Top News

রেশম লতা'র গুচ্ছ কবিতা। cluster poems by reshom lota kuasha

রেশম লতা'র গুচ্ছ কবিতা
    

    নিষিদ্ধ পত্রিকা 

পত্রিকা অফিস। এ্যাশ ট্রে। ধোঁয়ার নরম কুন্ডলী 
পায়ের উপ্রে পা'ও তার উপর পিস্তল 
টেবিলে খাতা, আঙ্গুলে ঘোড়া দৌড়ায়
জবানে ঢাকনা, পিঠে ধুপ্পুর ধাপ্পুর
কবির চোখে জল!

কালু কয়, কম অইছে রোলার প্রয়োজন 
মগজের টেরাক চালাইয়া দে 
দে বগা কাইটা
বা হাত নির্বিকার, হ্যান্ডকাপে আকার পাইছে 
আঙ্গুলের ঘোড়া কেবলই ছুটে অবিরাম
কবির চোখে জল!

একটু পর শূন্য ঘর
মেঝেতে খুন, খুনীরা হাওয়া
কাগুজে নীরবতায় নিথর চোখ
উল্টানো সাইনবোর্ড নিষিদ্ধ পত্রিকা 
জনগণ চিল্লায় খেতাপুরি দেশ বাইনচোদ সরকার। 


দোররা 

আমড়া কাঠে বিষ
সিরুর বউয়ের বমি
ওভার ব্রিজে কৃষ্ণ ওয়াইন খায়! 
শ্বাশুড়ী চিন্তায়, সিরু বিদেশ বছর তিন 
হলুদ খেতে ট্রাক্টর, 
জব্বার কয় কামডা এইনেই সারছে।

বিচারে দোররা 
মৌলবীর ময়নাপাখির ডানা গজায় 
মামলা ডিসমিস 
সরকারি মাল নষ্টকরণ বেঠিক
তালতলায় পেডুলার পেট বাড়াইয়া দেওনডাই ঠিক
সমাজে যেমন সমাজ বুঝে না 
কামরসও তেমন কামুক চিনে না
 কাম সারলেই স্বর্গ।


গভীর গোলাপ

তারে দ্যায় ওরেও দ্যায়
     মতিনের জামাই
        গঞ্জের উকিল কাঁচা টেকা মেলা কামাই
ঘরের ইঁদুর নাচে এবার গেছোর বৈশিষ্ট্যে__
কী এক আজব জামানা!
বেইন্নাবেলা রজনীগন্ধা গুইজে দিছে
হাঞ্জাসময় ডবল 
ডুইবেছে ডুইবেছে মজা খাইয়া ডুব দিছে 
মতিনের জামাই 
গঞ্জের উকিল কাঁচা টেকা মেলা কামাই।

জরিনার নন্দাই আমাকে কান পড়া খাওয়াতে চায় 
সমাজের বোবা ডাকাতরা এড়িয়ে হাঁটে 
সিল মাইরা বর্শা ছুঁড়ে
কখনো তিন নম্বর বস্তিতে, কখনো স্টেশনের গলিতে,
কখনোবা লিফটের শেষ মাথায়। 

আমি নির্বাক চাতক
পাওয়ারহীন চোখের মার্বেল, ঝিম ধইরা খালি পিটপিটায় 
ঠাকমা তসবী গুণে রাম.. রাম.. রাম..
লগে কয় জাতক্ষয়... নীতিক্ষয়... মনক্ষয় 
কৃষ্ণের জানলায় মনষা মাতার চুকি দেওন জরুরি 
মরার আগে ফনার তেলেসমাতি দেইখা গেলেই গভীর গোলাপ


মুকুন্দ

ঢোল পাড়ায় বসাইছে চাকরির মেলা
খেলা আর খেলা
 তরল চেকের ঠ্যালায় মুকুন্দের বেইল নাই
নাই তার পাও'অ!
ভাঙছে ভাঙছে নেতায় ভাইঙা দিছে 
মাইরা দিছে মারাও।
কারণ? মুকুন্দ ফাইলে দিয়েছিল তালা
 খেলা আর খেলা...

রবিচাচা দার্শনিক
ট্রয় ধ্বংসের কারণ সে জানে 
জানে কালো বাজারের পানি যে সাদাস্রাব
চেনে হোটেল ক্যাসিনোর দাগ খাওয়া টাইওয়ালাগো  কইছিলো মুকুন্দরে, লাগতে যাস না।

আছিলো আছিলো ওয়ার্নিং, সাক্ষী নওশের
বাড়িসনা, বেড়া না দিয়া বাড়িত থাক
মুকুন্দর কান দেওয়ার কান বইড়া
বৌদিরে সোনা ডাইকা সোনা দিয়া গেছে
হাঞ্জায় মুকুন্দর চোখ আসমানে
সোনা আছে ঠিকই কিন্তু সোনার সোনাডাই নাই।


সমাধান

কুত্তা প্রেমিক, লালা পড়তাছে 
পড়ছে ঝুইলা আলুও
বাত্তি কলা বাটপাতা চিনতে চায় না
দাদী জানে ওরা যে ম্যালা নারকেল পাড়নেওয়ালা অইবো অইবো খতম সময় কাইল খাড়া 
এসব ব্যাপারে আমার ডান হাত আগে চলে।

কপাল চাপড়ায় আড়তদার
ধুতির ভিত্রে মাল নাই
জুব্বা উল্টা, টুপি আর জপমালা গড়গড়া
মনার ইজ্জত তার স্বামীই মারছে
এইডাই ভালা অইছে 
দলিল কামুক জয়নাল তাই মাইংকা চিপায়!

দিছে মনা দিছে 
বীর্যের বদলি রক্ত বাইর কইরা দিছে
মিছা অক্ষরের নথিতে দিছে আগুন
কবিরও এসব ব্যাপারে ডান হাত আগে চলে।


বিঘা মন্তর

অতিশয় অনুমানের বিশ্বাস অক্ষয় ভেবে 
মুল্লুকজানের কথায় ডুব দিছি
সাগর দেখে বোঝার উপায় নাই ভিত্রে যে মরা গাঙের পুলসিরাত!
ঝাঁপ মাইরাই বুঝতে পারছি। 
পাড়ার নাতি হুইনা কয়...
কলিমের পাইপে ঢুকানো সাধের গোলাপজল
চক্ষু চড়কগাছ!

না জানা কাউয়ার রাজত্ব চৌষট্টি বিঘায়
আমার নামে তাই বুক জ্বলে 
মিয়ার ঘরে ফ্রিজ তাপায় আর শান্তি লয়;
নতুন আসমান হইছে 
জেগেছে লোভ্যাচড় 
গেরামে ভিক্ষা দেওনের ভিক্ষা নাই।

তারা মরলে হেরা শ্বাস খায় 
আমরা মরলে শকুন লাফায় 
আইজ্জা বেবাকই নাইচ্ছা দেহামু 
পথান্তর... শেষান্তর... ।


অঘোষিত সত্তা

এবার ওভার ব্রিজে আগুন 
মলির মা'য় খালি কান্দে ফুফাইয়া ফুফাইয়া 
লিচু গাছে কাঁঠাল দেইখা 
অফিসারের নথিতে কেঁথা মারছে 
ফুফানোর পেটে লাত্থি 
আগুন হোক দাবানল 
পুড়ুক শাড়ি পুরোনো চিন্তার
জামানা হোক শতাব্দী 
গড়ুক ইতিহাস অঘোষিত সত্তার
দিশান্তর... দিবান্তর... দিগন্তর... ।

আত্মার আত্মায় হুরাহুরি 
প্রধান কয়, আমার লাঙলের দাম চড়া 
না নিলে চাবুক, নিলেই ধরা
মরছে আরো মরুক
যারা বাঁচে তারা খাটুক 
গোঁফেরও ভাতা পায় সাত্তার মেম্বর
আমরা আন্ধা হইয়া খুঁজি 
অক্ষশান... ধানশান... সুখশান...।


ছাত্রী নিবাস

ছাত্রী নিবাস। মৌমাছির চাক। লাখ লাখ 
লাকী লীগের লিগেল সম্পাদক 
লগে সাগরেদরাও
বাথরুমে সিসি, স্ক্রীনে জিহ্বা চাটে
ম্যাডাম আবার দায়িত্বজ্ঞানে ঢের পাকা 
পাকা চেলা দারোয়ানও।

রাইত বারোর পর ঘন পিজারো 
ঘন আন্ধারে পক্ষীও নাকি দে'হে না 
আমি চোখ খুইলা দেহি
ক্যামনে অক্ষর চর্চার লগে শরীর চর্চা করায় লাগালাগির লাগোয়ায় মরে প্রজাপতি!

আমি কলম চালাই
লাভ নাই, লাভ নাই 
বেবাকই এক পেডের কার্টুন
বিহালে দরজায় ঠকঠক; রক্ত! রক্ত! রক্ত!
লাকী লীগের লিগেল সম্পাদক 
ছাত্রী নিবাস। মৌমাছির চাক। লাখ লাখ।


আরো পড়ুন.....

সুনির্মল বসু'র গল্প পড়ুন এখানে
গোলাম কিবরিয়া পিনুর কবিতা এখানে
ইলিয়াস মাহমুদের প্রবন্ধ এখানে
সাজ্জাদ সাইফের কবিতা এখানে
কালরাতের কালো গল্প পড়ুন এখানে 
ঢাকার আঞ্চলিক কবিতা পড়ুন এখানে
অন্ধকারের বোতাম খুলে পড়ুন এখানে
প্রকান্ড ও ক্ষুদ্র অহংকারের বিরুদ্ধে পড়ুন এখানে
সাহিত্য আড্ডা নিয়ে রিভিউ পড়ুন এখানো
এসডি সুব্রত'র বই ও কবিতা পড়ুন এখানে
অনিন্দ জসীম এর বই ও কবিতা পড়ুন এখানে
মিলন মাহমুদ এর কবিতাগুচ্ছ পড়ুন এখানে
সাদমান সজীব এর মৃত্যুমৈথুন পড়ুন এখানে

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন