নিরঞ্জন রায় এর গুচ্ছকবিতা।। poems by niranjan roy কুয়াশা

নিরঞ্জন রায়  এর গুচ্ছকবিতা

নষ্ট হলে দোষ দিও না


আর কতকাল একলা ঘরে বন্দি জীবন, যায় চলা যায় 
নষ্ট হলে দোষ দিও না
হঠাৎ বানে নদীর ধারা, যায় ভেসে যায় 
হৃদ‌য়পুরে বন্দি পাখি, যায় উড়ে যায় 
বুকজমিনের বুনো আপেল, যায় ঝরে যায় 
চোখের তারার অতল সাগর, যায় শুকিয়ে যায় 
 
আর কতকাল নদীর ধারা আটকে রেখে পা ফেলা যায়
বুকপাঁজরে বন্দী পাখি পোষ মানা যায়
আর কতকাল একলা ঘরে বন্দি জীবন যায় মানা যায় 
নষ্ট হলে দোষ দিও না


তুমিই প্রকৃত জাদুকরী


 
তুমি জাদুকর দেখাও কেরামতি ফুঁ দিয়ে নাই করে দেও অর্থকড়ি 
জারিজুরি করে কথার ছলে সাজাও দাবার ঘুঁটি
ফুঁসমন্তরে হাওয়ায় জ্বালাও আস্ত লালবাতি 
চৌরাস্তার মোড়ে বেবাক জনতা তর্কযুদ্ধে লিপ্ত সব‌ই তোমার ভেলকিবাজি
কড়িবৃষ্টিতে জাদুকরের মুখে প্রশান্তির হাসি 
গোঁফে তেল মুখে সুখটান দিতে দিতে সে চলে যায় বাড়ি।

বুকপাহাড়ে ফলাও আপেল তুমি জাদুকাঠি ছাড়াই 
চোখজলে উড়াও সোহাগিপাখি
হৃদয়ঘরে শরাঘাত করো কী সে সাংকেতিক তরবারি 
নিজ অঙ্গে ঝরনা নদী তোমার, রক্তধারায় উর্বর করো জমিন 
ফলাও অবিকল এক মানব অথবা মানবী
তুমিই প্রকৃত জাদুকরী, তুমি নারী।

আরো পড়ুন..

জিল্লুর রহমান শুভ্র'র কবিতা পড়ুন 
রেজাউদ্দিন স্টালিন এর কবিতা পড়ুন
শামসুর রাহমানের গদ্য পড়ুন
নয়ন আহমেদ এর কবিতা পড়ুন
ভাস্কর চৌধুরীর কবিতা পড়ুন
 
অমৃতযোগ মানেই সভ্যতা 


অর্জুনের লক্ষ্যভেদী তীর যেমন
সুতো দাঁড়িয়ে সুচের ভেতর দিয়ে রাজপথে পা রাখে 
এর ভেতর দিয়ে যে মহাজাগতিক দৃশ্যকল্পের জন্ম
নিশ্চিতভাবেই তার কেন্দ্রবিন্দুতে একজন উর্বরা নারী, একজন তীরন্দাজ
কেউ বলেন এদের একজন ইভ, আরেকজন এডাম
অন্যদল বলেন এদের একজন শিব, অন্যজন পার্বতী 
দু'দলেই সহমত
এদের বিশুদ্ধ কর্মযজ্ঞের ভেতর দিয়ে যে সৃষ্টি, তাই সভ্যতার আলো, 
সভ্যতাকে পথ দেখিয়ে দেখিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যায়
সুঁইসুতোর এই অমৃতযোগ মানেই সভ্যতা, অন্যথাই অসভ্যতা।
নদ-নদী এই ব্যাকরণ মেনে অনাদিকাল ধরে মোহনার পথে 
মোহনযোগের এই সমন্বিত ধারাই সমুদ্র, আর সমুদ্র মানেই পূর্ণতা।

অলক্ষুণে চোখ


রেলগাড়িতে উঠে জানালার পাশেই বসি
বটগাছ দেখি
ভাটগাছ নিমিষেই হারিয়ে যায়
গাঙচিল চোখে পড়ে 
ঘাসফড়িং অচেনাই থেকে যায় 
দিগন্তবিস্তৃত গাছপালা পাহাড় বলে ভ্রম হয়
এড়িয়ে যায় ক্ষীণচোখ ধারেকাছের জলাশয় 
রেলব্রিজ পেরুনোর শব্দ শুনি
বস্তিতে বেড়ে ওঠা শিশুর আর্তনাদ পৌঁছোয় না বধির কর্ণদেশে
রেলগাড়িতে উঠে জানালার ধারেই আসন পাতি
সময়ের সাথে চলতে পারে না অলক্ষুণে চোখ।


তুমিই প্রকৃত জাদুকরী


তুমি জাদুকর দেখাও কেরামতি ফুঁ দিয়ে নাই করে দেও অর্থকড়ি 
জারিজুরি করে কথার ছলে সাজাও দাবার ঘুঁটি
ফুঁসমন্তরে হাওয়ায় জ্বালাও আস্ত লালবাতি 
চৌরাস্তার মোড়ে বেবাক জনতা তর্কযুদ্ধে লিপ্ত সব‌ই তোমার ভেলকিবাজি
কড়িবৃষ্টিতে জাদুকরের মুখে প্রশান্তির হাসি 
গোঁফে তেল মুখে সুখটান দিতে দিতে সে চলে যায় বাড়ি।

বুকপাহাড়ে ফলাও আপেল তুমি জাদুকাঠি ছাড়াই 
চোখজলে উড়াও সোহাগিপাখি
হৃদয়ঘরে শরাঘাত করো কী সে সাংকেতিক তরবারি 
নিজ অঙ্গে ঝরনা নদী তোমার, রক্তধারায় উর্বর করো জমিন 
ফলাও অবিকল এক মানব অথবা মানবী
তুমিই প্রকৃত জাদুকরী, তুমি নারী।


আরো পড়ুন...

শ্রমিক দিবসের কবিতা পড়ুন এখানে
মে দিবসের কবিতাগুচ্ছ পড়ুন এখানে
আবদুর রাজ্জাকের কবিতা পড়ুন এখানে
অনিক খুরশীদের পড়ুন এখানে
চরু হক এর কবিতা পড়ুন এখানে 
প্রেমাাংশু শ্রাবণের কবিতা পড়ুন এখানে
সোমা দে'র নিবন্ধ পড়ুন এখানে
সিকান্দার কবিরের কবিতা পড়ুন এখানে 
তমিজ উদ্দীন এর কবিতা পড়ুন এখানে
আমিনুল ইসলামের কবিতা পড়ুন এখানে


Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন