লোহার ভোরে মানুষের গান
ডাঃ এম.জি.মোস্তফা
ভোর নামে—
কিন্তু এ ভোর কোনো শান্ত পাখির ডাক নয়,
এ ভোর লোহার ভেতর জন্ম নেওয়া এক আগুন,
যেখানে সূর্য ওঠে ঘামের অন্ধকার ভেদ করে।
কারখানার দেয়ালে
রাত এখনো জমে আছে জং ধরা শ্বাসের মতো,
মেশিনের শব্দে চাপা পড়ে গেছে
মানুষের ভাঙা স্বপ্নের আর্তনাদ।
তুমি দাঁড়িয়ে আছো—
হাতে পৃথিবীর ওজন নয় শুধু,
তুমি বহন করো সভ্যতার অদৃশ্য ঋণ,
যার হিসাব কখনো তোমার নামে লেখা হয় না।
তোমার ঘামে শহর জন্ম নেয়,
তোমার নিঃশ্বাসে দালান দাঁড়িয়ে থাকে আকাশ ছুঁয়ে,
তবু ইতিহাস তোমাকে ডাকে এক নিষ্প্রাণ নামে—
“শ্রমিক।”
কিন্তু এই নাম আজ আর পরিচয় নয়—
এটা জমে থাকা আগুনের নাম,
এটা ভেতরে ভেতরে ফেটে যাওয়ার প্রস্তুতি,
এটা নীরব বিস্ফোরণের প্রথম স্পন্দন।
তুমি কি জানো?
যে ইট তুমি তোলো,
তার ভেতর লুকিয়ে থাকে তোমারই কাটা সময়,
যে দেয়াল তুমি গড়ো,
তার ছায়ায় বন্দি থাকে তোমারই স্বপ্ন।
মে দিবস আসে—
কিন্তু এ শুধু স্মৃতি নয়,
এ এক জমে থাকা দাবির ভূমিকম্প,
যা ইতিহাসের নীরবতা কাঁপিয়ে দেয়।
শহরের আলো জ্বলে ওঠে অন্যের ঘামে,
আর তোমার ঘরে নামে অন্ধকার—
একটা অদৃশ্য প্রশ্ন হয়ে,
যার উত্তর কেউ দেয় না।
তবু তুমি থেমে যাও না—
কারণ থেমে যাওয়া মানে
নিজের অস্তিত্বকে মুছে ফেলা।
তুমি এগিয়ে যাও—
লোহার শব্দ ভেঙে,
ঘামের নদী পেরিয়ে,
এক অচেনা ভোরের দিকে।
যেখানে একদিন ইট কথা বলবে,
যেখানে মেশিন থেমে গিয়ে শুনবে মানুষের গান,
যেখানে ইতিহাস আর শোষণ একই শব্দ থাকবে না।
সেদিন কোনো মালিক থাকবে না,
থাকবে শুধু মানুষ—
যার হাতে থাকবে না শিকল,
থাকবে শুধু সৃষ্টি করার স্বাধীনতা।
আর তখন মে দিবস
শুধু স্মৃতি নয়—হয়ে উঠবে
ভাঙা পৃথিবীর পুনর্জন্মের দিন।
আরো পড়ার সুযোগ...
ইমদাদুল হক মিলনের নুরজাহান উপন্যাস নিয়ে প্রবন্ধঃ পড়ুন
চানক্য বাড়ৈ এর কবিতা পড়ুন এই লিংক এ বিনয় মজুদারকে উৎসর্গিত পিয়াস মজিদের কবিতা পড়ুন এখানে কবি আমিনুল ইসলাম মুল্যায়ন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে মোহাম্মদ জসিমের ভিন্ন রঙের কবিতা পড়ুন
এখানেজিল্লুর রহমান শুভ্র'র ভিন্ন স্বাদের কবিতা পড়ুন
এখানেওপার বাংলার বিখ্যাত কবি রবীন বসুর কবিতা পড়ুন
ক্লিকওপারের কবি তৈমুর খানের কবিতা পড়ুন
এখানে
শ্রেণী ও শ্রমজীবী কাক
ফরিদ ভূঁইয়া
আল-পথ ছেড়ে আসা শ্রেণীর শরীর
লোভলাস্য মাদকতা ছড়ানো নগর—ধনীক অহম
দাদনের ঘেরাটোপে তেজস্বী শ্রমিক, বিপ্লবী হৃদয়
ইটা ভাটায় যখন এঁটেল অঙ্গার শোষিত জনের শ্রম—
পুড়ে পুড়ে ধুঁয়া-ধুলা ঘন কালো
বঞ্চিত শ্রমিক ফরিয়াদ কুণ্ডলী পাকিয়ে
এক আ'লার দিকেই ছুটে
তবে কি তিনিই ফের ধুঁয়াকায়া দিয়ে এদের পাঠান?
শহরে নগরে কাক শ্রমজীবী—
পঁচাগন্ধযুক্ত শ্রেণীর শরীর চেটেপুটে সাধ্যমতো
কর্কশ গলায় আহা! সংহতির আহত কোরাস
ব্যথিত অন্তর ব্যঞ্জনায় বার বার
কোরাসের পিছু নেয় কবি আর কাক।
শ্রমিক দিবসে হোসেইন দিলওয়ার
জলের জীবন নিয়ে সহিষ্ণু শূদ্রের মন
নির্মাণ করে চলে ঘুমের পাটাতন।
কত নদী গিলে খেয়ে সাগর ঘুমিয়ে থাকে
জানে না তা আবহমান নদী।
তবু সে কীর্তন করে মরণ সংগমে ছুটে
এবং
ভাঁড়ার বিতানে কেউ শুয়ে-বসে আজও লুটে।
মে দিবস ও স্বপ্নভঙ্গের প্রভাত
হারুন অর রশিদ
ম-তে মরতে মরতে বেঁচে থাকা
হা-তে হাসতে হাসতে দুঃখ ভুলা
ন-তে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখা।
মে-তে মেহনতী মানুষের ঢল নামে পথেঘাটে।
দি-তে দিনের শুরু, শেষ নেই
ব-তে বছর যায়, বছর আসে
স-তে স্বপ্নে জাগে রক্তাক্ত শিকাগো।
এই দোদুল্যমান স্বপ্নভঙ্গের প্রভাতে
প্রতিবছর "মহান" হওয়ার সুর ওঠে সভা সেমিনারে
সুর ওঠে অভিজাত আঙিণা থেকে
মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তের হাতুড়ি-শাবল, কাস্তে-করাতে।
পথের বাঁকে আমরা কেউ লেলিন হতে আসি
কেউ হতে আসি মাওসেতুং।
আমরা কেউ হেনরি হতে আসি, কেউ চে গুয়েভারা।
অথচ; আমরা কেউ হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহীদের-
রক্ত স্ফুলিঙ্গ হতে পারি না!
শ্রমিক মানেই নিম্নবর্গ মানুষের মাথায়
অপ্রকৃতস্থ হাতের ঝনঝনানি আর
সুনিপুণ চাতুরতার গল্প।
তবু্ও গর্জে ওঠে শ্লোগান, বেজে ওঠে সাইরেন
দুনিয়ার মজদুর এক হও, এক হও...।
আদতে আমরা এক হতে পারি না
আমাদেরকে এক হতে দেওয়া হয় না!
রাজেন্দ্র জানে__ জানে শোষক
ঘাট শ্রমিক থেকে শব্দ শ্রমিক, শব্দ শ্রমিক থেকে পরিচ্ছন্ন শ্রমিক, পরিচ্ছন্ন শ্রমিক থেকে অফিস শ্রমিক এক হলেই__ বেজে উঠবে দামামা...
শিশির আজম
ঘাম
যখন তোমরা আমাকে মারছিলে
ভীড়ের ভেতর কে যেন চিৎকার করে উঠলো
কে
নিশ্চয় তোমাদের ভেতর কেউ
এ ধোঁয়া কোথা থেকে এলো
কে দায়ী
আমার লেজ আমি নিজেই কেটেছি
দুঃখিত তোমাদের দুপুরের ভাতঘুম নষ্ট করে দিলাম
যা হোক তোমাদের লেজের খবর তোমরা কি
মাছি তাড়াবার কাজটা বাদে
অন্য কিছু ওদের দিয়ে করাতে গেলে কিন্তু
ফ্যাসাদে পড়বে
পুরনো কথাটা আবার বলি
তার আগে ঝলমলে আলোর নিচ থেকে সরে এসে
এই স্পষ্ট অন্ধকারে একটু দাঁড়াও জন্তু
তোমার ঘামের গন্ধ চেনে
নয়ন আহমেদউপহার
ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটছিলো গণতন্ত্র, এক ভোরে;
এই আহত দৃশ্যের বাঁকে বাঁকে, পাওয়া গেলো-
হৃত হাত, অনিদ্রাপিয়াসী কাতরতা,বাসনানিচয়!
সেই থেকে, সে পথচারী; খুঁজে ফেরে আবাসন-
যাপিত নীড়ের সূচিক্রম।
মূলত, যাত্রা তার দূরবর্তী জংশন পেরিয়ে
তারাভরা গৃহ ও ডেরায়।
জানি, যাত্রাপথ সুগম নয়।কোনও কালে কখনও ছিলো না।
তাই কিছু প্রণোদনা মজুদ করেছি,দেবো।
প্রীতিউপহার।
সর্বাগ্রে দেবো তাকে অদম্য দৌড়,দেবো শ্রমজীবীর আকুলতা;
ঘাম; - স্বনির্ভর হবে।
শিখবে-- শাশ্বত মর্যাদা।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks