পিতামহের স্বেচ্ছামৃত্যু - সুনীতি দেবনাথ


পিতামহের স্বেচ্ছামৃত্যু

মৃত্যু তোমাকে ছোঁয়নি কোনদিন
জন্মের মাহেন্দ্রক্ষণ একবার এসেছিলো
তুমি ঘর পালালে
অনুচ্চ অরণ্য পার হয়ে
খোলা ময়দানে তেজিয়ান কৃষ্ণ অশ্বের মত
দিনমান ছুটলে কেবল ছুটলে
অচেতনে ছোটার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হাজারো সাল
প্রজন্মের নিম্নতম সিঁড়ি থেকে বিস্ময়ে
তোমাকে দেখে হতবাক আমি
পাহাড়ের উত্তুঙ্গ শিখর টপকে পেরোলে
কোনো এক বর্ষা মেদুর দিনে
আকাশে ঘনঘটা বজ্র নির্ঘোষ
শিখরে শিখরে বজ্র শিখার নাচন
সে এসেছিল
কেশসজ্জায় ময়ূর পালক গুঞ্জামালা গলে
শবরী বিদ্যুৎবালা হৃদয়ে মোচড় দেয়
এই দেখি এই নেই আহা
ওগো বালিকা দেখা দাও
প্রতিটি শিখরে আলোচোখ মেলে পেলেনা আর
প্রজন্মের সিঁড়ি ভেঙ্গে নেমে এলে হাজার বছরে
মৃত্যু নেই জন্ম নেই অনুভব অনুভূতি নেই
আছে শুধু শূন্যতা ক্লান্তি অপার অসীম
জলকুণ্ড সামনে রেখে তুমি বসে গেলে
শ্যাওলা শ্যামল প্রস্তরখন্ডে
জলআয়না
তোমার দুটি চক্ষু অলৌকিক তৃতীয় নয়নে
আয়নায় দেখলো তাকে জলকেলি মত্ত
আহা ময়ূরপুচ্ছ আহা গুঞ্জামালা
ভেসে ভেসে যায় স্মিত হাসি বালিকার মুখে
ছলছলাৎ জল ছিটকালো তোমার অঙ্গে
পাথর হয়ে গেলে সহস্রের এপারে
স্বেচ্ছামৃত্যুধারী পিতামহ আমার জাদুমন্ত্রে
ফিসফিস উচ্চারণ করলে শুধু সেই চর্যাবাণী
উঁচা উঁচা পাবত তঁহি বসই শবরী বালী।
মোরঙ্গী পিচ্ছ পহরিন শবরী গিবত গুঞ্জরী মালী।।
পিতামহ এখন তুমি  ভাঙ্গাচুরা পাথরের স্ট্যাচু

কাজরী,
২১ মে, ২০১৭

Post a Comment

Thanks

নবীনতর পূর্বতন