"বই ও কবিতা" আয়োজনে আজকে কবি ওসমান গণি। বাংলা কবিতায় ওসমান গণি দুই হাজার দশকে উত্থান। তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নবীনগর বুড়িনদী পাড়, লোকভূমি ওয়ারুক গ্রাম হলেও চাকরি সুবাদে চট্টগ্রামে বসবাস করেন। বাংলাদেশের ছোটো কাগজসহ বিভিন্ন ওয়েব ম্যাগে নিয়মিত লেখালেখি করেন। কবির ২য় কবিতার বই "প্রকান্ড কিংবা ক্ষুদ্র অহংকারের বিরুদ্ধে" থেকে পাঁচটি কবিতা প্রকাশ করলো কুয়াশা।
|| সম্পাদক
কতিপয় কবির মজলিস
আষাঢ়-উঠোনে কদমের রেণু ও ফুল
মিলিয়ে গেল ফুঁ-বৃষ্টিতে
বাতাসে মড়মড় করে লম্বা গাছ
নুয়ে পড়ে আবার সোজা হচ্ছে
লাল-ডুরে মৌমাছিরা নতমুখ, ওড়ে ধীর লয়ে
কদমফুলের গাছে রঙের ব্যালাড
ফিরে এল শ্রাবণের দিন
কুলু কুলু সন্ধ্যার বাতাস
কদমের ফুলে-ফুলে শরতের উঁকি
জবজবে হ’য়ে ওঠে কবি ও কবিতা
কদমফুলের মতো হলুদাভ, ক্ষীণকায় কতিপয় কবি
বনুড়িয়া মাঠের কিনারে এসে পেতেছে মজলিস
আবার ঋতুতে ধাক্কা
উড়ু উড়ু ফুলের বিরহ!
খাঁচা দুলে ওঠে
কাকের ডাক
ফুলের ঈষৎ অভিমান
গোল গোল কান্না
ঠিকরে উঠল চোখ...ঘুমাতে পারিনি
ভয়ে দু-চোখ অবশ
ঘুমের ওষুধ খুঁজে বেড়াচ্ছি।
বেসুরা খনখনে গলায় ডাকলাম: ওঠো
প্রাণের ভয়ে শিশুরা ছোট ছোট পায়ে
ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে দিগন্তের ওপারে
অন্ধকারে একটা ভয়াবহ দক্ষযজ্ঞ খাঁচা দুলে ওঠে
একটি সবুজ বালক সার্কাস-দড়িতে পার হতে চাইছে
ইহকালের ক্রোধ ক্ষুধা ও বিষণ্ণতা
বনুড়িয়া এখনো গ্রামদেশ
যদিও-বা সুমসৃণ কালো রাস্তা,
বিদ্যুতের আলো আছে, তবু
বনুড়িয়া এখনো রয়েছে গ্রামদেশ
সরু নদী, সুপারির বন
আমগাছে টিয়াদের ঝাঁক,
এখনো আকাশে হাঁসপাখি আর ঘুড়ি ওড়ে
গ্রামজোড়া গলিপথ
দিনভর থকথকে রোদ
মরা খালে সাঁকো নেই, শুধু কালভার্ট
পোয়াতি কুকুর শোয় অট্টালিকা-ছাদে
গাজার শিশুরা
নিস্তব্ধ রাত, নিঝুম সন্ধে আর নীল অন্ধকার
জয়তুন ফলের মতো গাজার শিশুরা
তাদের কপালে কোনও খাবার জোটে নি
খাদ্য মানে মুঠো মুঠো ঘাসলতা, শেকড়বাকড়
বুকে গড়ায় অশ্রু আর শিশিরের জল
জয়তুন ফলের মতো গাজার শিশুরা!
সীমান্তে রাফাত আলরির চোখ
সারারাত যুদ্ধশেষে সে যায় নির্জন সমুদ্রতীরে
রক্তমাখা ফুল যেন জলে ভেসে যায়
জয়তুন ফলের মতো গাজার শিশুরা!
মনতলা নৌকাঘাট
ভৈরব ব্রিজের দিকে
হুক্কামুখে একা একটা লোক
মাস্তুলে একা দুলছে টেরিকটের জামা
মনুবাবু-ঘাটে শান্ত কুলি, লঞ্চ ও সারেং,
কাঠের কেবিনে আঁকা মাছলতা
নৌকাজল মুছে মুছে বেলা পড়ে আসে
পাড়াতুলি খাঁচার মতো মারপিট করছে টিয়া-পেঁচা
পাশে চিশতিয়া পিরের সঙ্গে মেঘনাজল হাসে
রানি লক্ষ্মীর মেরুন শাড়ি এখনও ঝুলছে বাতাসে
বনলতা দেবী
চুল বেঁধে চুলের গুটি উড়িয়ে দিলেন হাওয়ায়
কুঁড়েরপাড়ের কথা এখনো বলা হলো না
পানকৌড়ি তীরের কোনো দৃশ্য নেই, দৃশ্য থাকে না
নৌকা বেয়ে বেয়ে শুধু বেলা হয়
-----বেলা পড়ে আসে
আরো পড়ুন..

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks