গোলাম কিবরিয়া পিনু'র গুচ্ছ কবিতা।। cluster poems by golam kibria pinu কুয়াশা





গোলাম কিবরিয়া পিনু'র গুচ্ছ কবিতা

ধাক্কা

আমিও জানি
             ও-পথে হাঁটলে,
বড় ধরনের ধাক্কা খাবো,
  কোকিলের গান শুনতে পারবো না!
তবুও হাঁটছি!
        পথ-পাগল আমি,
পর্দায় কুণ্ঠিত হয়ে পর্বত আহরণ করি না!
পদব্রজে বজ্রপাতের মধ্যেও হাঁটি,
আগেও কতরকম ধাক্কা সহেছি,
                 তা সামলেও নিয়েছি!
আমি ধাক্কা সইতে সইতে 
              বইতে পেরেছি ভার!
ঘাড় ভাঙেনি তখনও
এখনও ভাঙবে না!
মচকাবে না--হাঁটতে গিয়ে আমার পা!
তাণ্ডবলীলার মধ্যে পড়ে যেতে পারি,
দণ্ড ও দংশনে থামানো যাবে না! 

কম্পাস

কম্পাসের কাঁটা
স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারছে না!
সে কীভাবে দিগনির্দেশ করবে? 
কোনটা উত্তর কোনটা দক্ষিণ
      কোনটা পূব  কোনটা পশ্চিম
          কোনটা অগ্নিকোণ কোনটা বায়ুকোণ?
ও কম্পাস নিয়ে--
দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ছি,
    সঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে পারছিনে!
এমনিতে দিনমান দিনমণির দেখা পাচ্ছি না,
দিন ভিক্ষা করে তনু রক্ষা করতে পারছিনে,
দারিদ্রের সাথে ধস্তাধস্তি করতে করতে
    ধলেশ্বরীর জলে ডুবে যাচ্ছি!
কীসের নিকটে আছি--কীসের দূরত্বে আছি,
               বুঝতে পারছিনে!
কোন কম্পাস হাতে তুলে নিচ্ছি বারবার? 
          কোন অভিমুখে যাচ্ছি?
নাশাশঙ্কা নিয়ে-- 
কোন নটরাজের নজরে নজরবন্দি থাকছি?
দিগ্দর্শনযন্ত্রও দিগ্ভ্রান্তিতে ফেলছে!
ডমরুধ্বনিতে--
          ও কম্পাস বাতিল করছি না কেন?

বাইপাস

বাইপাস করে চলে যাওয়ার পর
আমিও নিঃসঙ্গ!
            বিচ্ছিন্নতা নিয়ে
বুকে চিনচিন ব্যথা নিয়ে
কুনোব্যাঙ হয়ে কুয়ার ভেতর লুকালাম!
বন্ধুছুট হলে--
        অন্তর্বেদনায় অন্তর্দাহ বাড়ে,
পরিবেদনায় দাঁতে দাঁত লাগা কষ্টে
           অশ্রুবিন্দু সিন্ধু হয়ে যায়!
কতক্ষণ আর তুষারপাতের মধ্যে
সংসারবিরক্ত নাঙ্গা সন্নাসী হয়ে থাকা যায়?
কত আর খিলধরা কষ্ট নিয়ে
    খিলবন্ধ করা ঘরে থাকা যায়?
ক্লান্ত হয়ে অবসন্ন হয়ে
একই কক্ষপথে আর কত ঘোরা যায়?
সঙ্গীহীনতায়--
     প্রাতঃভ্রমণেও মুক্তবায়ুসেবনও,
করতে পারছিনে--দম আটকে যায়!
ঘষামাজা করেও ঝকমকে থাকতে পারছিনে
সুতীব্র কষ্টের এতটা ঘনত্ব নিয়ে--
হদয়গ্রন্থিতে হৃদয়ের লোক না থাকলে,
হৃদয়ও নীলডাউনে থাকতে থাকতে
           বেদনায় নীল হয়ে যায়!
বাইপাস সার্জারি কখন জরুরি হয়ে পড়ে?

পুঁচকে ইঁদুর

পুঁচকে ইঁদুরদের উৎপাত এতটা বেড়েছে
পাহাড়ের পাদদেশে,
পাহাড়ও অবাক!
       ইঁদুরগুলো আজ কোন বেশে?
নুড়ি পাথর সরাতে পারছে না,
                     সরাবে পাহাড়!
পাহাড়কে ঠোকরায়--
ঠোকরানোর শব্দে শুধু বিরক্তি উৎপাদন করছে,
        আর কোনো উৎপাদনের শক্তি নেই!
গিরিচূড়ায় উঠার সাহস নেই--
গিরিশৃঙ্গে উঠে অয়নবায়ুতে থাকার মুরোদ নেই!
নিজের শক্তি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই
তারপরও ভাবে--
পাহাড়কে ঠোকরাতে ঠোকরাতে ফেলে দেবে!
ইঁদুরগুলো সারা জীবন ব্যয় করলেও--
পাহাড়ের বিশালত্ব অনুধাবন করতে পারবে না! 
তারা আজ চারণভূমিতে না থেকে
শিলা ও উপলখণ্ডেরর ভেতর ঢুকে পড়েছে,
        কখন যে গÐকূপে পড়ে যাবে!

পার্থক্য

সেই লোকগুলো
আর এই লোকগুলোর মধ্যে
   কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না!
ওদের নাচা কুঁদা একই রকম
     একই রকম পেটপোষা,
একই রকম নাগরা পরে
নাগকেশর তুলতে যায়,
কিন্তু নাগপাস ছিন্ন করতে পারে না!
বিপৎকালেও তারা
একই ধরনের জীবাণুর বাহন হয়ে ওঠে!
চালতা গাছের কাণ্ড হতে
কখন মৌচাকের চাক থেকে 
মধু পড়বে মুখে.
             মুখিয়ে আছে!
লোকগুলো সব মুখরা!
মূর্খ ভাবে আমাদের?
ওদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই!

মানুষ ঠোকরা মানুষ

বনে কাঠ ঠোকরা পাখি নেই!
তার বদলে-- 
       মানুষ ঠোকরা মানুষের উপস্থিতি,
পুরো বন জুড়ে।
বনে নিরীহ মানুষেরা থাকতে পারছে না!
পা রেখে বনে হাঁটতে পারছে না কাঠবিড়াল,
            কাঠমল্লিকাও ফুটছে না!
বন হয়ে উঠছে স্বাপদসংকুল,
বন্য ও জংলীরা কার জয়ধ্বনি করছে?
শিকার ও হরণ নিয়ে
      বনপালক ও বনরক্ষক
         হাঙর ও সাপের দাঁত নিয়ে
                 আরও দাঁতাল হয়ে উঠছে!
মানুষ ঠোকরা মানুষগুলোর ঠোঁট
কী ভয়াবহ রকমভাবে তীক্ষ্ম ও সূচালো হয়ে উঠছে, 
                   এবং আক্রমণাত্মক!
ত্বক কারো আর মসৃণ থাকছে না!
বনে কীভাবে মানুষ ঠোকরা মানুষের 
এতটা প্রাদুর্ভাব হলো?
          এক বাউরি বাতাসের পর!


আরো পড়ুন....

কালরাতের কালো গল্প পড়ুন এখানে 
ঢাকার আঞ্চলিক কবিতা পড়ুন এখানে
অন্ধকারের বোতাম খুলে পড়ুন এখানে
প্রকান্ড ও ক্ষুদ্র অহংকারের বিরুদ্ধে পড়ুন এখানে
সাহিত্য আড্ডা নিয়ে রিভিউ পড়ুন এখানো
এসডি সুব্রত'র বই ও কবিতা পড়ুন এখানে
অনিন্দ জসীম এর বই ও কবিতা পড়ুন এখানে
মিলন মাহমুদ এর কবিতাগুচ্ছ পড়ুন এখানে
সাদমান সজীব এর মৃত্যুমৈথুন পড়ুন এখানে
মা দিবসের কবিতাসমূহ পড়ুন এখানে
রুদ্র সাহাদাৎ এর কবিতা পড়ুন এখানে
হাবিব হেলাল এর গুচ্ছকবিতা পড়ুন এখানে
নিরাঞ্জন রায়ের কবিতা পড়ুন এখানে
শ্রমিক দিবসের কবিতা পড়ুন এখানে
মে দিবসের কবিতাগুচ্ছ পড়ুন এখানে
আবদুর রাজ্জাকের কবিতা পড়ুন এখানে
অনিক খুরশীদের পড়ুন এখানে
চরু হক এর কবিতা পড়ুন এখানে 
প্রেমাাংশু শ্রাবণের কবিতা পড়ুন এখানে
সোমা দে'র নিবন্ধ পড়ুন এখানে

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন