অনন্ত পৃথ্বীরাজের দশটি কবিতা।। poems by anonto prithiraj

 


অনন্ত পৃথ্বীরাজের দশটি কবিতা

বিকেল পেরিয়ে

কতগুলো মূর্খ বিকেল পেরিয়ে 
আমরা চলে এসেছি গন্তব্যের দিকে 
যেখানে রিক্সা রেখেছিলাম; সে জায়গা 
আজ হিরোশিমা হয়ে গেছে।

সালাম ফিরিয়ে যাকে দেখলাম-
সে এখন এ্যালবামের মমিতে রাখা,
তারপর কুলকুল নদী বয়ে যায়-
ভ্রান্তির ছলনা বাজে স্নায়ুর পর্দায়।

হে নবীন, নির্জলা সত্যটুকু-
আরেকবার স্যালুলয়েডে আনো তুলে,
১৯৫২; রফিকের রক্তাক্ত দেহে 
বিচ্ছুরিত বর্ণমালা ঢেউ খেলে।

১৯৭১; হামিদুরের ক্ষত-বিক্ষত দেহ সূর্যস্নাত হয়,
৯০-র নূর হোসেন আর ২৪-র আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ 
আরও কত শহিদ দেশের তরে অকাতরে জীবন দিলেন!
অথচ, স্বাধীন দেশে আমরা কী পেলাম! 
নাকি, কেবল জীবন হয়েছে ক্ষয়।


ন্যাচারাল রিয়ালিটি 

একটা কবিতা লেখার জন্য অপেক্ষা করছি,
কবিতা আসে না, ধরা যায় না পাখির পালক, 
উড়ন্ত মেঘ, ইথারে শব্দের তান। 
আমি কথার মালাগাঁথব বলে 
দুইদিন গেলাম কোভিড হাসপাতালে,
তখন বর্ষার মেঘের দাপট, 
চোখের কার্নিসে বৃষ্টি ঝুমঝুম। 
নাহ্, কোনো অসুস্থতার জন্য নয়, মানুষ দেখে। 

জীবনকে কে না ভালোবাসে; 
আহা জীবন! ঠকের সংসার, 
কী এক বীভৎস সময় পার করছি আমরা! 
রক্তের সম্পর্কও মাঝে মাঝে ঠুনকো হয়ে যায়, 
কেউ কি জানত পৃথিবী এতোটা নিষ্ঠুর হবে!

মানুষের মধ্যে বাঁচার আকুতি, 
পৃথিবী এতো সুন্দর কেন, হায়! 
প্রকৃতি ওদের আবদার  ফিরিয়ে দিল।


সিঁথিপথ

মেয়েটির চুলগুলো ঘন আর- 
দীঘলকালো, মাঝখানে সিঁথিরাস্তা,
মাঝে মাঝে বেণী করলে মন্দ লাগে না;  
আমার কাছে বেণী নয়, বরং আগলা- 
আর অগোছলোই ভালো । 

বাতাশের দোলায়, ঢেউয়ের মতো 
চুলগুলো উড়বে তর্জনে গর্জনে-
আমি কেবলি তাকিয়ে থাকবো, 
চেয়ে চেয়ে দেখব আর বিভোর হবো।

সাবধান হতে হবে তাকে; ও মেয়ে তুমি, 
সেই চুলের উলে লুকিয়ে রেখো নাকো-
বিষলক্ষের ছোরা।

জীবনে চিরুনি অভিযান চালিত হবে
সিঁথিপথ উন্মুক্ত রেখো নাকো আর!


চরকগাছটি নাচছে

দেহের ভিতর প্রবহমান এক খরস্রোতা নদী
কূল-কিনারহীন অথৈ জলে 
নাচছে একটি চরকগাছ। 

কৃত্রিম হ্রদের বাহানা তুলে প্রেস ক্লাবে সংবাদ 
সম্মেলন করেছে আমাদের আম পাবলিক। 
অথচ কাঁটাতারে নিষ্প্রাণ ফেলানীকে ঝুলিয়ে 
দিয়ে বিনা বিচারে পুলিশ ফারাক্কায় আটক
করেছে কতগুলো নিরীহ তপসী মাছ।

কতদিন নদীগুলো ড্রেজিং করা হয় না,
ড্রেজিংয়ের টাকায় হরিলুটের মচ্ছব চলে;
আর বাইরে শুধুই হা-হুতাশের আইওয়াস।

নদীগুলো মরে যাচ্ছে ক্রমিক.....!


খয়েরি রঙের শাড়ি

খয়েরি রঙের শাড়ি পরে যে মেয়েটি হেঁটে গেল-
তাকে আমি কাছ থেকে দেখেছি এক পলক।
তাকে আমার অপরিচিত মনে হয়নি, বুকের মধ্যে
কেমন মোচর দিয়ে উঠল-ক্ষণিকের অনুভূতি।

যুদ্ধে যাওয়ার আগে ঘরে বিবি ছিল,
দেড় বছরের মেয়ে ছিল একটি।
খয়েড়ি রঙের শাড়ি পরে যে মেয়েটি হেঁটে গেল,
তাকে আমি একবার দেখেছি এক পলক।

আমার বৌটা খয়েরি রঙের শাড়ি খুব পছন্দ
করতো-মেয়েটা চকলেট কেক, 
তবে শাড়ি আর কেকের রঙের অদ্ভুত মিল।

তারপর কী ভীষণযুদ্ধ হলো, রণাঙ্গণের দিনগুলোতে;
একটি ফটোগ্রাফ আমার নিত্যসঙ্গী ছিল।

আমার বৌটা খয়েরি রঙের শাড়ি খুব পছন্দ করত-
আর মেয়েটা খয়েরি রঙের কেক!


কবিতাকে বলো আমি ভালো নেই

কবিতাকে বলো আমি ভালো নেই-
পাখিরা গণবিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে 
সবুজ-প্রান্তর কীটনাশকের বিক্রিয়ায় আচ্ছন্ন
চতুর্পাশ্বে নিরাক পরা হাহাকার- 
শস্যহীন মৃত্তিকার নীরব কান্না হৃদয়ে বাজে
কবিতাকে বলো আমি ভালো নেই। 

কবিতা, তুমি আমার প্রাণ, আত্মার অভয়ারণ্য
সেই অরণ্য এখন বৃক্ষশূন্য; আমরা উত্তরাধুনিক
নগরের দায়-দায়িত্ব কাঁধে ঝুলিয়ে প্রতিদিন
জীবনের মানে খোঁজ করতে গিয়ে পালিয়ে বেড়াই;
কবিতাকে বলো আমি ভালো নেই।


সর্তকবার্তা

সারি সারি সাদা মেঘের ভেলা
ভেসে যায় দিগন্তের পথে। এই যে,
রোজ রোজ আসা-যাওয়ার খরচ
আর দেবেনা মেঘের চাতক।
শেষমেশ মেঘদূত বার্তা পাঠিয়েছে- 
তোমাদের রিক্ত হস্তেই ফিরে যেতে হবে, 
হে শীতের অতিথি!

আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো- 
মুশকিল হচ্ছে, এ দেশে ইতিহাস তৈরি হয় বটে!
তবে, কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।
বাতাসে তানে কান পেতে শুনেছি নির্জনে- 
'দুর্ভিক্ষ জানন দেবে আগামীর পথ'!

কয়েকটি মৃত্যুর আহাজারিতে-
ভারি হয়ে উঠেছিল দেশের আকাশ-বাতাস।
রেডি থাকো, পাল পাল মুত্যু শোকের!


তিথি
 
ঘুম থেকে জেগে দেখি উট পাখিটি কাছেই 
আমাকে খাবার অপেক্ষায় ছিল,
বিরান বিলের এ দিকটায় জন-মানব নেই
উটের খাবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি বটে
ক্ষুধা-তৃষ্ণায় মৃতপ্রায় নিজের খাবার কই পাই!
 
সব কথা মনে নেই, আমার থেকে জোর করে 
ওরা তিথিকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে রেপ করল।
আমার উপর চলাল অকথ্য নির্যাতন, তারপর
মরে গেছি ভেবে ফেলে দিয়ে চলে গেছে।
 
তিথি কোথায় জানি না, হয়তো মরে গেছে
অথবা, ওরাই ভোগের পর মেরে দিয়েছে।


হুলুস্থূল 

আকাশটা কাঁপে উঠল বোধ হয়,
মাটিতেও তার ছাপ লেগে থাকবে
দেওয়াল, ঘরের ছাদ ফেঁটে চৌচির।
কত প্রাণী চাপা পড়ে গেছে তলায়
তার খোঁজ কেউ রাখে না- এমন কি মানুষও।
অথচ, সবাই যে যার মতো; একাকী 
ভালো থাকতে চায়।

 একুশের একগুচ্ছ কবিতা পড়ুন এখানে
দুলাল সরকার এর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
খৈয়াম কাদেরের কবিতা পড়ুন এখানে
মাহবুবার করিমের কবিতার পড়ুন এখানে
খসরু পারভেজের কবিতা পড়ুন এখানে
রাহমান ওয়াহিদের গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
সিদ্দিক প্রামাণিক এর কবিতা পড়ুন এখানে
আযাদ কালামের কবিতা পড়ুন এখানে
বিজয় দিবসের বিশেষ সংখ্যা পড়ুন এখানে
নাগিব মাহফুজ এর উপন্যাস ভিখারি পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলামের দারুণ কবিতা পড়ুন এখানে
তমিজ উদদ্ীন লোদীর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
রোকসানা ইয়াসমিন মণির কবিতা পড়ুন এখানে
মতিন বৈরাগীর কবিতা এখানে পড়ুন



কানপেতে রই 

আমাকে শত্রু বলে চিহ্নিত করে 
পর্দার আড়ালে নিজের সব দায় ঢেকে দেবে।
ব্যাপারটি যতটা সহজ ভেবেছ, 
আসলে, বিষয়টি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। 

তুমি কি ভুলে গেছো এই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল-
যার কোনো অবয়ব নেই অথচ জীবের জন্য
তার গুরুত্ব অপরিসীম। 

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন