হাসান মাহমুদ এর গুচ্ছকবিতা।। cluster poems by hasan mahmud. kuasha



হাসান মাহমুদ এর গুচ্ছকবিতা

অজ্ঞাত

লাশ কাটা ঘরে
পড়ে আছে একটি মৃতদেহ—
একটি যুবকের লাশ,
পরিচয় অজ্ঞাত।

 

রাস্তা থেকে
তুলে এনেছে পুলিশ,
সুরতহাল শেষ—
এবার ময়নাতদন্ত।

 

কয়েক ঘণ্টা পূর্বে
মিছিলে যে ছিল সবার আগে,
এখন নিথর দেহ
শুধুই বেওয়ারিশ লাশ।

 

বীভৎস শবদেহটি
স্ট্রেচারে একা পড়ে আছে,
চারপাশে নিস্তব্ধতা—
যেন হাজার বছরের নীরবতা।

 

কেউ জানে না
কোথা থেকে এসেছিল সে,
রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত মুখ—
হত্যা করল কে?

 

হয়তো কোনো মা
দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষায়,
হয়তো কোনো বাবা
এখনো পথ পানে চায়।

 

হয়তো কারও চোখ ঘুমহীন—
যে ছিল তার প্রেমিকা,
এখনো রাত জাগে
জানালায় যদি যায় দেখ।

 

ময়নাতদন্ত শেষে
একটি নম্বর তার পরিচয়,
একটি সাদা কাগজে
শেষ হবে তার জীবনের হিসাব।

 

তারপর—
কোনো অচেনা মাটির নিচে
চাপা পড়ে যাবে
তার নাম, স্বপ্ন আর গল্প।


 

চোখের গভীরতা কত?


দুই চোখে নোনা জলের দুটি সমুদ্র
অতল জল—ঢেউহীন গহনে,
উছলে পড়ে ফোঁটায় ফোঁটায়
হাজার বছরের কান্না জমা এখানে।

ভাষাহীন চোখ, তবু কত কথা বলে
কত না-বলা কথা লুকায় আখিঁতে
কত জল, কত ছল—
কত কী জমে থাকে চোখের মনিতে।

প্রেয়সীর চোখের গভীরতা মেপে দেখ
নয়নের কাজলে নামে রাতের অন্ধকার,
চোখের পাতায় এক মায়াবী নেশা
দৃষ্টির গভীরে সৃষ্টির রহস্য অপার।

কত স্মৃতি—কত কালের সাক্ষী হয়ে
কত সুখ-দুঃখ নীরবে করে ভিড়
কত স্বপ্নরা হারিয়ে যায়
 এই ছোট্ট কোটর কতটা গভীর।


অকূল দরিয়া

 

গভীরতা না জেনেই ঝাঁপ দেই,

কোথায় তার কূল—কোথায় কিনারা,

অকূল পাথার, অন্তহীন সে নদী,

ডুবাই মারে—নিঠুর দরিয়া!

 

ভাটির আশায় স্রোতের টানে

ঘোলা জলে তার ঘূর্ণিপাক নিরবধি—

ঝাঁপ দিয়ে পড়ি মোহনার উজানে,

এখানেই আমার সলিল সমাধি।


বৃন্দাবনের বিরহ

 

সুদাম, বল কানারে

গোপীকূলে যায় কেন কানাই

ভুলে রাধারে?

সুদাম, বল কানারে।।

 

আমি রাধা কূল বধূ

মরি বিরহে পুড়ে,

বৃন্দাবনের নিঠুর কালার

মায়ার বাঁশির  সুরে।

 

সুদাম, বল কানারে,

আমার মতো কালাচাঁনে

যেন বিরহে না পোড়ে,

বিরহ না পোড়ে যেন ওই গোপীগণে।

 

কালার ওই বাঁশির সুরে

বাঁধে আমায় কলঙ্ক-ডোরে,

কূলবধূ পোড়ে তাহার প্রেম- বিরহে

সুদাম, বল কানারে।।



শিফন শাড়ির সুন্দরী

 

শিফেনের শাড়িতে ওগো সুন্দরী
কপালে কালো টিপ,
কাচের চুড়ির রিনিঝিনি সুরে
জ্বালিয়েছ প্রেমের প্রদীপ।

 

ওগো সুন্দরী রমণী
পুরাণের কোন অপ্সরী তুমি?
দেবী নাকি মানবী—
মাতাল করেছ রূপের ভূমি।

 

রূপকথার রাজকন্যা তুমি
যেন মানবী নও, স্বর্গের পরী,
ভালোবেসে তোমাকেই আমি
বিরহ-দহনে পুড়ি।



আরো পড়ুন....


নজরুলের রহস্যময়তা নিয়ে প্রবন্ধ পড়ুন এখানে
চৌধুরী মো.তারিকের কবিতা পড়ুন এখানে
শিশির আজমের দীর্ঘ কবিতা পড়ুন এখানে
মিলন ইমদাদুলের কবিতা পড়ুন এখানে
তাপস চক্রবর্তীর কবিতা পড়ুন এখানে 
ঋজু রেজওয়ান এর দশটি কবিতা পড়ুন এখানে
নাহিদ হাসান রবিন এর গল্প পড়ুন এখানে ক্লিক করে
ইমদাদুল হক মিলনের নুরজাহান উপন্যাস নিয়ে প্রবন্ধঃ পড়ুন
চানক্য বাড়ৈ এর কবিতা পড়ুন এই লিংক এ

বিনয় মজুদারকে উৎসর্গিত পিয়াস মজিদের কবিতা পড়ুন এখানে
কবি আমিনুল ইসলাম মুল্যায়ন প্রবন্ধ পড়ুন এখানে 
ড. আলী রেজার প্রবন্ধ পড়ুন এখানে ক্লিক করে
মোহাম্মদ জসিমের ভিন্ন রঙের কবিতা পড়ুন এখানে
জিল্লুর রহমান শুভ্র'র ভিন্ন স্বাদের কবিতা পড়ুন এখানে
ওপার বাংলার বিখ্যাত কবি রবীন বসুর কবিতা পড়ুন ক্লিক
ওপারের কবি তৈমুর খানের কবিতা পড়ুন এখানে



1 মন্তব্যসমূহ

Thanks

  1. কবি হাসান মাহমুদের সব কবিতা পড়লাম। সরলতার আড়ালে রয়েছে নিগূঢ় অর্থবহ তাৎপর্য।ভালো লাগল কবিতাগুলি।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks

নবীনতর পূর্বতন