বাসন্তী আর অনির্বাণ, দুজন টোনা টুনির ছোট্ট সংসার। আজ থেকে ঠিক দু'বছর আগে অনির্বাণের হাত ধরে ঘর ছেড়ে এক অজানা গন্তব্যে পাড়ি দিয়েছিল বাসন্তী।অনির্বাণ এখনো কিছুই করে না। একরকম মাথার ওপর টিনের চাল ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের।
"কি গো? ওমন শুকনো মুখে বসে আছো কেন? মন খারাপ নাকি?"
"বাসন্তী? তুমি বরং তোমার মা-বাবার কাছে ফিরে যাও।"---অনির্বাণের মুখে এমন কথা শুনে বাসন্তীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।
"এসব কি বলছো?"
"আমি তোমাকে ভালো রাখতে পারবো না। দু'বেলা একটু খাওয়াতে তাই পারি না!"
"তুমি আমাকে ভালোবাসো না?"
"আমার থেকেও বেশি ভালোবাসি তোমাকে।"
"তাহলে? এই ভালোবাসায় কখনো কোনো কমতি দিও না। হ্যাঁ আমি জানি, একটু ভালো থাকতে, একটু ঘুরতে যেতে, ভালো জামা কাপড় পড়তে সবারই ইচ্ছা করে, আমারও করে, কিন্তু আমি তো অবুঝ না। চেষ্টা করছো তো তুমি। দেখবে একদিন আমরা অনেক ভালো থাকবো। ততদিন আমাকে তোমার পাশে থাকতে দাও অনির্বাণ, আমাকে দূরে ঠেলে দিও না।"
অনির্বাণ চুপ করে রইল। বাসন্তীর কথাগুলো তার মনের ভেতর গেঁথে গেল।
বাসন্তী আবার বলল, "জানো অনির্বাণ, ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে কেউ ভালো থাকতে পারে না। আমি তোমার পাশে থাকবো, যত দিন তুমি থাকতে দেবে।"
অনির্বাণ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "তুমি অনেক ভালো বাসন্তী। আমার যে কত জন্মের পূণ্যের ফল তুমি! তবে দেখো একদিন আমি তোমাকে এই কষ্টমুক্ত জীবনের প্রতিশ্রুতি দেব।"
বাসন্তী হেসে বলল, "সেই প্রতিশ্রুতির জন্যই তো আছি।"
ছোট্ট সেই টিনের ঘরটাতে নতুন করে যেন প্রাণ ফিরল। ভালোবাসার গল্পগুলো এমনই—কষ্ট যতই থাকুক, একে অপরের হাত ধরে থাকলেই বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পাওয়া যায়।
সপ্তর্ষী বিশ্বাস
লোকপ্রশাসন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ঢাকা, বাংলাদেশ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks