মাতৃকোল সন্তানের স্বর্গ
আজন্ম নিশ্চিন্ত বাস প্রিয়তম স্থান,
সুখে দুখে মনজুড়ে শান্তির সম্পান,
ভালোবাসা মেখে থাকা নিয়ত নিসর্গ।
মায়ের আঁচল সে যে পুজনীয় অর্ঘ্য
বটবৃক্ষ ছাঁয়াঘেরা দেবীসম প্রাণ,
প্রেমের বন্ধনে গাথা সুনির্মল গান,
বিষন্নতা মুছে ফেলা ‘ইরেজার বর্গ’।

নেই যার মাতৃছাঁয়া দূর্ভাগা সেজন
পৃথিবীর বুকে তার দুঃখ চিরকাল,
কষ্টমাখা পথচলা ভীষণ বেহাল,
বেদনায় ডুবে থাকা তৃপ্তিহীন মন।
যার আছে মাতৃধন দীর্ঘকাল থাক,
নেই যার দুঃখ তার দূরে উড়ে যাক।



 মায়ের স্মৃতি
 এম এ ওয়াজেদ 

আমার অশ্রুহীন চোখগুলো আজ
অশ্রুর বহমান সাগর 
পাহাড়ী ঝরনার মতো অবিরত গড়িয়ে পড়ছে 
বেদনার স্রোতের মতো 

গ্ৰামের বাড়িতে প্রবেশ করামাত্রই 
মা বলতেন --
"রাশেদা , আমার বাজানকে তাড়াতাড়ি খেতে দে " 
আহ্! কী মায়া ! আর কেউ বলবে না এখন 

আমার মা জেগে থাকতেন 
যতক্ষণ পর্যন্ত আমি বাইরে থেকে ফিরে না আসি
বলতেন " বাজান , বেশিক্ষণ বাইরে থাকতে নেই "
তারপর 
জোর করে মাছের ঝোল পিচ পাতে দিয়ে বলতেন 
"বাজান , তুমি ইদানীং কম খাও কেন ? "

বাড়ি থেকে বের হবার সময় 
অসুস্থ শরীর নিয়েও রাস্তা পর্যন্ত যেতেন 
আমার গমনপথে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকতেন 
যতক্ষণ চোখের আড়াল না হই 

কর্মস্থলে থাকার সময় রুটিন করে 
মোবাইল ফোনে বলতেন 
"বাজান, ঠিকমতো খেয়েছো কী 
আমার সাদিক সিহাব কেমন আছে ? "

আমার মায়ের হাজারো স্মৃতি 
আমার অশ্রুর সাগরে অহর্নিশ খেলা করছে 


মা
নয়ন আহমেদ

ফুটে আছে বিষাদের ফুল ; মুমূর্ষুতা ঝুলে আছে-
গ্রীবায় গ্রীবায়। নড়েচড়ে সর্পিলসদৃশ।
প্ররোচণা দেয়,"এই তোর ভালো! থাক্ তুই স্তব্ধতা হয়ে।
অনুজ্জ্বল নিভে যাওয়া কীরকম ভালো !
কার ক্ষতি তুই গেলে?
কার ক্ষতি অযত্নে হারালে?"

মা এইসব হতাশার গলা টিপে মারে ;
একবস্ত্রে তড়িঘড়ি রুগণতা পালায় দেশ ছেড়ে।
চালতা ফুলের মতো মা শুভ্র হাসে ;
আমাকে সে বাহুতে জড়ায়।

পৃথিবীতে সাড়া জাগে ; দিনরাত হয়।
মা আমার পৃথিবী।
মা আলো।


মা 

মোঃ আব্দুল রহমান 


মা এক এমনই স্নেহছায়া 

দমফাঁটা রোদ্দুরেও মিষ্টি লাগে 

হোক বিদীর্ণ হৃদয় 

কিংবা নোনা জলের ঢেউ 

বুকে জড়িয়ে শুধু ভালবাসতে জানে 


মা পৃথিবীর সেই মানচিত্র 

পুরোনো ফাঁটা ছেঁড়া তাপ্পিমারা হলেও 

কোলটি শুধুই আমার জন্য 

অভেদ্য শান্তির দোলনায় দোল খাই আজো…



মায়ের মহাদেশীয় নীরবতা
ওয়াসীম ফিরোজ

ফাটলনিঃশ্বাসমানচিত্রে জন্ম নেয় সে—
এক নিঃশব্দ মহাদেশ,
যার সীমান্তে আলো নিজেই ক্লান্ত।
তার আঁচল অমাবস্যানদী—
বরফের নিচে আগুন ঘুমিয়ে থাকে
বহু শতাব্দী ধরে।
ঝাউছায়াপ্রার্থনায় তার মুখ—
ভাঙা গির্জার ঘণ্টার মতো বাজে,
কেউ শোনে না।

মা দাঁড়িয়ে থাকে—
যেখানে সাগরের নীল রক্ত
নেমে আসে নীরব ইতিহাসে।
তার কানে সোনামাকড়ি—
হারানো সূর্য,
যাকে যুদ্ধের দেবতারা ভাগ করে নিয়েছিল।

সে সেলাই করে সময়পোশাক—
শীতের নীরবতা কেঁপে ওঠে,
চিঠির ভাঁজ ভিজে থাকে না।
তার হাতে গন্ধ—
ভেজা মাটি আর পোড়াকাঠছাইয়ের ধোঁয়া।

সে শব্দ বলে না—
ইতিহাসের বিপরীতে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে,
মানুষ নিজের নাম ভুলে গিয়ে মানুষ হয়ে ওঠে।

তার চোখে এক শিশুর কান্না—
যা এখনও পৃথিবীর প্রথম শব্দ।
আমি তার ভেতরেই দাঁড়িয়ে থাকি—
ঝাউছায়া নয়,
অনুচ্চারিত প্রার্থনার ভাঙা প্রতিধ্বনি।


আমাদের ভবিষ্যত
জসিম উদ্দিন বিজয় 


গরম আহার চাপা হাঁড়িতে গুঁজে রেখে আমাদের ভবিষ্যত
ঢাকনা তুলে বাষ্পের ধোঁয়া মাখা মায়ের মুখটি হেসে উঠে বাসন্তী ফুলের মতন।
ঝোলের চামচে বাজে টুং টাং। কখনো ঘাম চিকচিকে মুখ নুয়ে থাকে ধানের কুলোয়। সোহাগী দু’হাতে আঙিনায় আহারের সোনা ছড়ায়—তাঁর কাঁকনের তালে তালে উঠোনে সাদা কইতর নাচে বাঁকিয়ে হলুদ পা।

কানের লতায় দোলে সোনামল্লিকা যেন!
নাকের নোলক থেকে উজ্জ্বল আলো উপচে পড়ে ঘর-দোরে, বারান্দা, উঠোন-আঙিনায়। মুষ্টি হাঁড়িতে জমা পোকা ধরা চাউল আমাদের স্বপ্নের ধূলোপথে ঢেলে দিয়ে চেয়ে থাকে পথের দুয়ারে—আমাদের হৃদয়ে কখন কইতর নাচন আনবে তৃপ্তির নূপুর বাজিয়ে দৃপ্ত দু’পায়।

গেলবার শিলাবৃষ্টির বিষণ্ন সকালে ফরিয়াদী হয়ে হাত পেতেছিলো আল্লাহ’র দরবারে। আঙুলভেজা জলে মিশেছিল আমাদের ভবিষ্যত আহারের চিন্তা!

মাঝরাতের অন্ধকারে যিকিরের গুঞ্জন শুনে আমার ঘুমের পৃথিবী যেন বিভোর হয়ে যায়। ভোরের শুভ্রতা ছড়িয়ে দেওয়া শৈল্পিক তেলাওয়াতে দেখি দুলতে থাকে আমাদের ভবিষ্যত মঙ্গলের সুর। তাঁর বঙ্কিম ভুরুর নিচে কাঁপা দু’চোখে শুধু আমাদের ভবিষ্যত মঞ্চ, আর প্রশস্ত বুকের জমিন আমাদেরই ভবিষ্যত বাগান।



মা বিহ‌নে
এস এম তিতুমীর

মা যে আমার চাঁদের মতো মুখে মধুর হাসি
তার ভাষা‌তেই বিষণ্ন মন নি‌মি‌ষেই হয় খু‌শি
স্নেহভরা মমতারই ওই না আঁচল ত‌লে
স্বর্গ পরশ যায় ব‌লি‌য়ে চো‌খের অনুপ‌লে।

রাগ করে‌ছি একটু বকা, তাও তো ভীষণ ভালো
তার আদরেই শা‌ন্তি ঝ‌রে দূর হ‌য়ে যায় কা‌লো
মা যে আমার জীবন মরণ হৃদয়বীণার সুর

মা বিহ‌নে এই না জগৎ আঁধা‌রে ভরপুর।


 মা ছাড়া পৃথিবী
 রাজন্য রুহানি 

মা ডাকতে ইচ্ছে হলে অরণ্যে লুকাই,
যেরকম মাতৃজঠরে ছিলাম দিবারাত্রি ভুলে।
জঠরসমুদ্র— আমি তাতে ঝিনুকের সুর
জীবনবাতাসে লেগে থাকা বাবার সার্গাম।

মা ডাকতে ইচ্ছে হলে দশদিকে ছুঁড়ে দিই তুমুল চিৎকার।
ঝরাপাতার মৌসুম শুধু প্রতিধ্বনি বয়ে আনে,
মায়ের মতন গিলে নেয় না যাপনের দুঃখ,
বুকের ভেতর জ্বলন্ত উনুন নিয়ে
নিরন্ন থালায় বেড়ে দেয় না শান্তির ওম।

মা ছাড়া পৃথিবী সার্কাসের মঞ্চ আর আমি একটা ক্লাউন।
সবাই আমাকে দেখে হাসে, হাততালি দেয়।
কেউ খুলে দেয় না পায়ের শেকল,
কেউ বলে না হাসির আড়ালে তোরও কিছু হাসি থাক।

মা ডাকতে ইচ্ছে হলে গভীর পিপাসা আঁকি।
সুপেয় জলের ছন্দে মা আসেন মরুময় আঙিনায়,
যে আঙিনা বেড়ে ওঠে ধীরে অনাথ হৃদয়ে।



মা
আহমেদ বেলাল 

মা যেন এক শিশির ঝরা ঘাস
মা মানে-ই আমার বারো মাস, 
তপ্ত রোদে সূর্যের এক ফালি
মা বিনে মোর জগতটাই খালি।

মায়ের ডাকে শান্তি নামে প্রাণে
মায়ের ঘ্রাণ উঠোন ভরা ধানে,
বৈশাখের ঐ ঝড় জলোচ্ছ্বাসে
মায়ের স্নেহ বৃষ্টি হয়ে আসে।

মায়ের আদর ভালোবাসার টানে
ঘুমিয়ে পড়ি ঘুমপাড়ানির গানে,
স্পর্শে জুড়িয়ে যায় যে- গা
সবটা জুড়েই শুধু আমার মা।

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন