আমি শুনবো তোমার কথা
এমন এক মৃত লাশ
এনে আমাকে দেখাও?
যার পাঁজরে বা মাথায় গুলি লাগেনি!
মর্গে যারা ছিলো একাকী ঘুমে
মর্গে যারা ছিলো —
নিথর চোখে রগরগে স্বপ্ন নিয়ে,
আমি শুনবো তোমার কথা
আমাকে এনে দেখাও?
যার কপালে বিদ্ধ হয়নি শপথ
যার পিঠে চিহ্নিত হয়নি কালপুরুষ,
মর্গে যে ছিলো শীতল স্ট্রেচারে
মর্গে যে ছিলো যুদ্ধের ফয়সালায় —
আমাকে তার কাছে নিয়ে যাও
আমি শুনবো তার অমীমাংসিত কথা।
আয়না ঘর
প্রথমে ভেবেছি — আয়নাঘরে
নিদারুণ আমার মুখ দেখা যাবে
দেখতে পারবো পরিপাটি সন্দর্শন
পোশাকের পরিমার্জিত অবয়ব।
আমার ভেতরে বহুদিনের একটা শখ ছিলো
নিজেকে ভাবতে থাকলাম এমন করে
যেনো আমি ইতিহাস থেকে
উঠে আসা প্রাচীন গ্রীক পুরাণের নায়ক।
কিন্তু আয়নাঘরে ঢোকা মাত্র
আমি বুঝতে পারি —
আমি অন্য এক ইতিহাসে প্রবেশ করেছি,
নরকের সমস্ত ঋতু ফুটে আছে
বিষাদের নীল চাবুক ছড়িয়ে পড়ছে
আমার ধমনীর শিরা – উপশিরায়।
আয়নাঘরে কণ্ঠস্বর শুনে বোঝা গেলো :
আমাকে প্রেরণ করা হয়েছিলো
হাবিয়ার জ্বলন্ত এক কামরায়।
সৌরভ
সবুজ প্রিজম উধাও হয়ে গেছে
কালো কারফিউর শহরে
তোমাকে দেখতে চেয়ে, আমি ঘুরছি
কিন্তু শূন্য পথের কোনো রেখা খুঁজে পাচ্ছি না,
একবার ভাবলাম ফিরে যাই
বিগত মিছিলের ধ্বনি এখনও কাটেনি
বিষাক্ত বাতাসের নাভির নিচে
রাস্তায় বারুদের তিতা গন্ধ এবং
ছেঁড়া স্যান্ডেলের দিশাহীন চিহ্ন দেখে
মনে হলো মনের জ্যামিতি আর ঠিক নাই,
তবুও সন্ধ্যায় ঘন অন্ধকার
যেভাবে বুকের হুক খুলে ঢুকে পড়ে
আমি তখন প্রেমিক থাকি না
হয়ে যাই মৃত বাসি ফুলের সৌরভ।
প্রশংসা
তোমার প্রশংসা করতে এসে
জানতে পারলাম
তুমি তার যোগ্য নও
তোমার বুকের ধ্বনি শুনতে এসে
জানা গেলো —
সেখানে এখনও শিলার মতো
শক্ত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা,
তবুও আমার ইচ্ছে হলো
এই দুঃসময়ে, এই প্রবলতায়
তুমি কি করে চুপ থাকো?
কারণ নির্জনতার মধ্যে
ঢুকে যাচ্ছে আমাদের কোলাহল
একদিন সমস্ত বিলাপ এসে
ফেরত চাইবে তার ঋণ,
অথচ তোমার প্রশংসা করতে এসে
জানতে পারলাম —
তোমার হৃদয়ে কখনো বসন্ত আসেনি।
ধোঁয়াশা
জানি, আমাকে তুমি গ্রহণ করবে না
রক্তজবার মতো
ঠোঁটে তুলেছিলাম যে হেমলক
কুয়াশা কবলিত রাতে
যেভাবে দিয়েছিলে নরকের ঋতু
আমি আজও —
সেই খাদে ধরে থাকি অনন্ত প্রেম,
আমাকে তুমি গ্রহণ করবে না
এটা জানার পরও
অলিন্দে বসন্ত আসা বন্ধ হয়নি।
আরো পড়ুন..

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks